গাঁজা-ইয়াবাসহ পুলিশের অভিযান
নন্দীগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে চার কারবারিসহ গ্রেপ্তার ৭
নন্দীগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার চার মাদককারবারি ও উদ্ধার হওয়া ইয়াবা-গাঁজা। ছবি : আজকের কথা
বগুড়ার নন্দীগ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও ওয়ারেন্ট তামিল অভিযানে চার মাদককারবারিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে উপজেলার কুমিড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ভাটরা ইউনিয়নের মাঝগ্রাম এলাকার সাগর হোসেনকে (২৫) ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে বুড়ইল ইউনিয়নের ভদ্রদিঘী বাজার এলাকা থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। এ সময় কহুলী গ্রামের আব্দুস সালাম (৪০), গোলাম মোস্তফা (৬২) এবং ভদ্রদিঘী গ্রামের শফিকুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরতে অভিযান চালিয়ে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন— গোপালপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা, চককয়া গ্রামের আফছার আলী আকন্দ এবং জামালপুর গ্রামের আল-আমিন।
নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজু কামাল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মাদকসহ আটক চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ারেন্টভুক্ত তিন আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে সকলকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, মাদক নির্মূল ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফুটপাত উচ্ছেদে বাজার উত্তাল
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ঘিরে ঝালকাঠি বড় বাজারে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ
ঝালকাঠি পৌর শহরের কালীবাড়ি সড়ক সংলগ্ন বড় বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফুটপাত ও সড়কের ওপর রাখা পণ্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম ও মো. ইশতেহাকের নেতৃত্বে বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় বাজারের উভয় পাশের ফুটপাত ও সড়কের ওপর রাখা মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের একপর্যায়ে একজন ব্যবসায়ী হাতে ছোট মাইক নিয়ে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এরপর মুহূর্তেই বাজারের বিভিন্ন অংশ থেকে ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে প্রধান প্রবেশপথে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বাজারজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তাদের হস্তক্ষেপে ধীরে ধীরে উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।
বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজ নিজ দোকানের সামনে সীমিত পরিসরে মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এবং নিয়মিত পৌরসভাকে খাজনা পরিশোধ করছেন। হঠাৎ করে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, “আমরা নিয়ম মেনে ব্যবসা করি। দোকানের সামনের জায়গা ব্যবহার করে পণ্য প্রদর্শন না করলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। জেলা প্রশাসন যদি এসব স্থান খালি করতে বলে, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা কোথায় হবে সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।”
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং বাজার এলাকার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘুমঘুম সীমান্তে মর্মান্তিক মৃত্যু
সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা নিহত, সতর্ক থাকার আহ্বান বিজিবির
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমঘুম সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা নাগরিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ রেজুআমতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পিলার-৩৯ সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শাহ আলমের কলাবাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ মাইন বিস্ফোরণের শিকার হন এফডিএমএন সদস্য আব্দুল খালেক (৩৫)। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুল খালেক কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার এফডিএমএন ক্যাম্প-১-এর ব্লক-সি এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আনুর ছেলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনও মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি বিদ্যমান রয়েছে। তাই জনসাধারণকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিজিবি নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সীমান্ত সংলগ্ন জনগণের মাঝে সতর্কতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।”
বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত না করার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা এলাকা দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী জনগণের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে বিজিবি।
ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি করার দাবি
মুরাদনগরে ‘গায়েবি মিছিল’ দেখিয়ে ৭৪ জনকে আসামি করে পুলিশের মামলা, ফুঁসে উঠছে জনতা
মুরাদনগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের দাবি, এজাহারে বর্ণিত তারিখ, সময় ও স্থানে কোনো মিছিল, সমাবেশ বা সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষ্য, মামলার আসামিদের অনেকেই মামলা দায়েরের পর জানতে পেরেছেন যে ওই দিন মুরাদনগরে কথিত একটি মিছিল হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। ফলে মামলাটিকে তারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে দাবি করছেন।
কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় নাম থাকা নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এটি একটি সম্পূর্ণ ‘গায়েবি’, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন মুরাদনগর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মহিন উদ্দিন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৫ জুন ভোর আনুমানিক ৬টা ৫৫ মিনিটে মুরাদনগর উপজেলার ১৪ নম্বর নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাখরা নগর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের সিএন্ডবি ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেয়, সড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে।
ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি করার অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্ত ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি
তবে মামলায় অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের দাবি, উল্লিখিত তারিখ, সময় ও স্থানে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের ভাষ্য, মহাসড়কের মতো ব্যস্ত এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলে তা সাধারণ মানুষের নজর এড়ানোর সুযোগ নেই। অথচ ওই দিন ওই এলাকায় কোনো ধরনের মিছিল, সমাবেশ বা সড়ক অবরোধের ঘটনা কেউ প্রত্যক্ষ করেননি।
মামলার অন্যতম আসামি এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ তানভীর আহমেদ ফয়সাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মামলার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি কুমিল্লায় ছিলেন না।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, “৪ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে মহানগর গোধূলি ট্রেনে কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। ভৈরব স্টেশনে দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে গভীর রাতে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে পৌঁছাই। রাত ৪টার দিকে বাসায় প্রবেশ করি। পরদিন কন্যা সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম। এরপর ৬ জুন বিকেলে ঢাকায় থেকে কুমিল্লায় ফিরে আসি। অথচ ৫ জুন সকালে মুরাদনগরে অবস্থান করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ এনে আমাকে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এটি রাজনৈতিক দৈন্যতার জ্বলন্ত উদাহরণ।”
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন মুরাদনগরে কোনো মিছিল হয়নি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহল থেকেও মন্তব্য করা হয়েছিল। এরপরও তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছ
এজাহার অনুযায়ী মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—
১. সৈয়দ তানভীর আহমেদ ফয়সাল (৪৬), পিতা- মৃত সৈয়দ সেলিম, সাং- আন্দিকুট, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
২. শরিফুল ইসলাম শরিফ (৩৭), পিতা- নান্নু মিয়া, সাং- পূর্ব জাঙ্গাল, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৩. আবুল কাশেম (৩৫), পিতা- মোহাম্মদ নূরু মিয়া, সাং- ফুলঘর, ০৭নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৪. ভুট্টু মিয়া (৪৮), পিতা- মৃত রেহমত মিয়া, সাং- আন্দিকুট, ০৩নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৫. হানিফ বাদশা (৫৫), পিতা- মৃত আকরম আলী মাস্টার, সাং- আন্দিকুট, ০৩নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৬. কাউছার মোল্লা (৪১), পিতা- কাশেম মোল্লা, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৭. মোতাহার হোসেন মোল্লা (৪২), ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা- কুমিল্লা।
৮. সোহেল মুন্সী (৪০), পিতা- মালেক মুন্সী, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৯. ওসমান বাছর (৪২), পিতা- বাবরু মিয়া, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১০. হাবিব উল্লাহ মুন্সি (২০), পিতা- লিটন মাস্টার, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১১. জাফিল হোসেন (৪৩), পিতা- মৃত আমীর আলী, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১২. জসিম উদ্দিন (৪০), পিতা- মৃত করিম মিয়া, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৩. মশিউর রহমান (৩৫), পিতা- মৃত আলিম মাস্টার, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৪. সেলিম মিয়া (৪০), পিতা- রবি উল্লাহ, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৫. পাপন মিয়া (৩৮), পিতা- সিরাজ মিয়া, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৬. ফজলু মিয়া (৪৫), পিতা- মৃত কিতাব আলী, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৭. জাহিদুল ইসলাম জানু (৪৮), পিতা- মৃত রহিদ মিয়া, সাং- পূর্ব জাঁদাল, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৮. আমান উল্লাহ পারভেজ (৩০), পিতা- আবুল হাসেম, সাং- দারোরা (উত্তর পাড়া), ০১নং ওয়ার্ড, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
১৯. আজিজুল হক (৩৬), পিতা- মৃত আব্দুল বারেক, সাং- রহিমপুর, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
২০. সাইফুল ইসলাম রাজিব (৫৫), পিতা- আকমত আলী, সাং- পরমতলা (রহমান মেম্বার বাড়ি), থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
২১. রুবেল (২৮), পিতা- মৃত মোসলেম, সাং- পরমতলা (ছলমুদ্দিন বাড়ি), থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
২২. ফয়সাল (৩৫), পিতা- নুরুল ইসলাম ধনু, সাং- পরমতলা বকশী বাড়ি, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
২৩. অলিউল্লাহ মোল্লা (৫০), পিতা- আব্দুস সালাম, সাং- পাক দেওড়া, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
২৪. জুয়েল (২৮), পিতা- শামসু মিয়া, সাং- রহিমপুর, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে নাম থাকা অধিকাংশ ব্যক্তি বাঙ্গরা বাজার ও মুরাদনগর এলাকার বিভিন্ন গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, মামলার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেকে বাড়িঘরে স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করতে পারছেন না বলেও দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা নতুন কিছু নয়। তবে কোনো ঘটনার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।
এদিকে মামলাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি মামলার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে মামলার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও তদন্তের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলাটি ঘিরে মুরাদনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিকে এ মামলাটিকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ কমিটির মুরাদনগর উপজেলা শাখার সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যেখানে কথিত ঘটনার দিন ও সময়ে কোনো মিছিল, মিটিং কিংবা সমাবেশের কোনো অস্তিত্বই ছিল না, সেখানে কাদের খুশি করতে গিয়ে পুলিশ নিজ উদ্যোগে এমন একটি গায়েবি মামলা দায়ের করলো, সেটি জনমনে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলেরই লাভ হবে না; বরং এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে। নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে দায়ের করা এ ধরনের মামলা সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।”
বিবৃতিতে তিনি মামলাটির তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

















