রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শত আঘাতের পরও অপরাজিত: আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত বাংলাদেশের নির্ভীক কলমযোদ্ধা

আজকের কথা ডেস্ক, বিশেষ প্রতিবেদন : প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
'রক্তাক্ত কলম, আন্তর্জাতিক সম্মান: পঙ্গুত্বকেও হার মানানো এক অদম্য সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

'রক্তাক্ত কলম, আন্তর্জাতিক সম্মান: পঙ্গুত্বকেও হার মানানো এক অদম্য সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ‘সীমানা পেরিয়ে স্বীকৃতি: আন্তর্জাতিক ‘বিজিসি স্টার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ জিতলেন লড়াকু সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী’ মাঠপর্যায়ের বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী অপরাজিত সাংবাদিকতা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গৌরবময় স্বীকৃতি—গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে এক পরিচিত নাম মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।
  • কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থেকে উঠে আসা এই সাহসী সাংবাদিক প্রতিনিয়ত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম ধরে যেমন কুড়িয়েছেন প্রশংসা, তেমনই হয়েছেন বারবার নৃশংস হামলার শিকার।
  • দীর্ঘ ২৭ বছরেরও বেশি সময়ের কর্মময় জীবনের আদ্যোপান্ত নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন: দীর্ঘ ২৭ বছরের সাংবাদিকতা ও ক্যারিয়ার মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী ১৯৯৯ সাল থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

‘সীমানা পেরিয়ে স্বীকৃতি: আন্তর্জাতিক ‘বিজিসি স্টার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ জিতলেন লড়াকু সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী’

মাঠপর্যায়ের বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী অপরাজিত সাংবাদিকতা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গৌরবময় স্বীকৃতি—গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে এক পরিচিত নাম মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থেকে উঠে আসা এই সাহসী সাংবাদিক প্রতিনিয়ত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম ধরে যেমন কুড়িয়েছেন প্রশংসা, তেমনই হয়েছেন বারবার নৃশংস হামলার শিকার।
দীর্ঘ ২৭ বছরেরও বেশি সময়ের কর্মময় জীবনের আদ্যোপান্ত নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন:

দীর্ঘ ২৭ বছরের সাংবাদিকতা ও ক্যারিয়ার

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী ১৯৯৯ সাল থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

বর্তমান ব্যস্ততা: বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘লন্ডন বাংলা’ পত্রিকার কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্টে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মিডিয়া এন্টারপ্রেনার ও সম্পাদক: সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সফল মিডিয়া উদ্যোক্তা। তিনি দেশের পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক আজকের কথা এবং ইংরেজি নিউজ পোর্টাল Joy Banglar Joy (joybanglarjoy.com)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

অথময় অভিজ্ঞতা: এর আগে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় গণমাধ্যম—গ্লোবাল টেলিভিশন, সমকাল, ভোরের কাগজ, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ, মানবকণ্ঠ এবং সংবাদ সংস্থা এফএনএস (FNS)-এ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি মুরাদনগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি: ‘BGC Star Award 2026’

সাংবাদিকতায় অনবদ্য ও বস্তুনিষ্ঠ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত হয়েছেন শরিফুল আলম চৌধুরী। ভারতের হায়দরাবাদে জমকালো এক অনুষ্ঠানে তাকে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ‘BGC Star Award 2026’ পদকে ভূষিত করা হয়। পোল্যান্ড ও ফ্রান্সের অনারারি কনসালসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসা ও সমাজবিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সত্য প্রকাশের মূল্য: বারবার নৃশংস হামলার শিকার

তৃণমূলের সাহসী এই সাংবাদিককে সত্য প্রকাশের জন্য চরম মূল্য দিতে হয়েছে। স্থানীয় দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় তিনি একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলার মুখোমুখি হয়েছেন:
  • ২০২০ সালের হামলা: মুরাদনগরের স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সমকালে প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে ২০২০ সালের ৪ জুলাই তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে প্রায় মৃতাবস্থায় ফেলে রাখা হয়। সে সময় তার ওপর হওয়া এই বর্বরোচিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (IFJ) তীব্র নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে আওয়াজ তোলে।
  • ২০২৫ সালের আদালত প্রাঙ্গণে হামলা: এই লড়াকু সাংবাদিকের ওপর আবারো নৃশংসতা নেমে আসে ২০২৫ সালের ১২ মে। কুমিল্লা জেলা আদালত প্রাঙ্গণে একটি আইনি প্রতিবেদন কাভার করার সময় একদল অজ্ঞাত হামলাকারী তার ওপর আবারো চড়াও হয়। এই হামলায় তার ডান পা ও বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়।

অদম্য এক কলমযোদ্ধা

একাধিক অস্ত্রোপচার, শারীরিক পঙ্গুত্ব এবং নানামুখী হুমকির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। আজ পর্যন্ত তিনি তার মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ, স্বাধীন এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে তিনি এক অবিচল ও অদম্য কলমযোদ্ধার প্রতীক।
সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

তুহিনের বাড়িতে মিলল আইফোন

খুন করে শোকের ভান, অপ্রতিমের মাকেও সান্ত্বনা দেয় খুনিরা: পুলিশ

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
খুন করে শোকের ভান, অপ্রতিমের মাকেও সান্ত্বনা দেয় খুনিরা: পুলিশ

আইফোন ছিনিয়ে নিতে পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে হত্যা, প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ চারজন গ্রেপ্তার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরও হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের পরদিন অপ্রতিমের বাড়িতে গিয়ে তার শোকাহত মাকে সান্ত্বনাও দিয়েছিল হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা।

রোববার দুপুরে কুমিল্লায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এসব তথ্য জানান। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লা নগরীর সানন্দা এলাকার সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া এলাকার মো. কামরুল হাসান এবং আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সিয়াম (১৯)।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর কুমিল্লা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে অপ্রতিমকে দেখা যায়। পরে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে তাকে এক ঘণ্টার জন্য বাইরে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেয় তুহিন।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের পাশ দিয়ে সানন্দা এলাকার দিকে যায়। পরে ফাহাদ ও কামরুলও ওই এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পাহাড়ঘেরা নির্জন এলাকায় অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তুহিনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। একপর্যায়ে অপ্রতিমের মৃত্যু হলে তার আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তারা।

দৈনিক আজকের কথা
প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, অপ্রতিমকে তার ব্যবহৃত আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইফোন নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। হত্যার পরদিনও আসামিরা অপ্রতিমের বাড়িতে গিয়ে তার শোকাহত মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভান করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমরা ঘটনাটির রহস্য উদঘাটন করেছি। তদন্ত শেষে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
— আনিসুজ্জামান
পুলিশ সুপার, কুমিল্লা।

কিন্তু হত্যার পরও থামেনি নির্মমতার এই অধ্যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরদিন শনিবার সকালে তুহিনসহ কয়েকজন অপ্রতিমের বাড়িতে গিয়ে তার শোকাহত মাকে সান্ত্বনা দেয়। তখনও পরিবার জানত না, যাদের একজন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই উঠছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। সন্ধান না পেয়ে রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

পরদিন শনিবার দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে সালমানপুর এলাকার পাহাড়ঘেরা জঙ্গলে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীরা অপ্রতিমের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা তুহিনকে শনাক্ত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাকে আটক করার পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসা থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে অপ্রতিমের বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। স্বজন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

রোববার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও তার স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে ক্লাস ও পরীক্ষা। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান আরো জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়াই হত্যার উদ্দেশ্য ছিল বলে জানা গেছে। মামলার তদন্ত শেষ করে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

অপ্রতিমের মরদেহ এখন মাটির নিচে। কিন্তু তার হত্যাকাণ্ড ঘিরে কুমিল্লাজুড়ে যে প্রশ্ন ও শোক তৈরি হয়েছে, তা আরও গভীর হয়েছে একটি কারণে—একটি শিশুকে হত্যার পর তারই শোকাহত মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো নির্মম পরিহাসও ঘটেছে এই ঘটনায়।

কুমিল্লায় ৯ মাসে ১০৪ হত্যা, শিশু অপ্রতিমের মৃত্যুতে লালমাই পাহাড় ঘিরে তীব্র আলোচনা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
কুমিল্লায় ৯ মাসে ১০৪ হত্যা, শিশু অপ্রতিমের মৃত্যুতে লালমাই পাহাড় ঘিরে তীব্র আলোচনা

কুমিল্লায় গত নয় মাসে ১০৪ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস মৃত্যু কুমিল্লাজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অপ্রতিমের মৃত্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা। একই সঙ্গে লালমাই পাহাড় ও আশপাশের নির্জন এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

রোববার সকালে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্বজন, পরিচিতজনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতিতে ঈদগাহ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশে সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।

অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়রা।

অপ্রতিমের মৃত্যুর পর আলোচনায় এসেছে লালমাই পাহাড়ের নিরাপত্তা। কুমিল্লা শহর, কোটবাড়ি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন হওয়ায় লালমাই পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে মানুষের চলাচল থাকলেও পাহাড়ের অনেক স্থান এখনো নির্জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব নির্জন এলাকা অপরাধীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করছে।

লালমাই পাহাড়ে অপরাধের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ সালে পাহাড়ের হাতিমারা এলাকা থেকে মেহেদি হাসান নামে এক কিশোর অটোরিকশাচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০০৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি লালমাই পাহাড়ের মোড় থেকে রিফাত হোসেন নামে আরেক শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ছাড়া গত ২৯ আগস্ট কুমিল্লার কোটবাড়ির শান্তির মোড় এলাকায় দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পাহাড়ের নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বসতিতেও ডাকাতি, ছিনতাই এবং মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় ও আশপাশের এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধের সঙ্গে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, বিচ্ছিন্নভাবে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পাহাড়কেন্দ্রিক অপরাধচক্রের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত নয় মাসে জেলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১০৪ জন। জেলার সামগ্রিক হত্যাকাণ্ডের এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে লালমাই পাহাড় ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনবসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছাকাছি থাকা লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর। পাহাড়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে নজরদারি, নিয়মিত পুলিশ টহল এবং প্রয়োজনীয় স্থানে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে মাঠে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হত্যাকাণ্ডের ক্লু শনাক্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

একটি শিশুর আকস্মিক ও করুণ মৃত্যু এখন শুধু তার পরিবারকেই শোকাহত করেনি, লালমাই পাহাড়ের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে কুমিল্লাবাসীকে। অপ্রতিমের জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের চোখে ছিল শোক, ক্ষোভ ও দ্রুত বিচারের প্রত্যাশা।

স্থানীয়দের দাবি, অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে লালমাই পাহাড় ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করতে হবে।

অপ্রতিম আর ফিরবে না। কিন্তু তার মৃত্যু যেন কুমিল্লার পাহাড়ি এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্নগুলোর স্থায়ী সমাধানের কারণ হয়—এটাই এখন স্বজন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা।

অপ্রতিমের আইফোন তুহিনের বাড়িতে, সামনে বাইক ছিনতাইয়ের অভিযোগ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১০ এএম
অপ্রতিমের আইফোন তুহিনের বাড়িতে, সামনে বাইক ছিনতাইয়ের অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধারের পর তার বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো একটি অভিযোগও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে তুহিনের বিরুদ্ধে এক কিশোরের মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলে একটি লিখিত অভিযোগের কপি থেকে জানা গেছে।

ওই অভিযোগে বলা হয়, অভিযোগকারীর ছেলে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার একটি মোটরসাইকেল বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কেনেন। তুহিনের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় তুহিন প্রায়ই মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলাচল করতেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তুহিন মোটরসাইকেলটি নেওয়ার জন্য ফোন করেন। পরে অভিযোগকারীর ছেলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সালমানপুর এলাকার একটি স্থানে যান এবং তুহিনের কাছে সেটি দেন। এরপর তিনি কাছের একটি দোকানে বসে থাকেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর তুহিনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেরত চাইলে তিনি সেটি তার কাছে নেই বলে জানান। পরে মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও সেটি আর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় তুহিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ করা হলেও মামলা না নিয়ে শুধু জিডি নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগকারীর বক্তব্য।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, তুহিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তার ওপর কোনো রাজনৈতিক দলের বড় নেতার প্রভাব রয়েছে—এমন কথাও পুলিশ পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি। তবে এ দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অপ্রতিমের ঘটনায় ফের আলোচনায় তুহিন

পুরোনো ওই অভিযোগ সামনে আসার মধ্যেই অপ্রতিমের নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় তুহিনসহ তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়ার পর তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম নামের আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তের অংশ হিসেবে তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূইয়া জানান, উদ্ধার হওয়া ফোনের কললিস্ট, মেসেজ, লোকেশনসহ বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার আগে ও পরে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়।

পুরোনো অভিযোগের সঙ্গে বর্তমান তদন্তের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ

অপ্রতিমের আইফোন তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে তুহিনের বিরুদ্ধে আগে থাকা মোটরসাইকেল নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তসংশ্লিষ্টদের নজরে আসতে পারে।

তবে ২০২৫ সালের মোটরসাইকেল সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুরোনো অভিযোগে তুহিনের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে; সেটি কোনো আদালতে প্রমাণিত অপরাধ—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।

অপ্রতিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তাই পুরোনো অভিযোগের পাশাপাশি বর্তমান ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আইফোন, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করাই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অপ্রতিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো অভিযোগে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

×
ENG