‘আমি কোনো ভিসা এজেন্ট নই’
ভিসা প্রসেসিং নয়, তথ্যভিত্তিক সচেতনতাই লক্ষ্য: সমালোচকদের জবাব দিলেন সাংবাদিক লাকমিনা জেসমিন সোমা

প্রবাস ও অভিবাসন বিষয়ে তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা এবং সাংবাদিক লাকমিনা জেসমিন সোমা। (সংগৃহীত ছবি)
প্রবাস ও অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা এবং অভিজ্ঞ সাংবাদিক লাকমিনা জেসমিন সোমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বুধবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি জানান, তিনি কখনোই ভিসা প্রসেসিং, ফাইল পরিচালনা কিংবা কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আপনারা কি কখনো আমার কোনো ভিডিও, পোস্ট বা ছবিতে দেখেছেন যে আমি ভিসা বা ফাইল প্রসেস করি?” তিনি দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার জনপ্রিয়তা এবং তথ্যভিত্তিক কনটেন্টের কারণে বিরূপ মনোভাব পোষণ করছে।
লাকমিনা জেসমিন সোমা তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কখনোই ভিসা প্রসেসিং, ফাইল ম্যানেজমেন্ট বা কোনো ধরনের ভিসা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। বরং তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনলাইন গবেষণার ভিত্তিতে প্রবাস ও অভিবাসন বিষয়ক তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করেন। তার দাবি, সঠিক তথ্য প্রচারের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে, কারণ এতে সাধারণ মানুষ আর সহজে প্রতারিত হচ্ছে না। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তার নাম ব্যবহার করে ছড়ানো ভুয়া তথ্য ও প্রতারণামূলক পেজ সম্পর্কে সতর্ক থাকে এবং প্রয়োজনে এর প্রতিবাদ করে।
সোমার ভাষ্য অনুযায়ী, এক শ্রেণির ব্যক্তি তার কনটেন্টের ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত, অন্যদিকে আরেক শ্রেণির মানুষ সঠিক তথ্য প্রচারের কারণে ক্ষুব্ধ। কারণ সচেতনতা বাড়লে সাধারণ মানুষ সহজে প্রতারিত হন না এবং নানা বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও বলেন, আগে অনেকেই ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে মানুষ আগের চেয়ে বেশি সচেতন হওয়ায় এসব অসাধু চক্রের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিভিন্নভাবে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পোস্টে লাকমিনা জেসমিন সোমা অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোথাও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তির বিভ্রান্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে তার অনুসারীরা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন, যা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি কোনো আইনগত পরামর্শদাতা নই। আমি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং অনলাইন গবেষণার ভিত্তিতে তথ্য শেয়ার করি। আমি কোনো ভিসা এজেন্ট, রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নই এবং আমার নিজস্ব কোনো ভিসা ব্যবসাও নেই।”
তিনি আরও জানান, তিনি কোনো ফোন নম্বর প্রকাশ করেন না এবং তার নাম ব্যবহার করে তৈরি হওয়া ভুয়া পেজ বা চ্যানেল সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। কোনো প্রতারকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় তিনি নেবেন না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।
লাকমিনা জেসমিন সোমা বাংলাদেশের একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। ২০১০ সালে জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করে পেশাগত দক্ষতা, তথ্যনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন।
বর্তমানে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে প্রবাসীদের জীবনযাপন, কর্মসংস্থান, বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া এবং বিদেশে বসবাসের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে নিয়মিত ভিডিও ও তথ্যবহুল কনটেন্ট প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কনটেন্ট বিপুল দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং অনেক প্রবাসপ্রত্যাশী তার তথ্য থেকে উপকৃত হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে অনলাইনে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার এই সময়ে তথ্যভিত্তিক ও সচেতনতামূলক কনটেন্ট সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ কারণেই লাকমিনা জেসমিন সোমার মতো কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আস্থা দিন দিন বাড়ছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


































