মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

কালীগঞ্জে মাছের ঘেরের সামনে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৯ পিএম
কালীগঞ্জে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

কালীগঞ্জে মাছের ঘেরের সামনে থেকে উদ্ধার হওয়া যুবক সনজিব সরকারের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • পরিবারের দাবি, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড; তদন্তে পুলিশ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় একটি মাছের ঘেরের সামনে থেকে সনজিব সরকার (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
  • বুধবার (১ জুলাই) ভোরে ঠেকরা-দক্ষিণশ্রীপুর খেজুরতলা সড়কের বড় খালের মাথা সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
  • এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবারের দাবি, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড; তদন্তে পুলিশ

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় একটি মাছের ঘেরের সামনে থেকে সনজিব সরকার (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) ভোরে ঠেকরা-দক্ষিণশ্রীপুর খেজুরতলা সড়কের বড় খালের মাথা সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। নিহত সনজিব সরকার কালীগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের গোপাল সরকারের ছেলে।

রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা-দক্ষিণশ্রীপুর এলাকায় একটি মাছের ঘেরের সামনে থেকে সনজিব সরকার নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা-দক্ষিণশ্রীপুর এলাকায় একটি মাছের ঘেরের সামনে থেকে সনজিব সরকার নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সনজিব সরকার তার বাবার সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন। পরে রাত প্রায় ১০টার দিকে তার বাবা বাড়িতে ফিরে এলেও সনজিব আর ফেরেননি। অনেক রাত পর্যন্ত তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে গভীর রাতে দক্ষিণশ্রীপুর খেজুরতলা এলাকায় সনজিবের নিজস্ব মাছের ঘেরের বাসার সামনে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সনজিবের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাকে অন্য কোথাও হত্যা করে পরে মরদেহ মাছের ঘেরের সামনে ফেলে রেখে গেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের পাশাপাশি আতঙ্কেরও সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • কালীগঞ্জে মাছের ঘেরের সামনে থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
  • নিহত সনজিব সরকার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
  • পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে।
  • পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
  • মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

রাষ্ট্রকেই নিতে হবে আইনি সহায়তার দায়িত্ব

আইনজীবীদের বর্জন সিদ্ধান্তে সামনে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়ে এরই মধ্যে আসামিদের আইনি সহায়তার অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

দৈনিক আজকের কথা
আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।
— অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি

আলোচনা সভায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”

তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যদি আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়াই, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবে। কারণ একতরফা বিচার হলে সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”

এদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করার পর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরও জানিয়েছিলেন, আসামিরা আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। সে সময় পর্যন্ত কুমিল্লা বারের কোনো আইনজীবী তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে ওকালতনামা বা দরখাস্ত দেননি বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

অর্থাৎ, কোনো আইনজীবী সমিতির সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আসামিপক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়—সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার ওপরই বর্তায়। কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিও বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে আদালতে কোনো আসামির দেওয়া জবানবন্দি বা পুলিশের অভিযোগ চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণ করে না; মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারিত হবে।

সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোলায়মান, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য: “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”

অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি

দেবীদ্বারে গোমতী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
দেবীদ্বারে গোমতী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত

উন্মুক্ত জলাশয়ে বাড়বে মাছ, রক্ষা পাবে জীববৈচিত্র্য

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ঐতিহ্যবাহী গোমতী নদীসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, স্থানীয় মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে গোমতী নদীর দেবীদ্বার অংশের শিবনগর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

এদিন গোমতী নদীর পাশাপাশি কাচারি পুকুর, থানা পুকুর, দেবীদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পুকুর, উপজেলা পরিষদ পুকুর, সরকারি শিশু পরিবারের পুকুর, কাচিসাইর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর, রাধানগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর ও জাফরাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুরেও পোনা অবমুক্ত করা হয়। দিনব্যাপী এসব জলাশয়ে প্রায় ৩০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হয়।

দৈনিক আজকের কথা
খাঁচাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মাছগুলো এখন নদীর বিশাল জলরাশিতে ডানা মেলার সুযোগ পেল।
— অশোক বিক্রম চাকমা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দেবীদ্বার, কুমিল্লা

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়স উদ্দিন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান নাফি, উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নোমান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সঞ্জিত চক্রবর্তী, মো. রফি উদ্দিন ও মো. আলী হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, গোমতী নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার ফলে উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, “পোনা মাছ অবমুক্ত করার এই ক্ষণটি যেন জলজ প্রাণীর এক অনন্য মুক্তির আনন্দ নিয়ে এসেছে। খাঁচাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মাছগুলো এখন নদীর বিশাল জলরাশিতে ডানা মেলার সুযোগ পেল। তারা এখন সারা দেশের নদী ও খাল-বিলে স্বাধীনভাবে সাঁতার কেটে, ঘুরেফিরে বেঁচে থাকার এক নতুন স্বাধীনতা উপভোগ করবে।”

ইউএনও আরও বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ করা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে স্থানীয় জেলেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। তবে মাছগুলো বড় হওয়ার আগেই যাতে কেউ কারেন্ট জাল বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পদ্ধতিতে শিকার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মুরাদনগরে বিএনপির মিছিলের পর ছাত্রলীগের পাল্টা মিছিল, আটক ১৩

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩১ পিএম
মুরাদনগরে বিএনপির মিছিলের পর ছাত্রলীগের পাল্টা মিছিল, আটক ১৩

থানার সামনে গিয়ে ছত্রভঙ্গ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলের প্রায় তিন ঘণ্টা পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পাল্টা মিছিলের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মিছিলটি মুরাদনগর থানা গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মুরাদনগর সদরে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নোয়াকান্দি গ্রামের হাসান ভূঁইয়া (১৮), সাইফুল ইসলাম (১৮), তানজিদ (১৮), হানিফ ভূঁইয়া (১৯), মহিনুল ইসলাম (১৮), হৃদয় ভূঁইয়া (১৪), মাসুদ (১৪), ইয়াছিন (১৬), চৌধুরীকান্দি গ্রামের শাহেদ (১৮), আতিক (১৮), ভুবনঘর মধ্যপাড়ার আসিফ (১৮), মোচাগড়া গ্রামের মোবারক (১৯) ও মুরাদনগর কলেজপাড়ার তানভীর হোসেন (১৪)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নৈরাজ্য, নাশকতা ও অপতৎপরতার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

দৈনিক আজকের কথা
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
— মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), মুরাদনগর থানা

এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর মুরাদনগর সদরের ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে সেখান থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মুরাদনগর থানা গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ সময় মিছিলে থাকা আরও প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন পালিয়ে যান। তবে মুরাদনগর থানা পুলিশের ভাষ্য, মিছিল করার উদ্দেশ্যে ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হওয়ার পরই তাদের আটক করা হয়।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

×
ENG