এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষার্থীকে দিয়ে খাতা দেখানো: দেবীদ্বারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, শিক্ষা বোর্ডের ফৌজদারি আইনে প্রথম মামলা

গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া (৫৫) ও এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে জড়িত অভিযোগে আটক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৫)। ছবি : আজকের কথা
চেয়ারম্যানের দাবি—বাংলাদেশে এই আইনে বোর্ডের প্রথম মামলা, শিক্ষক সমাজের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা
এসএসসির উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে খাতা মূল্যায়নের অভিযোগে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়াকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে সহযোগিতার অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকেও (১৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা। বোর্ডের চেয়ারম্যানের দাবি, ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর আওতায় শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এটি বাংলাদেশে প্রথম ফৌজদারি মামলা।
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) পাপিয়া আক্তার শনিবার (১১ জুলাই) দেবীদ্বার থানায় হাজির হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া এবং শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে আসামি করে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারের ভিত্তিতে ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় দেবীদ্বার থানায় মামলা (মামলা নং-০৮, তারিখ: ১১/০৭/২০২৬) রুজু করা হয়।
রোববার বিকেলে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং শিক্ষক সমাজের জন্য কলঙ্কজনক। দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক এ ধরনের গর্হিত কাজ করে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অনিয়ম যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে জন্যই ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এই আইনে দায়ের হওয়া এটিই দেশের প্রথম মামলা। আইনটি আগে থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ হয়নি। অতীতে বোর্ড নিজস্ব বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিত।”
চেয়ারম্যান আরও জানান, রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা (বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী) এএনএম এহসানুল হক মিলন পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরীক্ষকদের সতর্ক করে বলেন, “দেবীদ্বারের এক শিক্ষক বোর্ডের খাতা একজন ছাত্রকে দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছিলেন। গত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
এদিকে, শিক্ষা বোর্ডের মামলার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দেবীদ্বার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. শাহীনের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দেবীদ্বার থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া এবং শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে রোববার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৪টায় দেবীদ্বার থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিনিয়র এএসপি মো. শাহীন বলেন, “এই আইন মূলত পাবলিক পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অননুমোদিত ব্যক্তি এবং অপরাধে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করে। অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট থানায় এই আইনের আওতায় মামলা রুজু করা হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই ঘটনাটি শিক্ষক সমাজের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা।”
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামিই মামলার এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।
দেবীদ্বার থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইমাম হাসান বলেন, “ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মামলার অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। আজ (১২ জুলাই) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নম্বর প্রদান করতে দেখা যায়। ঘটনাটি আরেক শিক্ষার্থী ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষা বোর্ড মামলা দায়ের করলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
































