অপ্রতিম হত্যায় নতুন প্রশ্ন: আসামিরা সত্যিই কিশোর তো? ডিএনএ টেস্ট চান মা

অপ্রতিম হত্যার বিচার ও তিন দফা দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত মানববন্ধন। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে পুরোনো বিরোধের যোগসূত্র খতিয়ে দেখার দাবি, প্রয়োজনে আইন সংশোধনেরও আহ্বান
কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন তথ্য ও তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তার মা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে কিশোর কি না—তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য ও দাবি তুলে ধরা হয়। অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে কুবি শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন, ইউট্যাব কুবি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও হলের প্রভোস্টরা।
মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহার জানান, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে (১৬) ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অপ্রতিমের মা মনে করছেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তার দ্বিতীয় দাবি, মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
এ ছাড়া অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

আমি অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, আসামিদের ভূমিকা এবং তাদের বয়স নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন অপ্রতিমের মা।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে গোমতী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত

উন্মুক্ত জলাশয়ে বাড়বে মাছ, রক্ষা পাবে জীববৈচিত্র্য
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ঐতিহ্যবাহী গোমতী নদীসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, স্থানীয় মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে গোমতী নদীর দেবীদ্বার অংশের শিবনগর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
এদিন গোমতী নদীর পাশাপাশি কাচারি পুকুর, থানা পুকুর, দেবীদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পুকুর, উপজেলা পরিষদ পুকুর, সরকারি শিশু পরিবারের পুকুর, কাচিসাইর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর, রাধানগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর ও জাফরাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুরেও পোনা অবমুক্ত করা হয়। দিনব্যাপী এসব জলাশয়ে প্রায় ৩০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হয়।

খাঁচাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মাছগুলো এখন নদীর বিশাল জলরাশিতে ডানা মেলার সুযোগ পেল।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়স উদ্দিন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান নাফি, উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নোমান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সঞ্জিত চক্রবর্তী, মো. রফি উদ্দিন ও মো. আলী হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, গোমতী নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার ফলে উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, “পোনা মাছ অবমুক্ত করার এই ক্ষণটি যেন জলজ প্রাণীর এক অনন্য মুক্তির আনন্দ নিয়ে এসেছে। খাঁচাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মাছগুলো এখন নদীর বিশাল জলরাশিতে ডানা মেলার সুযোগ পেল। তারা এখন সারা দেশের নদী ও খাল-বিলে স্বাধীনভাবে সাঁতার কেটে, ঘুরেফিরে বেঁচে থাকার এক নতুন স্বাধীনতা উপভোগ করবে।”
ইউএনও আরও বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ করা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে স্থানীয় জেলেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। তবে মাছগুলো বড় হওয়ার আগেই যাতে কেউ কারেন্ট জাল বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পদ্ধতিতে শিকার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মুরাদনগরে বিএনপির মিছিলের পর ছাত্রলীগের পাল্টা মিছিল, আটক ১৩

থানার সামনে গিয়ে ছত্রভঙ্গ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলের প্রায় তিন ঘণ্টা পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পাল্টা মিছিলের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মিছিলটি মুরাদনগর থানা গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মুরাদনগর সদরে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নোয়াকান্দি গ্রামের হাসান ভূঁইয়া (১৮), সাইফুল ইসলাম (১৮), তানজিদ (১৮), হানিফ ভূঁইয়া (১৯), মহিনুল ইসলাম (১৮), হৃদয় ভূঁইয়া (১৪), মাসুদ (১৪), ইয়াছিন (১৬), চৌধুরীকান্দি গ্রামের শাহেদ (১৮), আতিক (১৮), ভুবনঘর মধ্যপাড়ার আসিফ (১৮), মোচাগড়া গ্রামের মোবারক (১৯) ও মুরাদনগর কলেজপাড়ার তানভীর হোসেন (১৪)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নৈরাজ্য, নাশকতা ও অপতৎপরতার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর মুরাদনগর সদরের ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে সেখান থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মুরাদনগর থানা গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ সময় মিছিলে থাকা আরও প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন পালিয়ে যান। তবে মুরাদনগর থানা পুলিশের ভাষ্য, মিছিল করার উদ্দেশ্যে ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হওয়ার পরই তাদের আটক করা হয়।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বজ্রপাত ঠেকাতে কুমিল্লায় ৫ হাজার তালবীজ, মাঠে লাল সবুজের স্বেচ্ছাসেবীরা

শিক্ষার্থীদের হাতে তালবীজ, সড়কের পাশে রোপণ
বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কুমিল্লায় ৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে চলতি সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) লালমাই উপজেলার দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর হাতে তালবীজ তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় এসব বীজ রোপণ করবে।
এরপর পশ্চিম নোয়াগাঁও, দৌলতপুর ও পূর্ব নোয়াগাঁও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এতে সংগঠনের অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।

বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে শুধু সচেতনতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সারাদেশে তালবীজ রোপণ করা গেলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহা. তফাজ্জল হোসেন মজুমদার ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খালেদ সাইফুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মারুফ, কুমিল্লা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম রিফাত, অর্থ সম্পাদক আকিব হাসান, প্রচার সম্পাদক সালমান সাজিলসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির প্রথম দিনেই ১ হাজার তালবীজ সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ এবং বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করা হয়েছে। পুরো সেপ্টেম্বর মাসে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের পাশে পর্যায়ক্রমে মোট ৫ হাজার তালবীজ রোপণ করা হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বজ্রপাতের সময় করণীয়, নিরাপদে থাকার উপায় এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা হবে।
লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, ২০১১ সাল থেকে তারা বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো ও পরিবেশ রক্ষায় তালবীজ রোপণ করে আসছেন। গত ১৫ বছরে সারাদেশে অন্তত ৭০ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও ৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।
কাওসার আলম সোহেল আরও বলেন, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো মানুষের বড় একটি অংশ সমাজের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। তাই বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কতা এবং ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন।
তার মতে, সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তালবীজ রোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে ব্যাপকভাবে তালগাছের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। এর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হতে পারে।



























