জেসিআই ঢাকা প্রেস্টিজে নেতৃত্বে পরিবর্তন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত কাজী শাহ মোজাক্কেরুল আহমদুল

পরিবারে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায়, কাজী শাহ মোজাক্কেরুল ইশমামের নেতৃত্বে এগিয়ে চলবে জেসিআই ঢাকা প্রেস্টিজ
কাজী শাহ মোজাক্কেরুল আহমদুল জেসিআই ঢাকা প্রেস্টিজ-এর ২০২৫ সালের লোকাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। রবিবার রাতে বনানী ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংগঠনের বিশেষ সাধারণ সভা (Extraordinary General Assembly)–তে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেসিআই সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (JCI) একটি আন্তর্জাতিক অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সংগঠন, যেখানে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণরা নেতৃত্ব বিকাশ, টেকসই উন্নয়ন ও সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখেন। বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে সংগঠনটির সক্রিয় কার্যক্রম রয়েছে।
বাংলাদেশে JCI-এর জাতীয় অধ্যায় হিসেবে জেসিআই বাংলাদেশ তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ ও সামাজিক প্রভাব তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। এর বিভিন্ন লোকাল চ্যাপ্টার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো জেসিআই ঢাকা প্রেস্টিজ।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কাজী শাহ মোজাক্কেরুল আহমদুল-এর নেতৃত্বে সংগঠনটি আগামী দিনে টেকসই উন্নয়ন, যুব ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক প্রভাবমূলক কাজের প্রতি আরও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
এই অর্জন শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবারিক গর্বও বয়ে এনেছে। কারণ, তার বাবা কে এম মোজিবুল হক ১৯৯২ সালে জেসিআই বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট এবং ১৯৯৩ সালে JCI World Vice President হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটিতে আছেন, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট: সাইয়েদ সাহিব আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট: ফাহাদ আল ইসলাম, ডিরেক্টর: শাহ রাফায়েত চৌধুরী, আরবাব মুসা, আবু বকর, রাহাদ আবেদিন, জামিউল ইসলাম বিশ্বাস ও মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন, কমিটি চেয়ার: শাফিল রাজ আসগর কবির, কমিটি চেয়ার: ব্যারিস্টার রোবিউল আলম সৈকত, নতুন কমিটি বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে এবং দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
কাজী শাহ মোজাক্কেরুল আহমদুল কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ-এর ভাতিজা। তিনি বাংলাদেশে ইয়েমেনের অনারারি কনসুলার জেনারেল এবং টিএএস এভিয়েশন গ্রুপ ও বাক্কা হোল্ডিংস-এর চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হক-এর বড় ছেলে।
কাজী শাহ মোজাক্কেরুল আহমদুল-এর নেতৃত্বে জেসিআই ঢাকা প্রেস্টিজ ২০২৫ সালে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
তদন্তে মিলছে নতুন সূত্র
ডিএনএ বিশ্লেষণে মিলেছে পাঁচজনের শুক্রাণু, কুমিল্লার তনু হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন গতি

ডিএনএ পরীক্ষায় নতুনভাবে মোড় ঘুরতে শুরু করেছে তনু হত্যা মামলা, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রায় এক দশক পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু এবং একজনের রক্তের অস্তিত্ব শনাক্ত হওয়ায় তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে মোট ছয়জনের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে। আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে চার সাবেক সেনাসদস্য ও এক বেসামরিক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরে গত ১৭ জুলাই আরও দুই ব্যক্তির ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ দেন আদালত। তারা হলেন কুমিল্লার রাজাপাড়ার বাসিন্দা ও তনুর বন্ধু ফয়সাল আহমেদ রাব্বি এবং সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম। তবে তদন্তের স্বার্থে ষষ্ঠ সন্দেহভাজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ডিএনএ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে চলতি বছরের এপ্রিলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মামলার দুই সন্দেহভাজন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও সাবেক সেনাসদস্য শাহীন আলম দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
এর মধ্যে জাহিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তদন্তকারীদের দাবি, শাহীন আলম গত এপ্রিলে গোপনে কুয়েতে চলে যান। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বর বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং সর্বশেষ অবস্থান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় শনাক্ত হয়েছে।
নিহত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তার প্রশ্ন, ভুয়া ফরেনসিক প্রতিবেদন দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এখনো কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া চিকিৎসক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া, সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য, ঘটনার দিন তনু সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার পথেই হত্যার শিকার হন।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি জিন্দা লাশ হয়ে বেঁচে আছি। প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি, কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে মনে হয় এই বুঝি মারা গেলাম। মৃত্যুর আগে শুধু আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার এবং তাদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই।”
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম, যিনি এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দুই সন্দেহভাজন বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আদালতের নির্দেশে নতুন করে আরও দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডির পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শ্রমিকদের ওপর বাস
বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ১৫

বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—গাইবান্ধার আমিরুল, নূর আলম ও বেলাল এবং জয়পুরহাটের তাজমুল। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ
কিশোরগঞ্জে মৎস্য খামার থেকে সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বেরুয়াইল গ্রামে একটি মৎস্য খামার থেকে অনিক মিয়া (৩৫) নামে পুলিশের সাবেক এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অনিক মিয়া ওই গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে পুলিশ বাহিনীর চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে মাছ চাষ শুরু করেন অনিক মিয়া। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজের মৎস্য খামারের পাশে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খামারে গিয়ে গরুর জন্য কাটা ঘাস এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খামারের পানিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে পানির নিচে ডুবে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।





















