আইএসপিআর না অন্তর্বর্তী সরকার—কে জাতির সাথে মিথ্যাচার করল?
আইএসপিআর বনাম প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর, লাশ ও আহতের সংখ্যা কমানো না বাড়ানোর তথ্য নিয়ে নতুন বিতর্ক
আইএসপিআর বনাম প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর—এই প্রশ্নটি এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ আজকের জাতীয় দৈনিকগুলো মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৩১ বা ৩২ জন বললেও, এর কিছুক্ষণ আগে সরকারের নীতিনির্ধারক কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে লাশের সংখ্যা ২৯ এবং হাসপাতালে রয়েছে মাত্র ৬৮ জন। অথচ সামরিক মূখপাত্র গতকাল জানিয়েছিল নিহত ৩১ জন এবং আহত ১৬৫ জনকে রাজধানীর ১০টি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
জাতীয় পর্যায়ের অধিকাংশ পত্রিকা তাদের ছাপানো প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৩১ বা ৩২ জন বলেছে, যা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)–এর তথ্য অনুযায়ী।
কিন্তু আজ প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানালেন—লাশ ২৯টি, হাসপাতালে মাত্র ৬৮ জন।
এখন প্রশ্ন, কার তথ্য সঠিক?
এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের খবর যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয়তো ২/৩ জন বাচ্চার জীবন বাঁচাতে পেরেছেন, আবার জাদুকরি উপায়ে আহতের সংখ্যা ৯৭ জন কমিয়েও ফেলেছেন!
কিন্তু বাস্তবতা হলো—সরকারের দুই বিভাগ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসছে। আইএসপিআর বলেছে ১০টি হাসপাতাল, অথচ প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানায় ৮টি।
এটা প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা নয় তো কী?
আমরা জানি না কে সত্য বলছে—আইএসপিআর না প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, আইএসপিআর সাধারণত বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয় না, অথচ অন্তবর্তীকালিন সরকারের তথ্যে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে।
আইএসপিআর বনাম প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর—এই দ্বন্দ্ব সমাধানে সরকারের উচিত হবে দ্রুত নির্ভরযোগ্য, সমন্বিত তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরা। নইলে জনগণের আস্থা হারাবে সরকার নিজেই।
ভাইরাল চিঠি ঘিরে তোলপাড়
কুমিল্লা পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের ‘ভুয়া চিঠি’ ভাইরাল, অপপ্রচারের অভিযোগ
কুমিল্লা পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের দাবি সম্বলিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিঠিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। পুলিশ সদর দপ্তরের নাম ও সিল ব্যবহার করে তৈরি এই চিঠিটিকে জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ‘শতভাগ ভুয়া’ বলে নিশ্চিত করেছেন। এই বিষয়ে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন যে, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে এই ভুয়া বিজ্ঞপ্তিটি ছড়াচ্ছে। বর্তমানে এই জাল চিঠি তৈরির সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে—এমন দাবি করে পুলিশ সদর দপ্তরের নামে একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চিঠিটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে দাবি করেছেন। পুলিশ সুপার নিজেও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এটি একটি অপপ্রচারমূলক প্রচেষ্টা।
রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই চিঠিতে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন)-এর নাম ও সিল ব্যবহার করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে অনুষ্ঠিত একটি মিছিল এবং প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানকে অবিলম্বে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চিঠির ভাষা, কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেই এটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তাদের ভাষ্য, এ ধরনের সরকারি আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, যথাযথ রেফারেন্স নম্বর এবং অনুলিপি প্রাপকদের তালিকা বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ থাকে। কিন্তু ভাইরাল হওয়া চিঠিতে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার কারণে একটি অসাধু চক্র বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। ইতোমধ্যে ভুয়া চিঠি তৈরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “অনেকেই আমাকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বিজ্ঞপ্তি বা চিঠির সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর উদ্দেশ্যে এটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করছি।”
উল্লেখ্য, বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান গত বছরের ২৯ নভেম্বর কুমিল্লার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া একই বছরের ১ মে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
ভাইরাল হওয়া ভুয়া চিঠির ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রিয় নবী মন্তব্যে বিতর্ক
এবার মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলেই ভাইরাল বিএনপি নেতা খালেক
পরিবেশ মন্ত্রীকে খুশি করতে গিয়ে ‘প্রিয় নবী’ বলে সম্বোধন করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া এই বক্তব্যের কারণে ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে সাধারণ মানুষ এবং নেটিজেনরা এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেকের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির এক অনুষ্ঠানে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ‘প্রিয় নবী’ বলে উল্লেখ করার পর তার বক্তব্যটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়।
শনিবার (৩১ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে এম এ খালেক এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আমার, আপনার, সবার প্রিয় নবী, প্রিয় মানুষ।”
তার এই বক্তব্যের পরপরই উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিসফাস ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে বক্তব্যটির ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
বক্তব্যটি নিয়ে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে আপত্তি জানিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন। কেউ কেউ এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বহীন মন্তব্য বলে অভিহিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলেম বলেন, “ইসলামে নবী-রাসুলদের মর্যাদা স্বতন্ত্র ও অনন্য। কোনো সাধারণ মানুষকে নবীর সঙ্গে তুলনা করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের বক্তব্য পরিহার করা উচিত।”
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায় দল নেবে না। তারা মনে করেন, জনসম্মুখে দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক এম এ খালেক এর আগেও বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছেন। গত ১৬ এপ্রিল একটি বিদ্যালয়ের ক্রীড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ভিআইপি প্রটোকল গ্রহণের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এছাড়া অতীতেও তার কিছু বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
সর্বশেষ ‘প্রিয় নবী’ মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এম এ খালেকের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযানে উদ্ধার ইয়াবা ট্যাবলেট
দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারি, আদালতে প্রেরণ
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় ইয়াবা বিক্রির সময় এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩১ মে) ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার এসআই বাধন দাসের নেতৃত্বে একটি দল উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের বরকামতা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ওই গ্রামের মনোরঞ্জন সিংহের ছেলে দিপক সিংহ (৩৯)কে আটক করা হয়।
অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক দিপক সিংহ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে রোববার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দিপক সিংহকে ইয়াবা ও মাদক বিক্রির টাকা সহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।”















