মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, ‘দল ধ্বংসের পথে’ বলে ক্ষুব্ধ সাবেক সদস্য সচিব

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি।
  • তবে নতুন কমিটি ঘোষণার পরপরই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী।
  • তিনি দাবি করেছেন, দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি এবং এভাবে চললে দলের ক্ষতি হবে।

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি। তবে নতুন কমিটি ঘোষণার পরপরই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী। তিনি দাবি করেছেন, দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি এবং এভাবে চললে দলের ক্ষতি হবে। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এক নজরে সবকিছু…………..
দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
উপজেলা কমিটিতে আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ
পৌর কমিটিতে আহ্বায়ক শাহজাহান মোল্লা, সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন ভুলু পাঠান
ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হয়নি বলে অভিযোগ সাবেক সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সীর
কমিটি পুনর্গঠন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নবগঠিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভা শেষে এ দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেম ভূঁইয়া ও যুগ্ম আহ্বায়কদের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি

দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. জসিম উদ্দিনকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে আবুল কালাম আজাদকে। ১৬ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম সরকার। যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য হিসেবে রয়েছেন মজিবুর রহমান সিকদার, আবদুর রউফ, শাহজাহান কবির, আবদুর রহমান, ইউসুফ মিয়া, বিল্লাল হোসেন, হাজী মো. শহীদুল্লাহ, এবিএম আবুল বাশার, মহসিন সরকার, মোহাম্মদ আলী, মো. আব্দুল কাইয়ুম সরকার, মো. ছগির আহম্মেদ ও ইব্রাহিম দিওন।

পৌর বিএনপির নতুন কমিটি

দেবীদ্বার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. শাহজাহান মোল্লাকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে মো. আনোয়ার হোসেন ভুলু পাঠানকে। ১৫ সদস্যের এ কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য হিসেবে রয়েছেন নজরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মো. আব্দুর রহিম, বশির আহম্মেদ, মিজানুর রহমান মাস্টার, মো. মনির, মো. আসাদুজ্জামান পাঠান, মো. জসীম, মোস্তফা কামাল, এবিএম আবুল বাশার, মহসিন সরকার ও মোহাম্মদ আলী।

নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেম ভূঁইয়া বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দেবীদ্বার থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির অধীন সব উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।”

অন্যদিকে নতুন কমিটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী। তিনি বলেন, “জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাত্র একদিনের মাথায় উপজেলা ও পৌর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে চার বছর ধরে যারা ত্যাগ ও পরিশ্রম করে দলকে আগলে রেখেছেন, তাদের অনেককেই নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীরা চরমভাবে হতাশ হয়েছেন। এভাবে দল পরিচালিত হলে বিএনপির ক্ষতি হবে। দলের স্বার্থে আন্দোলনে নামা ছাড়া অন্য কোনো পথ দেখছি না। তবে দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে আপাতত নীরব রয়েছি।”

নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেবীদ্বার বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশ নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানালেও অপর অংশ ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

মোংলায় ৫০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ পিএম
মোংলায় ৫০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

Oplus_16908288

বাগেরহাটের মোংলায় র‍্যাব-৬-এর বিশেষ অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গোপাল সরকার (৫২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে মোংলা থানার দিগরাজ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-৬ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে গোপাল সরকারকে হাতেনাতে আটক করে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার কাছ থেকে ৫০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার গোপাল সরকার মোংলা থানার কাইনমারী এলাকার শ্যাম সরকারের ছেলে। র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোংলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

র‍্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে তাদের নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক সরবরাহের উৎস, পাচারের রুট এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

দৈনিক আজকের কথা
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
— লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ
অধিনায়ক, র‍্যাব-৬, খুলনা

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোংলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা রয়েছে। বিশেষ করে মাদক বিস্তারের কারণে তরুণ সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার নয়, মাদকের পেছনে থাকা মূল সরবরাহকারী ও সিন্ডিকেটের সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

র‍্যাব-৬-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোংলা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা গাঁজাসহ তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র‍্যাব জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

থেমে থাকা সেতুর কাজ ফের শুরু, কায়কোবাদের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে নতুন উপজেলা বাঙ্গরার ১০ গ্রামের ভাগ্য

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
থেমে থাকা সেতুর কাজ ফের শুরু, কায়কোবাদের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে নতুন উপজেলা বাঙ্গরার ১০ গ্রামের ভাগ্য

কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো জীবনের ঝুঁকি, এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম কেটে গেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা বর্তমানে বাঙ্গরা উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া গ্রামের মানুষের। আর্সি নদীর ওপর একটি পাকা সেতুর জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবার শেষের পথে। নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন থেমে থাকার পর আবারও পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে সেতুটির কাজ। ইতোমধ্যে ৪২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুর ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এতে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে এলাকাবাসীর শত বছরের লালিত স্বপ্ন।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সেতুটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেতুর অবকাঠামো দৃশ্যমান হওয়ায় নদীপাড়ের গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও স্বস্তি।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক টানাপোড়েনসহ নানা কারণে একপর্যায়ে সেতুটির নির্মাণকাজ থমকে যায়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব কায়কোবাদ-এর উদ্যোগ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আবারও নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয়। এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে অবশিষ্ট কাজ।

প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সেতুটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ৪২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটির দুই পাশে রয়েছে মোট ২০০ মিটার সংযোগ সড়ক। সংশ্লিষ্টদের আশা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট অনেকটাই দূর হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধনপতিখোলা থেকে কালারাইয়া ও রোয়াচালা হয়ে সড়কটি দৌলতপুরের প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু আর্সি নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ পথে চলাচলকারী মানুষকে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করত।

বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, শিশু ও বয়স্কদের নদী পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত প্রবীণ বাসিন্দা

দৈনিক আজকের কথা
আমার জীবনের বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল এই সেতুটি দেখে যাওয়া। এতদিনে আমাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
— হাজী তৈয়ব আলী
৮৫ বছর বয়সী স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা

প্রবীণ বাসিন্দা হাসু রানী বলেন, “জীবনে কত মেম্বার-চেয়ারম্যান দেখলাম, কিন্তু কেউ এই সেতুটি করতে পারেনি। আমার এই বয়সে সেতুটি দেখে যেতে পারব, তা কখনো ভাবিনি।”

কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, “কোনো দিন ভাবিনি এখানে পাকা সেতু হবে। সেতুটি হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কৃষিপণ্য পরিবহনেও সুবিধা হবে।”

গৃহবধূ সুভা রানী ঘোষ বলেন, “শত বছরের সাধনার মতো ছিল আমাদের এই সেতু। এখন এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যোগাযোগ সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে যেতে পারত না। সেতুটি চালু হলে এ সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।”

এলাকাবাসী জানান, আর্সি নদীর ওপর সেতু না থাকায় শুধু যোগাযোগ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনও ছিল কঠিন। বিশেষ করে রাতের বেলায় কেউ অসুস্থ হলে নদী পারাপার নিয়ে পরিবারকে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো।

এদিকে দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিয়ে ‘ভোরের কাগজ’-এ সংবাদ প্রকাশের পর কাঙ্ক্ষিত সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়া স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর মতে, গণমাধ্যম মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং সমাধানের পথ তৈরি হয়।

দৈনিক আজকের কথা
আর্সি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। নানা সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এবার সেতুটি নির্মাণের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
— রুহুল আমিন
সাবেক চেয়ারম্যান, বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়ন।

তিনি বলেন, প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি চালু হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয়রা আরও জানান, সেতুটি নির্মাণের আগে ধনপতিখোলা, কালারাইয়া, রোয়াচালাসহ আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। নদী পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকোই ছিল প্রধান ভরসা। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে সাঁকো পারাপার হয়ে উঠত আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সেতুটি নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণ নয়; এটি বহু পরিবারের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত। সেতু চালু হলে একদিকে যেমন সহজ হবে মানুষের যাতায়াত, অন্যদিকে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতও সহজ হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে থেমে থাকা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় এখন তাদের প্রত্যাশা দ্রুততম সময়ে বাকি কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

সেতুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ নির্মাণাধীন সেতুর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। প্রবীণরা বলছেন, তাদের জীবনের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি হতে যাচ্ছে নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি সংযোগ সড়কের কাজও যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে। কারণ সেতু নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ব্যবহার উপযোগী না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

এলাকাবাসীর মতে, আর্সি নদীর ওপর সেতুটি চালু হলে শুধু দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগই সহজ হবে না, আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও প্রধান সড়কের যোগাযোগও আরও গতিশীল হবে। কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ পেরিয়ে এখন তাই ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া গ্রামের মানুষের চোখে নতুন স্বপ্ন। বাঁশের সাঁকোর ঝুঁকিপূর্ণ পথ পেরিয়ে এবার তারা অপেক্ষা করছেন একটি নিরাপদ ও স্থায়ী সড়ক যোগাযোগের জন্য। থেমে থাকা নির্মাণকাজ আবার সচল হওয়া এবং সেতুর ছাদ ঢালাই শেষ হওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন আর কেবল কল্পনা নয়, বাস্তবতার খুব কাছাকাছি।

এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক। তাহলেই শত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটবে, বদলে যাবে নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা।

কর্মসংস্থান নাকি গ্রিডে বাড়তি চাপ?

দেবীদ্বারে বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণ, আলোচনা-সমালোচনা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৯ এএম
দেবীদ্বারে বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণ, আলোচনা-সমালোচনা

সারাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সংকট ও লোডশেডিংয়ের অভিযোগের মধ্যেই কুমিল্লার দেবীদ্বারে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে অটোরিকশা বিতরণ করা হলেও চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে এগুলোর ব্যাটারি চার্জিং জাতীয় গ্রিডে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে কি না—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০ জন অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে এসব অটোরিকশা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতেই অটোরিকশাগুলো বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে ব্যাটারিচালিত যানবাহন বাড়ানো কতটা যৌক্তিক—এ প্রশ্নও তুলেছেন সচেতন মহলের কেউ কেউ।

বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে এসব যানবাহন সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। অন্যদিকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি চার্জের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি, চার্জিং ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের বৈধতা এবং পরিবেশগত প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ঘাটতির সময়ে অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং ব্যবস্থা চালু হলে তা স্থানীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

দৈনিক আজকের কথা
ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বিতরণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। উপকারভোগীরা প্যাডেলচালিত অটোরিকশার পরিবর্তে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিতে আগ্রহী হওয়ায় তাদের চাহিদা অনুযায়ী এগুলো দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকট সাময়িক, আশা করি দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
— সুফিয়া বেগম
যুগ্ম আহ্বায়ক, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি।

তিনি আরও বলেন, অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণের সময় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আমার জানা নেই।”

দৈনিক আজকের কথা
এটি জেলা পরিষদের নির্ধারিত প্রকল্পের অংশ। প্রকল্পে যেভাবে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল, সেভাবেই বিতরণ করা হয়েছে।
— মো. মোস্তাক মিয়া
প্রশাসক, কুমিল্লা জেলা পরিষদ ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপি কুমিল্লা বিভাগ।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও আয়োজকরা বলছেন, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অসহায় মানুষের হাতে কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দেওয়া। তাদের ভাষ্য, একটি অটোরিকশা একটি পরিবারের নিয়মিত আয়ের পথ তৈরি করতে পারে। ফলে উপকারভোগীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি এসব যানবাহনের চার্জিংয়ের জন্য আলাদা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না। কারণ অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চার্জিংয়ের চাহিদাও বাড়বে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়টি প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।

বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে একদিকে নাগরিকদের নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে কর্মসংস্থানের জন্য ব্যাটারিচালিত যানবাহন সম্প্রসারণ—দুটি বিষয়কে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিংয়ের কারণে যদি বিদ্যুৎ সরবরাহে আরও চাপ পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই বিতরণের পাশাপাশি চার্জিংয়ের জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে শুধু অটোরিকশাই নয়, উপজেলার জুলাই শহীদ পরিবার, আহত পরিবার এবং বিভিন্ন অসহায়, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের মধ্যেও ৭৫টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের আশা, সেলাই মেশিনগুলোও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া, দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজভিউল আহসান মুন্সী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অটোরিকশা বিতরণকে কেন্দ্র করে ওঠা আলোচনা-সমালোচনার মূল জায়গা এখন কর্মসংস্থান ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য। অসহায় মানুষের হাতে জীবিকার উপকরণ তুলে দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত চার্জিং ব্যবস্থা, বৈধ যানবাহন পরিচালনা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থানমূলক এমন উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।

×
ENG