পাড়া-মহল্লায় গড়তে হবে প্রতিরোধ
‘মাদকের ছোবলে বিপর্যস্ত পরিবার, অতীতে কী হয়েছে জানি না, তবে এবার প্রতিরোধ গড়ার সময়’: কায়েস মীর

মুরাদনগরের দারোরায় মাদকবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক সৈয়দ এস এম কায়েস মীর। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
‘মাদক ব্যবসায়ী-সেবনকারী-প্রশ্রয়দাতা—কাউকেই ছাড় নয়’: দারোরায় ওসি আনোয়ারের কড়া হুঁশিয়ারি
মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের পাশাপাশি যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বা সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নে আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুরাদনগর থানা পুলিশের আয়োজনে দারোরা হাই স্কুল মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে মাদকবিরোধী একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি দারোরা ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দারোরা হাই স্কুল মাঠে এসে শেষ হয়। এতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। র্যালিতে মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, একই সঙ্গে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। মাদকের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

মাদক একটি সন্তানকে শুধু নষ্ট করে না—একটি পরিবারকে ভেঙে দেয়, মা-বাবা ও ভাই-বোনের কাছ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মাদকের কড়া গ্রাসে আজ অনেক পাড়া-মহল্লা বিপর্যস্ত। তাই মাদক নির্মূলে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি আমাদের প্রত্যেককে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূল শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। একটি এলাকায় মাদক বিক্রি হচ্ছে কি না, কারা এর সঙ্গে জড়িত, কারা মাদকসেবীদের আশ্রয় দিচ্ছে—এসব বিষয়ে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে মাদকের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এর প্রভাব পুরো পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রের ওপর পড়ে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজ মাদকের ভয়াবহ ছোবলে আক্রান্ত হলে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
দারোরা দীনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সৈয়দ এস এম কায়েস মীর বলেন, মাদকের কারণে বহু পরিবারে অশান্তি নেমে এসেছে। মাদকের ভয়াবহতা শুধু একজন সন্তানকে নয়, মা-বাবা, ভাই-বোনসহ পুরো পরিবারকে একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। পাড়া-মহল্লার সামাজিক পরিবেশও মাদকের কারণে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মুরাদনগরে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান একেবারে জিরো টলারেন্স। মাদক বিক্রি করেন, সেবন করেন কিংবা মাদক ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় দেন—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য সরাসরি আমাকে জানাবেন, তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কায়েস মীর আরও বলেন, মাদক নির্মূলকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। শুধু মাদকসেবীকে আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; মাদকের উৎস, বিক্রেতা এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধু-বান্ধবের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, মুরাদনগরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা একটি মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ। মাদক নির্মূল ছিল বর্তমান ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ও মুরাদনগরের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা শুধু অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছে না, তারা পরিকল্পিতভাবে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে মাদক ব্যবসাকে নিছক অপরাধ হিসেবে না দেখে সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, কোনো এলাকায় মাদক বিক্রির তথ্য জানা থাকলে ভয় বা সামাজিক সংকোচের কারণে তা গোপন না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে মাদকসেবীদের ঘৃণা না করে তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। কারণ একজন মাদকসেবীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা মানে একটি পরিবারকে রক্ষা করা।
সমাবেশে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
মুরাদনগর থানার এসআই রাজু বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল আজিজ মোল্লা, দারোরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার, মুরাদনগর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, দারোরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মোতাহের, গ্রাম্য পশু চিকিৎসক ডা. ওহিদুর রহমান, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আলাউদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য মো. বাবু, গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে বক্তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, দারোরা ইউনিয়নসহ মুরাদনগরের প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও জোরদার করা হবে। পুলিশের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।































