ইউনুস সরকারের বাধায় ১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ে ফেরার দিন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ইউনুস সরকারের বাধায় ১৫ আগস্ট, মব, নিষেধাজ্ঞা আর চোখ রাঙানির পরও জাতির পিতার জন্য মানুষের ভালোবাসা নতুন রূপে ফুঁসে উঠেছে।
ইউনুস সরকারের বাধায় ১৫ আগস্ট বাঙালির শোক প্রকাশের অধিকারকে থামিয়ে দিতে পারেনি—বরং তা বঙ্গবন্ধুকে আরও শক্তিশালীভাবে ফিরিয়ে এনেছে কোটি মানুষের হৃদয়ে।
১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শোকাবহ দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নির্মম হত্যাকাণ্ড আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে ক্ষত হয়ে আছে। এই দিনটিতে দেশের মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এসে শ্রদ্ধা জানায়, ভালোবাসা জানায়।

কিন্তু এবার, ইউনুস সরকারের বাধা ১৫ আগস্ট-এর পথ রুদ্ধ করেছিল। শোক প্রকাশেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। ধানমন্ডি ৩২ এ মানুষের প্রবেশে বাধা, রাস্তায় মোতায়েন মব ও পুলিশ—সবমিলিয়ে সরকার যেন ঘোষণা দিয়েছিল, বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো অপরাধ।
তবুও থেমে থাকেনি ভালোবাসা। ইতিহাস আবারো প্রমাণ করেছে, কোনো শাসকের আদেশ, লাঠি কিংবা নিষেধাজ্ঞা মানুষের অন্তরের শ্রদ্ধা থামাতে পারে না।
রিকশাচালক আজিজুলের অশ্রু ও প্রতিবাদ
আজিজুল, এক খেটে খাওয়া রিকশাচালক। দিনের উপার্জন থেকে টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন শুধু একটি ফুল কেনার জন্য, বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে। কিন্তু ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের মোড়ে তাঁকে আটকে দেয় সরকারের লোকজন।
তিনি ফিরে যান। কিন্তু তাঁর অশ্রুসিক্ত চোখ, বুকের হাহাকার হয়ে ওঠে কোটি শ্রমজীবী মানুষের প্রতিচ্ছবি। সে মুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে যায়—ইউনুস সরকারের বাধা ১৫ আগস্ট তাঁকে থামাতে পারেনি, বরং বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
শহীদ পরিবারের কান্না, যা স্তব্ধ করল জাতিকে
এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হাতে ফুল নিয়ে এসেছিলেন ধানমন্ডি ৩২-এ। তাঁর স্বপ্ন ছিল শহীদের উত্তরসূরী হয়ে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানানো। কিন্তু মব তাকেও আটকে দেয়।
ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাঁর কান্না, চোখের জল, আর্তি—“হায়! আমি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে পারলাম না।” এই দৃশ্য পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছে। মানুষ বুঝেছে, বাধা দিয়ে শ্রদ্ধার আগুন নেভানো যায় না।
ধর্মপ্রাণ মানুষের দোয়া ঠেকানো—আরও বড় অন্যায়
পিরোজপুর থেকে আসা এক মাওলানা পরিবারের সঙ্গে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের আত্মার মাগফিরাত কামনায়। কিন্তু তাকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেছিলেন, “একজন মুসলমান হয়ে আরেকজন মুসলমানের রুহের জন্য দোয়া করাও যদি অপরাধ হয়, তবে এর বিচার কে করবে?” এই প্রশ্ন যেন সারা দেশের অন্তর কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার বিপ্লব
যেখানে ফিজিক্যাল প্রবেশ থেমে গেছে, সেখানে মানুষের মন ছড়িয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে ঝড় উঠেছে শ্রদ্ধার। মানুষ ঘরে ঘরে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছেপে ফুল দিয়েছে, কবিতা লিখেছে, কার্ড বানিয়েছে, চোখের জলে ভিজিয়ে রেখেছে স্মৃতি।
এত বিশুদ্ধ ভালোবাসা আগে কখনো দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, কোটি টাকা খরচ করেও এমন আত্মিক শ্রদ্ধার ঢল আসেনি।
ইউনুস সরকারের বাধা ১৫ আগস্ট-কে বদলে দিল এক গণভালোবাসার আন্দোলনে।
বঙ্গবন্ধুর নতুন রূপে প্রত্যাবর্তন
আজ ইতিহাস বলছে—বঙ্গবন্ধুকে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রাজনৈতিক বন্দিশালায় আটকে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, তিনি ফিরে এসেছেন মানুষের হৃদয়ে।
রিকশাচালক আজিজুল, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, গ্রামের মাওলানা, শহরের ছাত্র—সবাই আজ বঙ্গবন্ধুকে নিজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছে।
তিনি নেতা নন, তিনি হয়ে উঠেছেন আত্মার প্রতীক। আজ মানুষ বলছে—বঙ্গবন্ধু ফিরে এসেছেন শ্রমিকের চোখের জলে, শহীদের স্তব্ধ কণ্ঠে, প্রার্থনার শব্দে, সন্তানের ভালোবাসায়।
শেষ কথা
এই শোক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দিল, ইতিহাসকে কেউ থামাতে পারে না। যে ভালোবাসা হৃদয় থেকে আসে, তাকে পুলিশ থামাতে পারে না। মব ঠেকাতে পারে না।
ইউনুস সরকারের বাধা ১৫ আগস্ট দিনটিকে নিষ্প্রাণ করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারাই বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ে ফেরার দিন গড়ে দিয়েছে।
বঙ্গবন্ধু আজও জীবন্ত। তিনি শুধু একটি নাম নন, তিনি একটি আদর্শ, একটি জাতির আত্মপরিচয়। তাঁর রক্ত, ত্যাগ, স্বপ্ন—আজও এই দেশের প্রতিটি হৃদয়ে ধ্বনিত হয়।
তুমি ফিরেছো, বঙ্গবন্ধু—শ্রমিকের অশ্রুতে, শহীদের কণ্ঠে, প্রার্থনার ধ্বনি, সন্তানের ভালোবাসায়। তুমি আছো, বাঙালির অনন্ত সত্তায়।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
‘যেখানে এনসিপি, সেখানেই গণধোলাই’—বিএনপি নেতার নির্দেশ

ডার্বি নাসীরকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক বক্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির নেতাকর্মীদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে ‘গণধোলাই’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপি নেতা ওই বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নন, এনসিপির অন্য নেতাদের বক্তব্যও রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। তাদের প্রতিহত করা না গেলে দিন দিন তাদের ‘আস্ফালন’ বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই গণধোলাই দিতে হবে।”
পরে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির অন্য নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এ ধরনের বক্তব্যের পর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপি নেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় তাদেরই বহন করতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ঢাকা শহরে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, তাঁদের তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না।
দেবীদ্বারে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১২০০ চারা বিতরণ

সবুজ-শ্যামল দেবীদ্বার গড়ার প্রত্যয়
আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ-শ্যামল, সুন্দর ও বাসযোগ্য দেবীদ্বার গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাজেদা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেবীদ্বার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মোল্লাবাড়িতে অবস্থিত সাজেদা ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে ফাউন্ডেশনের ১৬০ জন উপকারভোগী সদস্যের মাঝে ফলজ, বনজ ও কাঠজাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১ হাজার ২০০টি চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, ডালিম, লটকন, সেগুন, কাঠবাদামসহ বিভিন্ন জাতের গাছ।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বাংলাদেশ গ্রাম আদালতের দেবীদ্বার উপজেলা সমন্বয়কারী সাইফুল করিম খান, দেবীদ্বার থানার এএসআই মো. ইয়াকুব, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এটিএম রাশেদুজ্জামান সরকার, সূচনা ফাউন্ডেশন কুমিল্লার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম, এলাকা ব্যবস্থাপক মো. সোহেল রানা, এলাকা হিসাব ব্যবস্থাপক মো. নাসির উদ্দিন এবং সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার ইসমাইল হোসেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের দেবীদ্বার শাখা ব্যবস্থাপক দুলাল তুর্কী ও কুমিল্লা অঞ্চলের এগ্রিকালচার প্রোগ্রাম অফিসার রেদওয়ানুল হক। এ সময় ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপকারভোগী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বৃক্ষের চারা বিতরণের এ উদ্যোগ একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ফলজ গাছের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।
তবে শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না—গাছগুলো সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য উপকারভোগীদের নিজ নিজ চারার যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সাজেদা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লা অঞ্চলের ৩ হাজার ৫০০ উপকারভোগী সদস্যের মধ্যে মোট ২০ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দেবীদ্বারের এ কর্মসূচি সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই অংশ।
দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ, ২ ট্রাকসহ গ্রেফতার ৮

চান্দিনায় ট্রাক আটকে ফাঁস হলো দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ
বন্ধকী সম্পদ সরানোর সময় দুই ট্রাক জব্দ
কুমিল্লার দেবীদ্বারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির কাছে বন্ধকীকৃত উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের প্রায় ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ১২ হাজার ৯৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ ও বিভিন্ন মালামালসহ দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের আসাদনগর এলাকায় অবস্থিত উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ভেতর থেকে এসব মালামাল বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনালী ব্যাংক পিএলসির ঢাকা স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। মামলায় এজহারনামীয় ১২ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেফতার আটজন হলেন—ট্রাকচালক মো. রনি (২০), হেলপার ইয়াকুব মুন্সি (১৯), চালকের সহযোগী সুলতান (৩৪), অপর ট্রাকের চালক শাহআলম (৩২), হেলপার আরাফাত (১৮) এবং কথিত পাচারকাজের সহযোগী ফরহাদ হোসেন (৫০), মো. মকবুল হোসেন (৭৪) ও মো. নুরুল আমিন (৩৭)।
মামলায় মিলের মালিকপক্ষের আবুল বাশার ও সায়রা হায়দারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক পিএলসির স্থানীয় কার্যালয়, ঢাকার মামলাকৃত ও শ্রেণীকৃত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (সংশোধন ২০১০) অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২০ মার্চ অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১০০১/২০২৪।
অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার রাতে মিলের মালিকপক্ষ ব্যাংকের কাছে বন্ধকীকৃত সম্পত্তির বিপুল পরিমাণ মালামাল মিল থেকে বের করে ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করে।
মালামাল নিয়ে দুটি ট্রাক দেবীদ্বার থেকে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা সুমনের ভাঙারি দোকানের সামনে ট্রাক দুটি আটক করে। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং চালক ও সহযোগীদের আটক করে।
পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১০৮৩ নম্বর ট্রাক থেকে ৮ হাজার ৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ এবং ঢাকা মেট্রো-ন-২১-৫৩৫৮ নম্বর ট্রাক থেকে ৪ হাজার ৯০০ কেজি স্পিনিং মেশিনের মোটর ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। দুটি ট্রাক থেকে মোট ১২ হাজার ৯৫৫ কেজি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল দেবীদ্বার থানা এলাকায় হওয়ায় চান্দিনা থানা পুলিশ জব্দ করা ট্রাক ও মালামাল এবং আটক ব্যক্তিদের দেবীদ্বার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
দেবীদ্বার থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




























