প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

মঠবাড়িয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

IMG 20260502 WA0001
পিরোজপুর প্রতিনিধি

মঠবাড়িয়ায় গাঁজা উদ্ধার ঘটনায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় তালাবদ্ধ একটি বসতঘর থেকে প্রায় ৩০ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১ মে) রাতে মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আরামবাগ এলাকার ‘মাওলানা মঞ্জিল’ নামক একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচার কার্যক্রম চলছিল বলে অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে ‘মাওলানা মঞ্জিল’ নামক বাড়িটিকে ঘিরে নানা সন্দেহ ও অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নজরে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

পরবর্তীতে নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বাড়িটির মালিক মাওলানা মো. নাসিরের ভাড়াটিয়া সাজেদুল রহমান মজিদের ব্যবহৃত একটি তালাবদ্ধ কক্ষ তল্লাশি করা হয়। এ সময় কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ১৫টি প্যাকেটের মধ্যে প্রায় ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যায়। ফলে এ ঘটনায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানায়, পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, মঠবাড়িয়ায় গাঁজা উদ্ধার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটছিল এবং প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তারা দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের বাজারমূল্য আনুমানিক ১৫ লাখ টাকা।

তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মঠবাড়িয়ায় গাঁজা উদ্ধার এর মতো ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ওসি আরও বলেন, মঠবাড়িয়া উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের বিস্তার পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হলেও, কিছু এলাকায় এখনো গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অসাধু চক্র। মঠবাড়িয়ায় গাঁজা উদ্ধার এর মতো ঘটনা সেই চিত্রই তুলে ধরে।

‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পর চাঁদাবাজি ও দখল অনেকাংশে কমেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

প্রিন্ট করুন