শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

এনসিপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ—দলে আবেদন করেও বাদ পড়লেন আলোচিত মাদকাসক্ত রিকশাচালক সুজন

ফাহিমা বেগম প্রিয়া প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:১১ পিএম
এনসিপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ—দলে আবেদন করেও বাদ পড়লেন আলোচিত মাদকাসক্ত রিকশাচালক সুজন

এনসিপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ: বাদ পড়লেন রিকশাচালক সুজন | ১২৫ আসনের সম্পূর্ণ তালিকা

এনসিপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম ধাপে ১২৫টি আসনের প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে দলটি। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

তবে তালিকায় নেই গত বছরের কথিত জুলাইয়ের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি স্যালুট দিয়ে রাতারাতি আলোচনায় উঠে আসা মাদকাসক্ত রিকশাচালক সুজনের নাম। ঢাকা–৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা থেকে গত ২০ নভেম্বর এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এনসিপির প্রার্থী তালিকা–তে তাকে মনোনয়ন দেয়নি দল।

এ বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন,
“আমরা মনোনয়নপত্র বিতরণ সম্পন্ন করেছি। আজ প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করছি। যাদের নাম প্রকাশ করেছি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।”


উত্তরাঞ্চলের আসনে যাদের মনোনয়ন

পঞ্চগড়-১ আসনে মো. সারজিস আলম, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মো. রবিউল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মো. গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুর-৩ আসনে আ হ ম শামসুল মুকতাদির, দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. মো. আব্দুল আহাদ, নীলফামারী-২ আসনে ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পন, নীলফামারী-৩ আসনে মো. আবু সায়েদ লিয়ন, লালমনিরহাট-২ আসনে রাসেল আহমেদ, লালমনিরহাট-৩ আসনে মো. রকিবুল হাসান মনোনয়ন পেয়েছেন।

রংপুর-১ এ মো. আল মামুন, রংপুর-৪ এ আখতার হোসেন, কুড়িগ্রাম-১ এ মো. মাহফুজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ এ ড. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ এ ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু সাঈদ জনি, গাইবান্ধা-৩ এ মো. নাজমুল হাসান সোহাগ, গাইবান্ধা-৫ এ ডা. আ. খ. ম. আসাদুজ্জামান, জয়পুরহাট-১ এ গোলাম কিবরিয়া, জয়পুরহাট-২ এ আবদুল ওয়াহাব দেওয়ান কাজল, বগুড়া-৬ এ আব্দুল্লাহ-আল-ওয়াকি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ এ মু. নাজমুল হুদা খান (রুবেল খান) প্রার্থী হচ্ছেন।


রাজশাহী ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রার্থী

নওগাঁ-১ এ কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, নওগাঁ-২ এ মো. মাহফুজার রহমান চৌধুরী, নওগাঁ-৩ এ পরিমল চন্দ্র (উরাও), নওগাঁ-৪ এ মো. আব্দুল হামিদ, নওগাঁ-৫ এ মনিরা শারমিন মনোনীত হয়েছেন।

নাটোর-২ এ আব্দুল মান্নাফ, নাটোর-৩ এ অধ্যাপক এস. এম. জার্জিস কাদির, সিরাজগঞ্জ-৩ এ দিলশানা পারুল, সিরাজগঞ্জ-৪ এ দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি), সিরাজগঞ্জ-৫ এ মনজুর কাদের ও সিরাজগঞ্জ-৬ এ এস এম সাইফ মোস্তাফিজও মনোনয়ন পেয়েছেন।

এ ছাড়া পাবনা-৪ এ অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুল মজিদ, মেহেরপুর-১ এ মো. সোহেল রানা, মেহেরপুর-২ এ অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, চুয়াডাঙ্গা-১ এ মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, ঝিনাইদহ-১ এ অ্যাডভোকেট লাবাবুল বাসার (দয়াল বাসার), যশোর-৪ এ মো. শাহজাহান কবীর, মাগুরা-২ এ মোহাম্মাদ তরিকুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ এ মোল্যা রহমাতুল্লাহ, খুলনা-১ এ মো. ওয়াহিদ উজ জামান, খুলনা-২ এ ফরিদুল হক, পটুয়াখালী-১ এ অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা ও পটুয়াখালী-২ এ মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন মনোনয়ন পেয়েছেন।


বরিশাল ও মধ্যাঞ্চলের প্রার্থী

ভোলা-১ এ অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান, বরিশাল-৪ এ আবু সাঈদ মুসা, বরিশাল-৫ এ মো. নুরুল হুদা চৌধুরী, ঝালকাঠি-১ এ ডা. মাহমুদা আলম মিতু, পিরোজপুর-৩ এ ড. মো. শামীম হামিদী মনোনীত হয়েছেন।

টাঙ্গাইল-১ এ সাইদুল ইসলাম (শহিদ সাজিদের পরিবার), টাঙ্গাইল-৩ এ সাইফুল্লাহ হায়দার, টাঙ্গাইল-৫ এ মাসুদুর রহমান রাসেল, টাঙ্গাইল-৭ এ খন্দকার মাসুদ পারভেজ, জামালপুর-৪ এ ডা. মো. মোশাররফ হোসেন, শেরপুর-১ এ ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া ও শেরপুর-২ এ খোকন চন্দ্র বর্মণ মনোনয়ন পেয়েছেন।

ময়মনসিংহ-১ এ মো. আবু রেহান, ময়মনসিংহ-৩ এ কবি সেলিম বালা, ময়মনসিংহ-৫ এ মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, ময়মনসিংহ-৬ এ জাবেদ রাসিন, ময়মনসিংহ-৭ এ অ্যাডভোকেট এ. টি. এম. মাহবুব-উল আলম, ময়মনসিংহ-৯ এ আশিকিন আলম (রাজন), ময়মনসিংহ-১১ এ তানহা শান্তা, নেত্রকোণা-২ এ ফাহিম রহমান খান পাঠান, নেত্রকোণা-৩ এ প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন সিদ্দিকী (শামীম), কিশোরগঞ্জ-২ এ আবু সাঈদ (সাঈদ উজ্জ্বল), কিশোরগঞ্জ-৩ এ শেখ খায়রুল কবির আহমেদও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।


ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী

মুন্সিগঞ্জ-১ এ আলী নেওয়াজ, মুন্সিগঞ্জ-২ এ মাজেদুল ইসলাম, ঢাকা-১ এ মো. রাসেল আহমেদ, ঢাকা-৪ এ ডা. জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা-৫ এ এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা-৭ এ তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-৯ এ ডা. তাসনিম জারা, ঢাকা-১১ এ মো. নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১২ এ নাহিদা সারওয়ার নিভা, ঢাকা-১৩ এ আকরাম হুসাইন, ঢাকা-১৫ এ অবসরপ্রাপ্ত মেজর মুহাম্মদ আলমগীর ফেরদৌস, ঢাকা-১৬ এ আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা-১৭ এ ডা. তাজনূভা জাবীন, ঢাকা-১৮ এ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-১৯ এ ফয়সাল মাহমুদ শান্ত ও ঢাকা-২০ এ ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ এনসিপির প্রার্থী তালিকা–তে মনোনয়ন পেয়েছেন।

গাজীপুর-৬ এ ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, নরসিংদী-১ এ মো. আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, নরসিংদী-২ এ সারোয়ার তুষার, নরসিংদী-৪ এ ডা. মো. মামুনুর রহমান জাহাঙ্গীর, নরসিংদী-৫ এ মো. নাজমুল হক সিকদার, নারায়ণগঞ্জ-৪ এ অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ-৫ এ আহমেদুর রহমান তনুও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।


দক্ষিণাঞ্চলের মনোনীত প্রার্থী

গোপালগঞ্জ-১ এ প্রলয় কুমার পাল, গোপালগঞ্জ-৩ এ মো. আরিফুল দাড়িয়া, শরীয়তপুর-১ এ মো. আব্দুর রহমান, সিলেট-১ এ এহতেশাম হক, সিলেট-৩ এ ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, সিলেট-৪ এ মো. রাশেল উল আলম, মৌলভীবাজার-৪ এ প্রীতম দাশ, হবিগঞ্জ-৪ এ নাহিদ উদ্দিন তারেক মনোনয়ন পেয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এ মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ এ মো. আতাউল্লাহ, কুমিল্লা-৪ এ হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা-৬ এ নাভিদ নওরোজ শাহ, চাঁদপুর-১ এ আরিফুল ইসলাম, চাঁদপুর-২ এ ইসরাত জাহান বিন্দু, চাঁদপুর-৫ এ মো. মাহাবুব আলম, ফেনী-৩ এ মোহাম্মাদ আবুল কাশেম মনোনয়ন পেয়েছেন।

নোয়াখালী-১ এ ব্যারিস্টার মো. ওমর ফারুক, নোয়াখালী-৫ এ অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, নোয়াখালী-৬ এ আব্দুল হান্নান মাসউদ, চট্টগ্রাম-৬ এ মহিউদ্দিন জিলানী, চট্টগ্রাম-৮ এ মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম-৯ এ মো. রিয়াজুল আনোয়ার চৌধুরী সিন্টু, চট্টগ্রাম-১০ এ সাগুফতা বুশরা মিশমা, চট্টগ্রাম-১১ এ মোহাম্মদ আজাদ দোভাষ, চট্টগ্রাম-১৩ এ জুবাইরুল আলম মানিক, চট্টগ্রাম-১৪ এ মুহাম্মদ হাসান আলীম, চট্টগ্রাম-১৫ এ আবদুল মাবুদ সৈয়দ ও চট্টগ্রাম-১৬ এ মীর আরশাদুল হক মনোনয়ন পেয়েছেন।

কক্সবাজার-১ এ মো. মাইমুল আহসাম খান, কক্সবাজার-২ এ আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, কক্সবাজার-৪ এ মুহাম্মদ হোসাইন, খাগড়াছড়িতে অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা, রাঙামাটিতে প্রিয় চাকমা এবং বান্দরবানে মংসা প্রু চৌধুরীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


এলাকার খবর

স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণরক্ষা

ঝালকাঠিতে শিশুকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ মায়ের, স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল দুজন

গাজী গিয়াস উদ্দিন বশির | ঝালকাঠি প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ঝালকাঠিতে শিশুকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ মায়ের, স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল দুজন

ঝালকাঠির নলছিটিতে পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন এক নারী। তবে স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা দুজনই নিরাপদ রয়েছেন।

 প্রতিবেদনের হাইলাইটস


  • শুক্রবার রাতে ঝালকাঠির নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

  • পাঁচ বছর বয়সী কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন এক নারী।

  • স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

  • উদ্ধারের পর দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তারা নিরাপদ রয়েছেন।

  • ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ; অভিযোগের বিষয়ে অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার হওয়া নারীর নাম লাকি আক্তার। তিনি নলছিটি শহরের বাসিন্দা আদম আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাকি আক্তার তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে হঠাৎ সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

লাকি আক্তারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল। কিছুদিন আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর সাবেক স্বামীর পক্ষ থেকে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এ কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং আবেগপ্রবণ হয়ে এমন পদক্ষেপ নেন বলে জানান।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মা ও শিশু বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা সাইদুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেবীদ্বারে ১৫০ জনের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ৩০ রোগীকে ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম
দেবীদ্বারে ১৫০ জনের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ৩০ রোগীকে ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং চক্ষুরোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনে প্রায় ১৫০ জন চক্ষুরোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছানি আক্রান্ত ৩০ জন রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য নিজস্ব পরিবহনে কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 প্রতিবেদনের হাইলাইটস

  • 👁️ দেবীদ্বারের বাকসার উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা শিবির।
  • 💊 প্রায় ১৫০ জন চক্ষুরোগীকে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
  • 🏥 ছানি আক্রান্ত ৩০ জন রোগীকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
  • 🤝 বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতাল এবং সমাজসেবক মো. আবুল কালাম আজাদের সহযোগিতায় কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
  • 🌿 সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় ৯ নম্বর গুনাইঘর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে এ ধরনের চক্ষু চিকিৎসা শিবির পর্যায়ক্রমে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজক।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেবীদ্বার উপজেলার বাকসার উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালের আয়োজনে এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দেবীদ্বার গ্রীণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল কালাম আজাদের সহযোগিতায় এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি (বিআইসিও) এবং কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালের অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের চোখ পরীক্ষা, ছানি রোগী শনাক্তকরণ, বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি যাদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল, তাদের মধ্যে ৩০ জনকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেন ডা. মো. রায়হান মাহমুদ আশিক, শাহাদাৎ হোসেন, সমীর রঞ্জন দাস, আব্দুর রায়হান, আব্দুল হান্নান, মো. আবির ও দুলাল মিয়াসহ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার মো. শাহজাহান।

আয়োজক ও সমাজসেবক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলাকার অসচ্ছল ও বয়স্ক মানুষের অনেকেই অর্থাভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ৯ নম্বর গুনাইঘর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রামে কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় সফলভাবে এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

৪০ দিন বন্ধ উৎপাদন

গ্যাস সংকটে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
গ্যাস সংকটে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার

গ্যাস সংকটের কারণে চলতি অর্থবছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি দেশের বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। টানা ৪০ দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন কম সার উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

  প্রতিবেদনের হাইলাইটস

  • গ্যাস সংকটে টানা ৪০ দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা।
  • ৮.৫০ লাখ মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৭,৬৪,৫৩৫ মেট্রিক টন
  • লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কম উৎপাদিত হয়েছে।
  • ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯.৪০ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গ্যাসের সংকটের কারণে দীর্ঘ ৪০ দিন উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অর্থবছর শেষে মোট উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলাম।

তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব এই আধুনিক কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন এবং বছরে প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জিত হলেও চলতি অর্থবছরে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উৎপাদন কমে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টনে নেমে আসে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কম উৎপাদিত হয়েছে।

তবে এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নতুন অর্থবছরের জন্য উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এবং যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, এমনকি অতিক্রম করাও সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, উৎপাদন শুরুর প্রথম বছরেই ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান।

এর আগে দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা দৈনিক ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষম ঘোড়াশাল সার কারখানা এবং ৩০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষম পলাশ সার কারখানা ভেঙে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একীভূত ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণ করা হয়।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীনে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১০ একর জমির ওপর নির্মিত কারখানাটির উদ্বোধন করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে। পরে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন, যা দেশের সার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

×
CLOSE X