
বাহুবলে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ হাজার পশু ঘিরে ঈদুল আজহার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজাজুড়ে। কোরবানিকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ৪ হাজার ১১৩টি গবাদিপশু। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও অতিরিক্ত পশু থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৮৬৫টি গরু, ৫টি মহিষ, ১ হাজার ১২৭টি ছাগল এবং ১১৫টি ভেড়া। বিভিন্ন জাতের গরুর গড় মূল্য ধরা হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার গড় মূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে, উপজেলার মোট চাহিদা প্রায় ৪ হাজার পশু হলেও অতিরিক্ত ১১৩টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে গবাদিপশু উঠতে শুরু করেছে। খামারিরা ঘাস, খড়, ভুসি ও দানাদার খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করেছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু ও ছাগলের পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
সরেজমিনে বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার নানা এলাকা থেকে খামারিরা গরু ও ছাগল বিক্রির জন্য বাজারে আনছেন। তবে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বাজার।
বিক্রেতা জাহাঙ্গীর, তাজুল ইসলাম ও সৌরভ মিয়া জানান, বর্তমানে ক্রেতারা পশুর দাম কিছুটা কম বলছেন। তবে পশু পালনে খরচ বেড়েছে। তাই ব্যয় বাদ দিয়ে সন্তোষজনক লাভ হলেই পশু বিক্রি করতে চান তারা।
অন্যদিকে, ক্রেতারাও সাধ্যের মধ্যে ভালো পশু খুঁজছেন। ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য তার বাজেট ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু পছন্দের বেশিরভাগ পশুর দাম বাজেটের চেয়ে বেশি। এজন্য তিনি কয়েকটি বাজার ঘুরেও এখনো পশু কেনেননি।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর আহমদ বলেন, কোরবানিকে সামনে রেখে কোনো খামারি যাতে কৃত্রিম উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণ না করতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি খামারিদের সচেতন করতে উঠান বৈঠক ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ঈদ পর্যন্ত দুটি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে নিয়মিত তদারকি করবে।
বাহুবলে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ হাজার পশু ঘিরে খামারি ও ক্রেতাদের মাঝে ইতোমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

