আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ফজলুর রহমানের
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
সোমবার (১ জুন) কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরাঞ্চলে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি দুই নেতার কঠোর সমালোচনা করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বক্তব্যে ফজলুর রহমান দাবি করেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসা কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রশাসনিক পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। একই ধরনের অভিযোগ তিনি সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধেও উত্থাপন করেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি অনুষ্ঠানে কোনো লিখিত বা প্রামাণ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ কিংবা হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ফজলুর রহমান সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ওই সময় দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং তরুণ প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান তরুণ সমাজকে সুস্থ রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের ধারায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তার অভিযোগ ও মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে যুক্ত করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী