
আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে সাংবাদিক গ্রেপ্তার? শার্শায় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পুলিশি অভিযান
নামের মিল নাকি পরিচয় বিভ্রান্তি—কারাগারে সাংবাদিক, প্রশ্ন তুলছেন স্বজন ও সহকর্মীরা
যশোরের শার্শা উপজেলায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে আটক করে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে একজন সাংবাদিককে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার গভীর রাতে শার্শা উপজেলার জামতলা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আসাদুজ্জামানকে আটক করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, আটকের সময় পুলিশ কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা লিখিত নথি প্রদর্শন করেনি। পাশাপাশি আটকের সুনির্দিষ্ট কারণও জানানো হয়নি।
পরে জানা যায়, তাকে আওয়ামী লীগের শার্শা উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তবে এ তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার স্বজন ও আইনজীবীরা।
পরিবারের দাবি, আসাদুজ্জামান একজন পেশাদার সাংবাদিক। তিনি একসময় শার্শা সরকারি মহিলা কলেজে প্রদর্শক (ডেমোনস্ট্রেটর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অতীতে আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি কোনো রাজনৈতিক পদে নেই। বিশেষ করে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেওয়াকে তারা সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন।
এদিকে পুলিশ বলছে, সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। শার্শা থানার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাটি ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাত নেতার নাম উল্লেখ থাকলেও সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের নাম নেই বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, একই নামের এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে পরিচয় বিভ্রান্তির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। তবে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শার্শা ও বেনাপোলের সাংবাদিকরা। তারা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে অবিলম্বে আসাদুজ্জামানের মুক্তি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা এ ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ ও ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ উল্লেখ করে বলেন, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে তাকে অভিযুক্ত করা হলে তা আইনি ও নৈতিক উভয় দিক থেকেই গুরুতর বিষয়।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পরিচয় যাচাই এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি এখন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

