সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার ও জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ নিয়েও গ্রেফতার সাংবাদিক শাহজাদা এমরান

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৩:০৫ পিএম
সরকার ও জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ নিয়েও গ্রেফতার সাংবাদিক শাহজাদা এমরান

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • “আঙ্কেল গেইটটা খোলেন না” বইয়ে সরকারের পক্ষের অবস্থানকে সমর্থন, উপদেষ্টার অভিনন্দনও পেয়েছিলেন—তবুও রাষ্ট্রবিরোধী তকমা দিয়ে আটক সরকারের পক্ষের লেখক গ্রেফতার—এমন ঘটনা বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের ইতিহাসে এক ভয়ঙ্কর বাঁক।
  • ২০২৪ সালের “গণঅভ্যুত্থান” নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে প্রকাশ্যে লিখে প্রশংসিত হওয়া সাংবাদিক ও লেখক শাহজাদা এমরান এখন নিজেই রাষ্ট্রীয় দমননীতির শিকার।
  • সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর সময় তাকে আটক করেছে বিজিবি।

“আঙ্কেল গেইটটা খোলেন না” বইয়ে সরকারের পক্ষের অবস্থানকে সমর্থন, উপদেষ্টার অভিনন্দনও পেয়েছিলেন—তবুও রাষ্ট্রবিরোধী তকমা দিয়ে আটক

সরকারের পক্ষের লেখক গ্রেফতার—এমন ঘটনা বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের ইতিহাসে এক ভয়ঙ্কর বাঁক। ২০২৪ সালের “গণঅভ্যুত্থান” নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে প্রকাশ্যে লিখে প্রশংসিত হওয়া সাংবাদিক ও লেখক শাহজাদা এমরান এখন নিজেই রাষ্ট্রীয় দমননীতির শিকার। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর সময় তাকে আটক করেছে বিজিবি। বর্তমানে তিনি একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার হেফাজতে আছেন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এই গ্রেফতার এমন এক সময়ে ঘটল, যখন শাহজাদা এমরান তার আলোচিত বই “আঙ্কেল গেইটটা খোলেন না—গণঅভ্যুত্থান, কুমিল্লা ২০২৪” প্রকাশ করে সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকার ও তথাকথিত জুলাই বিপ্লবীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এই গ্রন্থে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে রাষ্ট্র পরিবর্তনের বৈধ চেষ্টার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার লেখায় বর্তমান সরকারের উত্থানকে ‘ঐতিহাসিক প্রয়োজনে সৃষ্ট রাজনৈতিক সমাধান’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। শুধু তাই নয়, বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি। এমনকি বইটি গ্রহণ করে লেখককে সরাসরি অভিনন্দন জানান অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। সেই বই আজ সরকারি গ্রন্থাগারেও ঠাঁই পেয়েছে।

সরকারের পক্ষের
যিনি বই লিখেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ নিয়ে, তাকেই আজ জেরা করা হচ্ছে রাষ্ট্রদ্রোহে! ছবিতে খাদ্য উপদেস্টা আলী ইমাম মজুমদারকে দেখা যাচ্ছে সাংবাদিক শাহজাদা এমরানের লেখা বইটি পড়ছেন- ছবি : সংগৃহিত

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, এমন একজন সরকারঘেঁষা লেখককেই এখন রাষ্ট্র ‘রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার’ অভিযোগে আটকে রেখেছে। সূত্রমতে, বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারী সীমান্তে শাহজাদা এমরান ও তার সঙ্গী তরিকুল ইসলাম করুন (ছদ্মনাম)—যিনি কুমিল্লার সিডি প্যাড হাসপাতালে চাকরি করেন ও কথিত সাংবাদিক—তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এরপর তাদের যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ভারতে গমন করে বর্তমান সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খানের সঙ্গে গোপন সাক্ষাৎ। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সন্দেহ করছে, এদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বা নথিপত্র থাকতে পারে, কিংবা তারা কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন।

অন্যদিকে দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর শাহজাদা এমরানের পরিবার ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যপক লেখালেখি শুরু করে। তাদের চাপের মুখেই আজ শনিবার দুপুরে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় শাহজাদা এমরান ও তার সহযোগীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংবাদিক মহলে নিন্দার ঝড় বইছে। বিএমএসএফ’র উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার বলেন—

“যিনি সরকারপন্থী বই লিখে মঞ্চে অভিনন্দন পান, তাকেও যদি সরকার গ্রেফতার করে, তাহলে বাকস্বাধীনতা বলে আর কিছু থাকে না। এটি ভয় দেখানোর কৌশল, যেখানে সরকারের জন্য কলম ধরা বুদ্ধিজীবীরাও নিরাপদ নন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্র এখন এমন এক আতঙ্ক ও অনাস্থার জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে নিজের তৈরি করা বুদ্ধিজীবী বা প্রচারকেও বিশ্বাস করতে পারছে না। এমন বাস্তবতায় কেউই নিরাপদ নয়—না বিরোধী, না সমর্থক। শাসনব্যবস্থা আজ এতটাই দুর্বল ও দুর্ভাবনায় নিমজ্জিত যে, বন্ধুকেও শত্রু মনে করছে। রাষ্ট্র এখন আর পার্থক্য করছে না—কে সমালোচক, আর কে প্রশংসাকারী।

বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে এই ধরনের ‘সফট টার্গেট’ তৈরি করে রাষ্ট্র মূলত সাংবাদিক সমাজে ভয় ও নীরবতা চাপিয়ে দিতে চায় বলে মনে করছে নাগরিক সমাজ। শাহজাদা এমরানের গ্রেফতার সেই ভয়ের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

সরকারের পক্ষের লেখক গ্রেফতার—এই বার্তাটি এখন শুধু একজন সাংবাদিককে আটক করার ঘটনা নয়, এটি হলো রাষ্ট্রের আত্মঘাতী দ্বন্দ্বের দলিল। যে রাষ্ট্র নিজের মুখপাত্রদের বিশ্বাস করে না, সেই রাষ্ট্র নিজের জনগণকে কীভাবে বিশ্বাস করবে?

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুকে ধারাবাহিক পোস্ট, আইডি চালাচ্ছেন কে?

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুকে ধারাবাহিক পোস্ট, আইডি চালাচ্ছেন কে?

অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন প্রশ্ন, সামনে এলো ৫ হাজার টাকা ও আইফোনের তথ্য

ছেলের শোকে কাতর মা, তবু ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট; হত্যার নেপথ্য নিয়ে নিজেই দিলেন নতুন তথ্য

কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর তার মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত এই মায়ের ব্যক্তিগত ফেসবুক কার্যক্রমও এখন আলোচনায় এসেছে।

‘নাদিদা নাহিদ’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে নিয়মিত পোস্ট ও অপ্রতিমকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে। সর্বশেষ, এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেও ওই আইডি থেকে অপ্রতিমের হত্যা নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের সঙ্গে অপ্রতিম ও আইফোনসহ চারটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে অপ্রতিমের মা দাবি করেছেন, শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাই নয়, অপ্রতিমের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।

পোস্টে তিনি লেখেন, অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে টিকটক ভিডিও বানাতে বের হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যরা আগে থেকেই ফোনটি নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিল এবং তাদের পরিকল্পনা ছিল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া। এ পরিকল্পনার সঙ্গে ‘তুহিন’ নামের একজন জড়িত ছিলেন বলেও পোস্টে দাবি করা হয়।

পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, তুহিন অপ্রতিমকে নিয়ে পাহাড়ের প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে চলে যায়। পরে আরও দুজন সেখানে যোগ দেয়। তিনজন মিলে অপ্রতিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তার মাথায় আঘাত করে। সেখানেই অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হয় বলে দাবি করেছেন তার মা।

তবে পোস্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে—অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোরকে অপ্রতিম ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সম্প্রতি অপ্রতিম সেই টাকা ফেরত চাইছিল। এতে ওই কিশোর বিরক্ত হয়ে পড়েছিল এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করতে পারে বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, তুহিনকে আটক করার পরও সে অন্যদের বিষয়ে তথ্য দেয়নি। ওই সময় তুহিনের মোবাইলে বারবার ফোন আসছিল। পোস্টদাতার দাবি, ফোনগুলো করছিল সেই কিশোর—যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল।

অপ্রতিমের মা আরও দাবি করেন, ওই কিশোর পাহাড়ে যাওয়ার সময় নিজের মোবাইল সঙ্গে নেয়নি, যাতে তার অবস্থান শনাক্ত করা না যায়। পোস্টে তার বয়স ১৫ বছর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অপ্রতিমের মায়ের দাবি, অপ্রতিমের বন্ধুদের অধিকাংশই তার চেয়ে বয়সে বড় ছিল। একই সঙ্গে অপ্রতিম নিজে কোথা থেকে ৫ হাজার টাকা পেয়েছিল এবং কেন অন্য একজনকে সেই টাকা ধার দিয়েছিল—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এর আগে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার জানান, ফাহাদ ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে কাজ শুরু করেছিলেন।

এ ছাড়া ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলেও মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অপ্রতিমের মা মনে করেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার মা। তিনি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স-সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের একটি ফেসবুক পোস্টও অপ্রতিমের মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় আসে। কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ওই পোস্ট করেছিলেন ড. নাহিদা বেগম। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার চেষ্টা করার কথা জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার মা জানিয়েছিলেন, “ওই ছিল আমাদের সব। ওকে ঘিরেই আমাদের কত স্বপ্ন ছিল, কত পরিকল্পনা ছিল। ওর হাসি, ওর কথা, ওর ছোট ছোট আবদারেই আমাদের ঘরটা ভরে থাকত। আজ সেই ঘরেই ও নেই, ওর বই-খাতা আছে, বিছানায় ওর জিনিসপত্র আছে, কিন্তু ও নেই।”

অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারও ছেলের হত্যার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

অপ্রতিম ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, কারা কীভাবে জড়িত এবং ফেসবুক পোস্টে উঠে আসা নতুন তথ্যগুলোর সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—তা তদন্তের বিষয়।

দৈনিক আজকের কথা
অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
— ড. কামরুন নাহার
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অপ্রতিম হত্যায় নতুন প্রশ্ন: আসামিরা সত্যিই কিশোর তো? ডিএনএ টেস্ট চান মা

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৯ পিএম
অপ্রতিম হত্যায় নতুন প্রশ্ন: আসামিরা সত্যিই কিশোর তো? ডিএনএ টেস্ট চান মা

কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে পুরোনো বিরোধের যোগসূত্র খতিয়ে দেখার দাবি, প্রয়োজনে আইন সংশোধনেরও আহ্বান

কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন তথ্য ও তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তার মা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে কিশোর কি না—তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য ও দাবি তুলে ধরা হয়। অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে কুবি শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন, ইউট্যাব কুবি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও হলের প্রভোস্টরা।

মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহার জানান, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে (১৬) ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

অপ্রতিমের মা মনে করছেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তার দ্বিতীয় দাবি, মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

দৈনিক আজকের কথা
আমি অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
— ড. কামরুন নাহার
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, আসামিদের ভূমিকা এবং তাদের বয়স নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন অপ্রতিমের মা।

আদমদীঘিতে বাবার চেয়ে মেয়ের বয়স ১৫ বছর বেশি!

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম
আদমদীঘিতে বাবার চেয়ে মেয়ের বয়স ১৫ বছর বেশি!

এনআইডিতে মেয়ের জন্ম ১৯২২, জন্মনিবন্ধনে ১৯৮৯

বগুড়ার আদমদীঘিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের ভুলে অদ্ভুত বিড়ম্বনায় পড়েছেন রাজিয়া সুলতানা নামে এক নারী। সরকারি নথিতে তাঁর বয়স বাবার চেয়েও ১৫ বছর বেশি দেখাচ্ছে। এনআইডির তথ্য অনুযায়ী, রাজিয়ার জন্ম ১৯২২ সালের ২০ জুন। সে হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স ১০৪ বছর। অথচ তাঁর বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের এনআইডিতে জন্মতারিখ ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। সে হিসাবে বাবার বয়স ৮৯ বছর।

অর্থাৎ সরকারি নথির হিসাব অনুযায়ী, মেয়ের বয়স বাবার চেয়ে ১৫ বছর বেশি!

জানা গেছে, রাজিয়া সুলতানা আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ইন্দইল গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম খন্দকারের সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

রাজিয়ার জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১৯৮৯ সালের ১২ এপ্রিল। সেই হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল করে জন্মতারিখ ১৯২২ সালের ২০ জুন উল্লেখ হওয়ায় সরকারি নথিতে তাঁর বয়স দেখাচ্ছে ১০৪ বছর।

অন্যদিকে, রাজিয়ার বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের এনআইডি অনুযায়ী জন্ম ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। সে হিসাবে তাঁর বয়স ৮৯ বছর। ফলে এনআইডির তথ্য অনুযায়ী বাবা-মেয়ের বয়সের হিসাবেই তৈরি হয়েছে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।

ভুক্তভোগী রাজিয়া সুলতানার অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্টদের ভুলের কারণে তাঁর প্রকৃত জন্মসাল ১৯৮৯-এর পরিবর্তে ১৯২২ লেখা হয়েছে। এই ভুল সংশোধনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি তিনি।

এনআইডির তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত বয়সের মিল না থাকায় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে তাঁকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলেও জানান রাজিয়া।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

×
ENG