

প্রবাসীরা দেশে ফিরলে যেন পান আপন মাটির অনুভূতি
প্রবাসীদের সেবায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে বিমান খাতের বিভিন্ন জটিলতা দূর করে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি সুনামধন্য অবস্থানে নিয়ে যেতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য আরও উন্নত ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের হরিজন পল্লি পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বিমান খাতে দীর্ঘদিনের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দুই-তিন মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি যাতে দ্রুত এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বিমানকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।”
তিনি আরও বলেন, “বিদেশে অবস্থানরত লাখো প্রবাসী আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের জন্য আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই আমার অন্যতম দায়িত্ব। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। অতীতের তুলনায় বিমানবন্দর ও বিমানসেবার পরিবেশ এখন অনেক উন্নত হয়েছে।”
আফরোজা খানম রিতা অভিযোগ করে বলেন, কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার সেবার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমাদের মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রবাসী ভাই-বোনেরা। আমরা প্রবাসীদের সেবায় সর্বোচ্চ গুরত্ব দিচ্ছি। তারা যেন বিদেশে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারেন এবং দেশে ফিরে বিমানবন্দরে নেমেই নিজের দেশের আন্তরিকতা ও টান অনুভব করেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।”
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীদের যাত্রা সহজ, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব উদ্যোগের সুফল আরও দৃশ্যমান হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতেও অংশ নেন অনেক তরুণ-তরুণী।