প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

বাবা শহীদ ’৭১-এ, ছেলের জন্ম ’৮১-তে; এমপি মুনতাকিমের বক্তব্য ঘিরে তোলপাড়

এমপি মুনতাকিম বিতর্ক
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

জাতীয় সংসদে নিজের পরিবারের মুক্তিযুদ্ধের অবদান তুলে ধরে দেওয়া বক্তব্যের পর নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংসদে তিনি দাবি করেন, তার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তবে তার প্রকাশিত জন্মসালের তথ্য সামনে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি আব্দুল মুনতাকিম বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচারা) সাত ভাই, তাদের মধ্যে চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, তাদের মধ্যে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে মোট ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।”

সংসদে দেওয়া এই বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্যসূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। সে হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রায় এক দশক পর তার জন্ম হয়েছে।

এ তথ্য সামনে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি তার বাবা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে থাকেন, তাহলে ১৯৮১ সালে তার জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো?

বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ কেউ সংসদে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন, আবার কেউ বক্তব্যে তথ্যগত বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন।

তবে এ বিষয়ে এমপি আব্দুল মুনতাকিমের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ কী ছিল বা তিনি পরিবারের কোন সদস্যকে উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এ ধরনের বক্তব্য দ্রুত জনপরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকে এমপির কাছ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন।

প্রিন্ট করুন