ক্ষমতা ছাড়ার পর নীরব উপদেষ্টারা
অন্তর্বর্তী সরকারের অবৈধ উপদেষ্টারা এখন কোথায়? ক্ষমতা ছাড়ার সাড়ে তিন মাস পরও বিতর্ক, নীরবতা ও আত্মগোপনের গল্প

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের একাংশ। ছবি : আজকের কথা
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেই সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কর্মকাণ্ড, নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে আলোচনা-সমালোচনা থামেনি। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য, অভিযোগ ও বিতর্ক।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সংকট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারের বিভিন্ন সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববাটপার ইউনুস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে, কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার দেওয়া সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে কথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর অস্তিত্ব, যা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—ক্ষমতা ছাড়ার পর এখন কোথায় আছেন সেই আলোচিত উপদেষ্টারা? কী করছেন তাঁরা? কেন তাঁদের অনেককে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না?
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দুর্নীতির অভিযোগ
অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তাদের আমলের আর্থিক কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তদন্ত দাবি ওঠে। সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জের এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থপাচার হয়েছে এবং সে সময়ের কর্মকাণ্ড তদন্ত করা প্রয়োজন।
এর আগে গত এপ্রিলে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দেন। এরপর থেকেই সাবেক উপদেষ্টাদের চলাফেরা, বিদেশ সফর এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় আসে।
ড. ইউনূস: গুলশানের বাসভবন থেকে ইউরোপ সফর
দায়িত্ব ছাড়ার পর সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে অবস্থান নেন। অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনার পাশাপাশি তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ দর্শন—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ—নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা যায়।
ঈদের আগে তিনি দীর্ঘদিনের সহকর্মী লামিয়া মোরশেদকে সঙ্গে নিয়ে ফ্রান্স সফরে যান। পরে নেদারল্যান্ডস ও জার্মানিতেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইউরোপ সফরের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি।
‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বিতর্কে মুখ খুললেন তৌহিদ হোসেন
সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, আনুষ্ঠানিক উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে সাত সদস্যের একটি অনানুষ্ঠানিক ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ছিল, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা থাকাকালে একাধিকবার তাঁর মন্ত্রণালয়ের কাজে অন্যদের হস্তক্ষেপ হয়েছে এবং তিনি অন্তত তিনবার পদত্যাগের চিন্তাও করেছিলেন।
এই বক্তব্য সামনে আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আত্মগোপনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা?
সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর একটি সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরে গেলেও সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সংকটের পর থেকে অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন।
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, তিনি বর্তমানে রাজধানীর একটি ফ্ল্যাটে সীমিত পরিসরে অবস্থান করছেন। গণমাধ্যম কিংবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। এমনকি অনেক পরিচিতজনও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন।
অস্ট্রেলিয়ায় ফারুকী, থামছে না আলোচনা ও সমালোচনা
সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই অনেকটা নীরব ছিলেন। সম্প্রতি স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার পর তাঁকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি আর দেশে ফিরবেন না। যদিও ফারুকী এসব গুঞ্জনকে ‘প্রোপাগান্ডা’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন। তবে তিনি কেন অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন বা কবে ফিরবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি।
কে ফিরেছেন পুরোনো পেশায়?
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ইতোমধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরে গেছেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত সংস্কারে পরামর্শক হিসেবেও কাজ করছেন।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার তাঁর প্রতিষ্ঠান উবিনীগে ফিরে গেছেন এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও আবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নীরবতায় জাহাঙ্গীর, সাখাওয়াত ও আলী ইমাম
সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বর্তমানে অনেকটাই ব্যক্তিগত সময় কাটাচ্ছেন। একইভাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন গবেষণা ও লেখালেখিতে সময় দিচ্ছেন।
খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারও লেখালেখি করছেন এবং তিনিও প্রকাশ্যে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
ব্যবসা ও এনজিওতে প্রত্যাবর্তন
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আবার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আকিজ-বশির গ্রুপে ফিরেছেন। অন্যদিকে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান তাঁর প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর কার্যক্রমে যুক্ত হলেও জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যাচ্ছে তাঁকে।
নতুন সরকারের মন্ত্রী খলিলুর রহমান
অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান একমাত্র ব্যক্তি, যিনি নতুন সরকারেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন।
মব আতঙ্কে অনেকেই জনসমক্ষে আসছেন না
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সাবেক উপদেষ্টাদের অনেকের মধ্যেই এখনো ‘মব আতঙ্ক’ কাজ করছে। দায়িত্ব ছাড়ার পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা এবং নানা অভিযোগের কারণে তারা জনসমাগম এড়িয়ে চলছেন। ফলে অনেকেই আগের কর্মস্থলে ফিরলেও নিয়মিত অফিস করছেন না কিংবা জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রেখেছেন।
প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও তাদের সময়ের নানা সিদ্ধান্ত, বিতর্কিত চুক্তি, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং কথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্নের পুরোপুরি উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। বরং সাবেক উপদেষ্টাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অবস্থান নতুন করে সেই সময়ের কর্মকাণ্ডকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পর্যালোচনা হয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত ও নেপথ্যের ঘটনাই হয়তো আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসবে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: কলম থামলেও স্বপ্ন থামেনি

৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: ‘কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে’
ক্ষমতার পালাবদল দেখেছেন চোখের সামনে, তবু স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বপ্ন অধরা
সাংবাদিকতায় ৩৮ বছরের দীর্ঘ পথচলা। এই সময়ে দেখেছেন দেশের রাজনীতির বহু উত্থান-পতন, ক্ষমতার পালাবদল ও সময়ের নানা বাঁক। দেখেছেন এমন অনেক ঘটনা, যা হয়তো একদিন বইয়ের পাতায় ঠাঁই পেতে পারে। কিন্তু সবকিছু কি লেখা সম্ভব? সংবাদপত্রে সব বলা যায়? টেলিভিশনের পর্দায় সব তুলে ধরা যায়?
জন্মদিনে নিজের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের দিকে ফিরে এমনই কিছু কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন সাংবাদিক রাশেদ আহমেদ।
জন্মদিন উপলক্ষে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। এই পথের অভিজ্ঞতাগুলো বইয়ের মলাটে বন্দী করলে সেটি হয়তো বিশাল আকার ধারণ করবে। কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁর উপলব্ধি—সব কথা হয়তো লেখা সম্ভব নয়।

সাংবাদিকতায় এসেছিলাম অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস নিয়ে। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, কখনো মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু উদার, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা থামাইনি।
কারণ সাংবাদিকতায় এসেছিলেন তিনি “অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস” নিয়ে। সত্যকে তুলে ধরার প্রত্যয় ছিল, হাতে ছিল কলম, সামনে ছিল মাইক্রোফোন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সমাজ, দেশ, উগ্রবাদিতা ও পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার নানা বাস্তবতা তাঁর সামনে তৈরি করেছে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা।
রাশেদ আহমেদের নিজের ভাষায়, এসব বাস্তবতার কারণে তাঁকে কখনো থামতে হয়েছে, কখনো আপস করতে হয়েছে, কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে সাংবাদিকতার পেশাগত জীবনের এমন এক বাস্তবতা, যেখানে একজন সাংবাদিকের দেখা ও জানা সবকিছু সবসময় প্রকাশের সুযোগ থাকে না।
যে স্বপ্ন এখনো অধরা
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে রাশেদ আহমেদ যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তাঁর জন্মদিনের লেখায়।
তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বুদ্ধিভিত্তিক ও আধুনিক।
সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি হাতে নিয়েছেন কলম ও মাইক্রোফোন। সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দেখার এবং প্রশ্ন করার একটি মাধ্যম হিসেবেও নিয়েছেন।
কিন্তু ৩৮ বছর পরও সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি—এমন আক্ষেপই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।
তাঁর প্রশ্ন, এই স্বপ্ন কি এভাবেই অধরা থেকে যাবে? নাকি একদিন “ষড়ঋতুর আকাশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা” ফিরে আসবে?
উত্তরটি তিনি দেননি। বরং ভবিষ্যতের কাছে রেখে দিয়েছেন সেই প্রশ্ন।
সংবাদপত্র থেকে টেলিভিশন—দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
সাংবাদিক রাশেদ আহমেদের কর্মজীবন দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন—দুই মাধ্যমেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে রিপোর্টিং, সম্পাদনা ও সংবাদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি দৈনিক সংবাদের প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিস্তারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে।
তাঁর ৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে।
জন্মদিনে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা সংবাদ পরিবারের প্রতি
জন্মদিনের লেখার শেষাংশে অবশ্য কঠিন অভিজ্ঞতার বদলে কৃতজ্ঞতাই সামনে এনেছেন রাশেদ আহমেদ।
টেলিফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ফেসবুকের মাধ্যমে যারা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি জানিয়েছেন অশেষ কৃতজ্ঞতা।
তিনি লিখেছেন, পেয়েছেন “নিরন্তর ঝরনাধারার ভালোবাসা”।
কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংবাদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আপনজনদের প্রতিও।
৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে তাই রাশেদ আহমেদের বক্তব্যে একসঙ্গে ধরা পড়েছে তিনটি ছবি—দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা, না-বলা কথার ভার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার অপূর্ণ স্বপ্ন।
একজন সাংবাদিকের কাছে ৩৮ বছর শুধু সময়ের হিসাব নয়। এটি একটি দেশের পরিবর্তনকে কাছ থেকে দেখার সময়, অসংখ্য সংবাদ ও ঘটনার সাক্ষী থাকার সময় এবং কখনো কখনো নিজের দেখা সত্য প্রকাশ করতে না পারারও সময়।
রাশেদ আহমেদের জন্মদিনের পোস্টে সেই দীর্ঘ পথেরই যেন সংক্ষিপ্ত আত্মকথন—
কলম থামাতে হয়েছে, কথা আটকে রাখতে হয়েছে; কিন্তু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনো থামেনি।
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

মেধা বিকাশে বই, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
“ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করতে হবে। এতে মনন বিকাশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। এতে পরিবার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজও কলুষিত হচ্ছে। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মেধাবী ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

ভালোভাবে লেখাপড়া করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করবে। এতে মনন বিকাশের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে।
তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকার বিকল্প নেই।
কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জহিরুল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. কবির হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর, পূবালী ব্যাংক দেবীদ্বার শাখার এজিএম মো. ওয়ায়েস মাসুম চৌধুরী, ডা. সাদাত-ই-সাম এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

রাষ্ট্রকেই নিতে হবে আইনি সহায়তার দায়িত্ব
আইনজীবীদের বর্জন সিদ্ধান্তে সামনে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন
কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়ে এরই মধ্যে আসামিদের আইনি সহায়তার অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রশ্ন সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।
আলোচনা সভায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”
তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যদি আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়াই, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবে। কারণ একতরফা বিচার হলে সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”
এদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করার পর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরও জানিয়েছিলেন, আসামিরা আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। সে সময় পর্যন্ত কুমিল্লা বারের কোনো আইনজীবী তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে ওকালতনামা বা দরখাস্ত দেননি বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
অর্থাৎ, কোনো আইনজীবী সমিতির সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আসামিপক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়—সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার ওপরই বর্তায়। কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিও বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে আদালতে কোনো আসামির দেওয়া জবানবন্দি বা পুলিশের অভিযোগ চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণ করে না; মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারিত হবে।
সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোলায়মান, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য: “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”
অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি































