বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

ক্ষমতা ছাড়ার পর নীরব উপদেষ্টারা

অন্তর্বর্তী সরকারের অবৈধ উপদেষ্টারা এখন কোথায়? ক্ষমতা ছাড়ার সাড়ে তিন মাস পরও বিতর্ক, নীরবতা ও আত্মগোপনের গল্প

বিশেষ প্রতিবেদন : প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের একাংশ। ছবি : আজকের কথা

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেই সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কর্মকাণ্ড, নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে আলোচনা-সমালোচনা থামেনি। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য, অভিযোগ ও বিতর্ক।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সংকট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারের বিভিন্ন সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববাটপার ইউনুস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে, কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার দেওয়া সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে কথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর অস্তিত্ব, যা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—ক্ষমতা ছাড়ার পর এখন কোথায় আছেন সেই আলোচিত উপদেষ্টারা? কী করছেন তাঁরা? কেন তাঁদের অনেককে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না?

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দুর্নীতির অভিযোগ

অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তাদের আমলের আর্থিক কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তদন্ত দাবি ওঠে। সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জের এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থপাচার হয়েছে এবং সে সময়ের কর্মকাণ্ড তদন্ত করা প্রয়োজন।

এর আগে গত এপ্রিলে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দেন। এরপর থেকেই সাবেক উপদেষ্টাদের চলাফেরা, বিদেশ সফর এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় আসে।

ড. ইউনূস: গুলশানের বাসভবন থেকে ইউরোপ সফর

দায়িত্ব ছাড়ার পর সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে অবস্থান নেন। অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনার পাশাপাশি তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ দর্শন—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ—নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা যায়।

ঈদের আগে তিনি দীর্ঘদিনের সহকর্মী লামিয়া মোরশেদকে সঙ্গে নিয়ে ফ্রান্স সফরে যান। পরে নেদারল্যান্ডস ও জার্মানিতেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইউরোপ সফরের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি।

‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বিতর্কে মুখ খুললেন তৌহিদ হোসেন

সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, আনুষ্ঠানিক উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে সাত সদস্যের একটি অনানুষ্ঠানিক ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ছিল, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা থাকাকালে একাধিকবার তাঁর মন্ত্রণালয়ের কাজে অন্যদের হস্তক্ষেপ হয়েছে এবং তিনি অন্তত তিনবার পদত্যাগের চিন্তাও করেছিলেন।

এই বক্তব্য সামনে আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আত্মগোপনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা?

সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর একটি সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরে গেলেও সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সংকটের পর থেকে অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন।

ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, তিনি বর্তমানে রাজধানীর একটি ফ্ল্যাটে সীমিত পরিসরে অবস্থান করছেন। গণমাধ্যম কিংবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। এমনকি অনেক পরিচিতজনও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন।

অস্ট্রেলিয়ায় ফারুকী, থামছে না আলোচনা ও সমালোচনা

সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই অনেকটা নীরব ছিলেন। সম্প্রতি স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার পর তাঁকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি আর দেশে ফিরবেন না। যদিও ফারুকী এসব গুঞ্জনকে ‘প্রোপাগান্ডা’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন। তবে তিনি কেন অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন বা কবে ফিরবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি।

কে ফিরেছেন পুরোনো পেশায়?

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ইতোমধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরে গেছেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত সংস্কারে পরামর্শক হিসেবেও কাজ করছেন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার তাঁর প্রতিষ্ঠান উবিনীগে ফিরে গেছেন এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও আবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নীরবতায় জাহাঙ্গীর, সাখাওয়াত ও আলী ইমাম

সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বর্তমানে অনেকটাই ব্যক্তিগত সময় কাটাচ্ছেন। একইভাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন গবেষণা ও লেখালেখিতে সময় দিচ্ছেন।

খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারও লেখালেখি করছেন এবং তিনিও প্রকাশ্যে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

ব্যবসা ও এনজিওতে প্রত্যাবর্তন

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আবার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আকিজ-বশির গ্রুপে ফিরেছেন। অন্যদিকে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান তাঁর প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর কার্যক্রমে যুক্ত হলেও জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যাচ্ছে তাঁকে।

নতুন সরকারের মন্ত্রী খলিলুর রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান একমাত্র ব্যক্তি, যিনি নতুন সরকারেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন।

মব আতঙ্কে অনেকেই জনসমক্ষে আসছেন না

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সাবেক উপদেষ্টাদের অনেকের মধ্যেই এখনো ‘মব আতঙ্ক’ কাজ করছে। দায়িত্ব ছাড়ার পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা এবং নানা অভিযোগের কারণে তারা জনসমাগম এড়িয়ে চলছেন। ফলে অনেকেই আগের কর্মস্থলে ফিরলেও নিয়মিত অফিস করছেন না কিংবা জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রেখেছেন।

প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও তাদের সময়ের নানা সিদ্ধান্ত, বিতর্কিত চুক্তি, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং কথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্নের পুরোপুরি উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। বরং সাবেক উপদেষ্টাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অবস্থান নতুন করে সেই সময়ের কর্মকাণ্ডকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পর্যালোচনা হয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত ও নেপথ্যের ঘটনাই হয়তো আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসবে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted

উন্নয়নের নামে ধ্বংসযজ্ঞ, কথিত নদী খননের মাটিতে চাপা শতাধিক ঘর

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:০৭ পিএম
উন্নয়নের নামে ধ্বংসযজ্ঞ, কথিত নদী খননের মাটিতে চাপা শতাধিক ঘর

সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর একসময় ছিল মাথা গোঁজার শেষ ঠিকানা। সেই ঘর পেয়েই নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন পারুল বেগম, রাবেয়া বেগম, হাজেরা, রিজিয়াদের মতো শতাধিক ভূমিহীন ও অসহায় পরিবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ চাপা পড়েছে নদী খননের নামে ফেলা বিশাল মাটির স্তূপের নিচে। উন্নয়নের যে প্রকল্প মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার কথা, সেই প্রকল্পের মাটিই এখন কেড়ে নিয়েছে তাদের শেষ সম্বল।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আপার ভদ্রা নদী পুনঃখনন প্রকল্পের মাটি ফেলার কারণে চুকনগর, কাঁঠালতলা ও বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ঘরের চাল ভেঙে গেছে, কোথাও দরজা-জানালা মাটিচাপা পড়েছে, আবার কোথাও পুরো ঘরই মাটির স্তূপের নিচে হারিয়ে গেছে। ফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক পরিবার এখন কার্যত গৃহহীন।

চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, হাতে ছোট্ট একটি লোহার টুকরা নিয়ে নিজের মাটিচাপা ঘরের ইট খুঁড়ে বের করার চেষ্টা করছেন পারুল বেগম। একসময় যে ঘরটি ছিল তার নিরাপদ আশ্রয়, আজ সেটির কোনো অস্তিত্বই চোখে পড়ে না। মাথার ওপর উঁচু মাটির ঢিবি, আর তার নিচে চাপা পড়ে আছে ঘর, স্মৃতি ও বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

পারুল বলেন, “ঘরটা আর ফেরত পাব কি না জানি না। তাই অন্তত ইটগুলো তুলে রাখছি। যদি কোনোদিন আবার ঘর বানানোর সুযোগ হয়।”

চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের অধিকাংশই এখন স্থানীয় গরুর হাটের মাঠে অস্থায়ী ছাউনিতে বসবাস করছেন। বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে যায়। নেই নিরাপদ টয়লেট, নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

রিজিয়া বেগম বলেন, “পাঁচ-ছয় মাস ধরে মাঠে আছি। আমাদের ঘর ভেঙে দিয়েছে। বাথরুম নেই, টিউবওয়েল নেই। একটু বৃষ্টি হলেই পানির মধ্যে থাকতে হয়। ভোটের আগে অনেক আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু এখন কেউ খোঁজ নেয় না।”

হাজেরা বেগমের কণ্ঠেও একই হতাশা। তিনি বলেন, “ঘর বাঁচানোর সুযোগই পাইনি। শুধু টিনগুলো খুলে রাখতে পেরেছিলাম। এখন গরুর হাটে থাকি। সেখান থেকেও উঠে যেতে বলে।”

রাবেয়া বেগমের প্রশ্ন আরও তীব্র—“আমাদের ঘর নেই, বাথরুম নেই, মাথা গোঁজার জায়গা নেই। তাহলে আমরা কোথায় যাব?”

শুধু চুকনগর নয়, একই চিত্র কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। সেখানে অন্তত ১৩টি ঘর মাটির চাপে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

তানিয়া বেগম বলেন, “ঘরের চালে মাটি উঠে গেছে, বারান্দা ভেঙে পড়েছে। ভয় নিয়ে বসবাস করছি। কখন কী হয় বলা যায় না।”

বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পেও ২৪টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ঘরের ওপর মাটি ফেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করছে, নদী খননের মাটি সরানোর আগেই নতুন করে মাটি ফেলায় বিপর্যয় আরও বেড়েছে।

তপতী দাস বলেন, “মাটির চাপে দরজা-জানালা খোলা যায় না। টয়লেট বন্ধ হয়ে গেছে। ঘর মেরামত হচ্ছে, কিন্তু স্বাভাবিক জীবন ফেরেনি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে ও ওপর মাটি ফেলা হয়েছে। ফলে যাদের জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ঘর নির্মাণ করেছিল, তারাই আজ আবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদী খনন প্রকল্পটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং কিছু স্থানে মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যাদের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে—যে আশ্রয়ণ প্রকল্পকে সরকারের অন্যতম সফল মানবিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়, সেই প্রকল্পের ঘরগুলোই যদি উন্নয়ন কাজের কারণে মাটিচাপা পড়ে, তাহলে দায় কার? পুনর্বাসনের আগে কেন মানুষের শেষ আশ্রয় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হলো?

ভদ্রা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা মাটির বিশাল স্তূপ যেন এখন উন্নয়নের এক নির্মম প্রতীক। যেখানে প্রকল্প এগিয়েছে, কিন্তু পিছিয়ে গেছে মানুষের জীবন। আর ঘরহারা পরিবারগুলোর চোখে আজ একটাই প্রশ্ন—“আমাদের ঘর কবে ফিরবে?”

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

উত্তেজনা, মারধর, পুলিশি হস্তক্ষেপ

এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, যুবক আটক

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:৪৬ পিএম
এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, যুবক আটক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্ধারিত কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সোহেল রানা (৩০) নামে এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ সময় তাকে স্থানীয় কয়েকজন মারধর করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন মিনি স্টেডিয়াম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার তারেক রহমানের শ্রীমঙ্গল সফরকে ঘিরে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছিল। এ সময় মিনি স্টেডিয়াম এলাকায় অবস্থানরত সোহেল রানা হঠাৎ ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্লোগানকে কেন্দ্র করে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক সোহেল রানা উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকার মৃত ফয়জুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় আনারস ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এক যুবক মিনি স্টেডিয়াম এলাকায় দাঁড়িয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিচ্ছিল। পরে সেখানে উপস্থিত কিছু লোক তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

উল্লেখ্য, বিএনপির ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও জেলা সদরে সফরের কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তার আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ

একদিন অনুপস্থিতি, জরিমানা ২০ টাকা: দনিয়ার এ.কে স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘ফি বাণিজ্যের’ অভিযোগ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৫:২৩ এএম
একদিন অনুপস্থিতি, জরিমানা ২০ টাকা: দনিয়ার এ.কে স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘ফি বাণিজ্যের’ অভিযোগ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ.কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায় ও নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে ২০ টাকা জরিমানা আদায়ের নির্দেশনা জারি করায় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি নোটিশে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের নির্দেশক্রমে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে, “আগামীকাল থেকে একদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির জন্য ২০ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মেসেজ দেওয়া হবে।”

নোটিশটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত রাখার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হলেও তা নিশ্চিত করতে আর্থিক জরিমানাকে কেন মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবছর ভর্তি ফি, সেশন ফি, মাসিক বেতনসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমের নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

একজন অভিভাবক বলেন, “কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে একদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে তাকে জরিমানা করা অমানবিক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে, শাস্তিমূলক অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ভয় দেখাবে না।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, পুরোনো শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বিভিন্ন নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে রসিদবিহীন অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে ইতিবাচক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, কাউন্সেলিং এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। জরিমানা বা আর্থিক চাপ প্রয়োগ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিভাবকরা অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি জরুরি।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এ.কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x