

ছোট্ট সাদিয়ার জেদ : “আমি পড়বো শুধু এ,কে স্কুলে।”
কিছু স্কুল ছোট্ট সাদিয়াকে বিনা বেতনে ভর্তি করাতে চাইলেও, সে রাজি হয়নি।
মিষ্টি কণ্ঠে একরকম জেদ করেই বলে—
“না, আমি পড়বো শুধু এ,কে স্কুলেই।”
তার সেই দৃঢ়তা শুনে মা–বাবার চোখে জল আসে,
তবু তারা মেয়ের জেদ ভাঙাতে পারেন না—কারণ সেই জেদে আছে এক শিশু হৃদয়ের স্বপ্ন, বিশ্বাস আর অনন্ত ভালোবাসা।
ছোট্ট সাদিয়া ইসলাম সাবা—দশ বছরের এক নিষ্পাপ শিশু, যার চোখে স্বপ্নের আলো আর মুখে অদ্ভুত দৃঢ়তা।
প্রতিদিন সকালে হাসিমুখে সে মাকে বলে,
“আমি এ,কে স্কুলে পড়বো।”
একটি ছোট্ট শিশুর এই সরল ইচ্ছা হয়তো সাধারণ মনে হতে পারে,
কিন্তু এর পেছনে আছে এক কষ্টের গল্প,
যা শুনলে যে কারও চোখ ভিজে উঠবে।
সাদিয়ার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে।
বাবা-মায়ের সঙ্গে এখন তারা ঢাকার শনি আখড়ায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
সাদিয়ার ছোট বোন সাবিহা ইসলাম—এই এলাকারই স্টার লাইট নামক এক প্রাইভেট প্রাইমারি স্কুলে পড়তে চায়।
কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের সাধ্য তার বাবা-মায়ের আর নেই।
বাবা বর্তমানে বেকার, আর মা গৃহকর্মীর কাজ করেন। তাছাড়া অন্যের অধিকারের জন্য দিনরাত লিখেন, ছুটে বেড়ান—কিন্তু নিজের মেয়ের শিক্ষার অধিকারটা যেন এখন তাদের নাগালের বাইরে।
সংসার চলে টানাটানির ভেতর দিয়ে।
তবু কেউ জানে না তাদের এই কষ্টের কথা।
মা–বাবা লজ্জা ও আত্মসম্মানের কারণে কারও কাছে বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেন না।
তারা চান না কেউ জানুক—তাদের ছোট্ট মেয়েটির স্কুলে ভর্তি হওয়ার টাকাটুকুও জোগাড় করা তাদের জন্য কত কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলাকার কয়েকটি স্কুল সাদিয়া ইসলাম সাবাকে বিনা বেতনে ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি করানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
কিন্তু সাদিয়া দৃঢ় কণ্ঠে বলেছে—
“না, আমি পড়বো শুধু এ,কে স্কুলে।”
তার চোখে সেই কথাগুলো উচ্চারণের সময় এমন এক আলো জ্বলে,
যা হয়তো অনেক বড় মানুষের মনও গলিয়ে দিতে পারে।
মা ফাহিমা বেগম প্রিয়া অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন,
“আমরা হয়তো টাকায় গরিব, কিন্তু মেয়ের স্বপ্নে আমরা গরিব নই। আমি প্রতিদিন অন্যের অধিকার নিয়ে লিখি, কিন্তু নিজের মেয়েকে পছন্দের স্কুলে ভর্তি করাতে না পারার কষ্টটা বুকের ভেতর পাথর হয়ে জমে আছে।”
আজ ছোট্ট সাদিয়া ইসলাম সাবার হাতে বই নেই, ব্যাগ নেই, ইউনিফর্ম নেই—তবু তার চোখে আছে জানার তৃষ্ণা।
✨ যদি এ,কে স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ মানবিকতার জায়গা থেকে একটুখানি স্নেহের হাত বাড়িয়ে দেন,
বিনা বেতনে সাদিয়া ইসলাম সাবাকে পড়ার সুযোগ করে দেন,
তবে শুধু এক শিশুর নয়—একটি অসহায় পরিবারের ভবিষ্যৎও আলোকিত হয়ে উঠবে।
কারণ, এক শিশুর স্বপ্নের পেছনে যে ভালোবাসা থাকে,
তা কোনো আর্থিক মূল্যে মাপা যায় না—
এটাই এক জাতির আশার প্রতীক।