

তার সেই দৃঢ়তা শুনে মা–বাবার চোখে জল আসে,
তবু তারা মেয়ের জেদ ভাঙাতে পারেন না—কারণ সেই জেদে আছে এক শিশু হৃদয়ের স্বপ্ন, বিশ্বাস, আর অনন্ত ভালোবাসা।
ছোট্ট সাবিহা—পাঁচ বছরের এক নিষ্পাপ শিশু, যার চোখে স্বপ্নের আলো আর মুখে অদ্ভুত দৃঢ়তা। প্রতিদিন সকালে হাসিমুখে সে মাকে বলে,
“আমি স্টার লাইট স্কুলে পড়বো।”
একটি ছোট্ট শিশুর এই সরল ইচ্ছা হয়তো সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে আছে এক কষ্টের গল্প, যা শুনলে যে কারও চোখ ভিজে উঠবে।
সাবিহার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে। বাবা-মায়ের সঙ্গে এখন তারা ঢাকার শনি আখড়ায় ভাড়া বাসায় থাকেন। সাবিহার পছন্দ—স্টার লাইট প্রাইভেট প্রাইমারি স্কুল। এখান থেকেই সে পড়াশোনা শুরু করতে চায়। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের সাধ্য তার বাবা-মায়ের আর নেই।
বাবা বর্তমানে বেকার, আর মা বিনা বেতনে সাংবাদিকতা করেন—সমাজ ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন নিঃস্বার্থভাবে। অন্যের অধিকারের জন্য দিনরাত লিখেন, ছুটে বেড়ান—কিন্তু নিজের মেয়ের শিক্ষার অধিকারটা যেন এখন তাদের নাগালের বাইরে।
সংসার চলে টানাটানির ভেতর দিয়ে। তবু কেউ জানে না তাদের এই কষ্টের কথা।
মা–বাবা লজ্জা ও আত্মসম্মানের কারণে কারও কাছে বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেন না। তারা চান না কেউ জানুক—তাদের ছোট্ট মেয়েটির স্কুলে ভর্তি হওয়ার টাকাটুকুও জোগাড় করা তাদের জন্য কত কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলাকার কয়েকটি স্কুল সাবিহাকে বিনা বেতনে ভর্তি করানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সাবিহা একরকম জেদ করেই বলেছে—
“না, আমি পড়বো শুধু স্টার লাইটেই।”
তার চোখে সেই কথাগুলো উচ্চারণের সময় এমন এক আলো জ্বলে, যা হয়তো অনেক বড় মানুষের মনও গলিয়ে দিতে পারে।
মা ফাহিমা বেগম প্রিয়া অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন,
“আমরা হয়তো টাকায় গরিব, কিন্তু মেয়ের স্বপ্নে আমরা গরিব নই। আমি প্রতিদিন অন্যের অধিকার নিয়ে লিখি, কিন্তু নিজের মেয়েকে পছন্দের স্কুলে ভর্তি করাতে না পারার কষ্টটা বুকের ভেতর পাথর হয়ে জমে আছে।”
আজ ছোট্ট সাবিহার হাতে বই নেই, ব্যাগ নেই, ইউনিফর্ম নেই—তবু তার চোখে আছে জানার তৃষ্ণা।
যদি স্টার লাইট স্কুলের কর্তৃপক্ষ একটুখানি স্নেহের হাত বাড়িয়ে দেন,
তবে হয়তো শুধু এক শিশুর নয়, এক অসহায় পরিবারের ভবিষ্যৎও আলোকিত হয়ে উঠবে।
কারণ, এক শিশুর স্বপ্নের পেছনে যে ভালোবাসা থাকে,
তা কোনো আর্থিক মূল্য নয়—একটি জাতির আশার প্রতীক।