সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

চিঠি পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে—তবুও অপেক্ষায় সাদিয়া, “ভাইয়া, একবার দেখা করবেন?”

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৮ এএম
চিঠি পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে—তবুও অপেক্ষায় সাদিয়া, “ভাইয়া, একবার দেখা করবেন?”

ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং অনুযায়ী ১৩ এপ্রিল চিঠি পৌঁছালেও এখনো কোনো সাড়া মেলেনি; অনিশ্চয়তায় থমকে আছে এক শিশুর ভবিষ্যৎ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার “অপরাধে” বাড়িছাড়া হওয়া ১১ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম সাবার জীবন আজ কঠিন অনিশ্চয়তার মুখে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাদিয়ার পাঠানো চিঠিটি ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং (আইটেম আইডি: DG829972446BD) অনুসারে গত ১৩ এপ্রিল সকাল ১১টা ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছেছে। তবে চিঠি পৌঁছালেও এখনো কোনো ধরনের সাড়া পায়নি পরিবারটি।

২০২০ সালে কুমিল্লার মুরাদনগরে স্থানীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় জীবননাশের হুমকির মুখে পড়ে সাদিয়ার পরিবার। একপর্যায়ে রাতের আঁধারে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় তারা। বর্তমানে শনির আখড়ার একটি জরাজীর্ণ ঘরে অসুস্থ মাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।

সাদিয়া বর্তমানে ধানিয়া এ.কে হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিন্তু চরম আর্থিক সংকটে তার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্কুলের বেতন মওকুফের জন্য বারবার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পায়নি পরিবার।

নিরুপায় হয়ে সাদিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে আকুতি জানায়—
“আমি শুধু একবার আপনার সাথে কথা বলতে চাই, ভাইয়া। আমাদের কষ্টের কথা বলতে চাই। আমাদের বাঁচার একটা সুযোগ দিন।”

তার এই হৃদয়স্পর্শী আবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলেও বাস্তব জীবনে এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সাদিয়ার ছোট বোন সাবিহা ইসলাম (৭) একটি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী। তাদের বাবা হাফেজ শুয়াইবুল হুছাইন মুন্সী এবং মা ফাহিমা বেগম। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে।

বর্তমানে পরীক্ষার ফি ও বেতন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারটির। অনিশ্চয়তা আর হতাশার মধ্যে অপেক্ষা করছে সাদিয়া—কখন মিলবে একটি সাড়া, একটি সুযোগ, একটি নতুন শুরু।

এখন প্রশ্ন—প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছানো এই আর্তনাদ কি আদৌ কোনো দরজা খুলবে, নাকি হারিয়ে যাবে নীরবতার অন্ধকারেই?

 

এলাকার খবর

আন্দোলনের পরদিনই নতুন পদায়ন

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই কুমিল্লা মহিলা কলেজে ৬ শিক্ষকের নতুন পদায়ন

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই কুমিল্লা মহিলা কলেজে ৬ শিক্ষকের নতুন পদায়ন

জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচিত কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে সাত শিক্ষককে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এখনো না থামতেই ছয়জন নতুন শিক্ষককে পদায়ন ও বদলির আদেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সাত শিক্ষককে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচির পরদিনই এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন পদায়ন পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোস্তফা সারওয়ার খান, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মতিন, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খালেদ ইকবাল জুয়েল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক ইসরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. হাবিব উল্লাহ।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বদলিকৃত একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আগেই নতুন শিক্ষকদের পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার দায় শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

এর আগে জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কলেজটির সাত শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলির আদেশ দেয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এবং বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানায়। আন্দোলনের ঠিক পরদিনই নতুন ছয় শিক্ষককে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী/বিএস

শূন্যরেখায় বিজিবির কড়া পাহারা

কুমিল্লা সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ ৪ ভারতীয়

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম
কুমিল্লা সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ ৪ ভারতীয়

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সালদানদী সীমান্ত দিয়ে নারী ও তিন শিশুসহ চার ভারতীয় নাগরিকের বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।

বিজিবি সূত্র জানায়, সালদানদী সীমান্ত ফাঁড়ির টহলরত সদস্যরা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে এক নারী ও তিন শিশুকে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করতে দেখেন। যাচাই-বাছাইয়ে তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বলে নিশ্চিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়।

৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার এবং চোরাচালান রোধে বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।

শত আঘাতের পরও অপরাজিত: আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত বাংলাদেশের নির্ভীক কলমযোদ্ধা

আজকের কথা ডেস্ক, বিশেষ প্রতিবেদন : প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
শত আঘাতের পরও অপরাজিত: আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত বাংলাদেশের নির্ভীক কলমযোদ্ধা

‘সীমানা পেরিয়ে স্বীকৃতি: আন্তর্জাতিক ‘বিজিসি স্টার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ জিতলেন লড়াকু সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী’

মাঠপর্যায়ের বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী অপরাজিত সাংবাদিকতা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গৌরবময় স্বীকৃতি—গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে এক পরিচিত নাম মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থেকে উঠে আসা এই সাহসী সাংবাদিক প্রতিনিয়ত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম ধরে যেমন কুড়িয়েছেন প্রশংসা, তেমনই হয়েছেন বারবার নৃশংস হামলার শিকার।
দীর্ঘ ২৭ বছরেরও বেশি সময়ের কর্মময় জীবনের আদ্যোপান্ত নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন:

দীর্ঘ ২৭ বছরের সাংবাদিকতা ও ক্যারিয়ার

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী ১৯৯৯ সাল থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
  • বর্তমান ব্যস্ততা: বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘লন্ডন বাংলা’ পত্রিকার কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্টে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
  • মিডিয়া এন্টারপ্রেনার ও সম্পাদক: সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সফল মিডিয়া উদ্যোক্তা। তিনি দেশের পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক আজকের কথা এবং ইংরেজি নিউজ পোর্টাল Joy Banglar Joy (joybanglarjoy.com)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।
  • অথময় অভিজ্ঞতা: এর আগে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় গণমাধ্যম—গ্লোবাল টেলিভিশন, সমকাল, ভোরের কাগজ, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ, মানবকণ্ঠ এবং সংবাদ সংস্থা এফএনএস (FNS)-এ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি মুরাদনগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি: ‘BGC Star Award 2026’

সাংবাদিকতায় অনবদ্য ও বস্তুনিষ্ঠ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত হয়েছেন শরিফুল আলম চৌধুরী। ভারতের হায়দরাবাদে জমকালো এক অনুষ্ঠানে তাকে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ‘BGC Star Award 2026’ পদকে ভূষিত করা হয়। পোল্যান্ড ও ফ্রান্সের অনারারি কনসালসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসা ও সমাজবিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সত্য প্রকাশের মূল্য: বারবার নৃশংস হামলার শিকার

তৃণমূলের সাহসী এই সাংবাদিককে সত্য প্রকাশের জন্য চরম মূল্য দিতে হয়েছে। স্থানীয় দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় তিনি একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলার মুখোমুখি হয়েছেন:
  • ২০২০ সালের হামলা: মুরাদনগরের স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সমকালে প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে ২০২০ সালের ৪ জুলাই তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে প্রায় মৃতাবস্থায় ফেলে রাখা হয়। সে সময় তার ওপর হওয়া এই বর্বরোচিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (IFJ) তীব্র নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে আওয়াজ তোলে।
  • ২০২৫ সালের আদালত প্রাঙ্গণে হামলা: এই লড়াকু সাংবাদিকের ওপর আবারো নৃশংসতা নেমে আসে ২০২৫ সালের ১২ মে। কুমিল্লা জেলা আদালত প্রাঙ্গণে একটি আইনি প্রতিবেদন কাভার করার সময় একদল অজ্ঞাত হামলাকারী তার ওপর আবারো চড়াও হয়। এই হামলায় তার ডান পা ও বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়।

অদম্য এক কলমযোদ্ধা

একাধিক অস্ত্রোপচার, শারীরিক পঙ্গুত্ব এবং নানামুখী হুমকির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। আজ পর্যন্ত তিনি তার মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ, স্বাধীন এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে তিনি এক অবিচল ও অদম্য কলমযোদ্ধার প্রতীক।
×
CLOSE X