শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাছ লাগানোর আহ্বান

পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন

শাহিন ফকির, পিরোজপুর প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৪ পিএম
পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন

পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
  • শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
  • অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৯-এর সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন এবং পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।
আবু সাঈদ
জেলা প্রশাসক, পিরোজপুর

স্বাগত বক্তব্য দেন সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির

এছাড়া বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব এস এম ছাইদুল ইসলাম কিসমত এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের সদস্য, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। পরে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

রাতে নদীপাড় থেকে অপহরণ

নরসিংদীতে যুবককে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৩ পিএম
নরসিংদীতে যুবককে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা

নরসিংদীর সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নে সুমন মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাখননগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন মিয়া বাখননগর গ্রামের বাতেন মিয়ার ছেলে। তিনি আলোকবালী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক সভাপতি কাইয়ুম মিয়ার ভাতিজা।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সুমন মিয়া তার বোন সোনিয়াকে নিয়ে বাড়ির অদূরে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বাখননগর বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গুলি করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম আর আল মামুন
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), নরসিংদী মডেল থানা

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিহতের বোন সোনিয়া বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই তার ভাইয়ের বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি দাবি করেন, তার ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং ব্যক্তিগত কোনো বিরোধও ছিল না। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন সরকার দাবি করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা পুলিশের ব্যাপক উদ্যোগ

কুমিল্লার সব থানায় অভিযোগ বক্স, ১৬ আগস্ট থেকে শুরু মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৮ পিএম
কুমিল্লার সব থানায় অভিযোগ বক্স, ১৬ আগস্ট থেকে শুরু মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান

কুমিল্লার সব থানায় অভিযোগ বক্স বসিয়ে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে জেলার সব থানায় শুরু হচ্ছে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক র‍্যালি, সমাবেশ ও বিশেষ অভিযান। জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলার ১৯৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১৭টি পৌরসভা, ১টি সিটি করপোরেশন এবং সব থানাজুড়ে একযোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবাইকে এ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম
পুলিশ সুপার, কুমিল্লা জেলা

মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ সহজ করতে কুমিল্লার সব থানায় ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপন করা হচ্ছে। যে কোনো ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রেখে মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবন বা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে লিখিত তথ্য জমা [ পারবেন। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশের ভাষ্য, এটি একদিনের কর্মসূচি নয়; বরং ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়ে তোলাই এ অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।

তদন্তে মিলছে নতুন সূত্র

ডিএনএ বিশ্লেষণে মিলেছে পাঁচজনের শুক্রাণু, কুমিল্লার তনু হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন গতি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:০২ পিএম
ডিএনএ বিশ্লেষণে মিলেছে পাঁচজনের শুক্রাণু, কুমিল্লার তনু হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন গতি

ডিএনএ পরীক্ষায় নতুনভাবে মোড় ঘুরতে শুরু করেছে তনু হত্যা মামলা, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রায় এক দশক পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু এবং একজনের রক্তের অস্তিত্ব শনাক্ত হওয়ায় তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে মোট ছয়জনের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে। আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে চার সাবেক সেনাসদস্য ও এক বেসামরিক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরে গত ১৭ জুলাই আরও দুই ব্যক্তির ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ দেন আদালত। তারা হলেন কুমিল্লার রাজাপাড়ার বাসিন্দা ও তনুর বন্ধু ফয়সাল আহমেদ রাব্বি এবং সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম। তবে তদন্তের স্বার্থে ষষ্ঠ সন্দেহভাজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ডিএনএ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে চলতি বছরের এপ্রিলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মামলার দুই সন্দেহভাজন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও সাবেক সেনাসদস্য শাহীন আলম দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দুই সন্দেহভাজন বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আদালতের নির্দেশে নতুন করে আরও দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
— মো. তরিকুল ইসলাম
পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) ও তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর মধ্যে জাহিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তদন্তকারীদের দাবি, শাহীন আলম গত এপ্রিলে গোপনে কুয়েতে চলে যান। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বর বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং সর্বশেষ অবস্থান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় শনাক্ত হয়েছে।

নিহত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তার প্রশ্ন, ভুয়া ফরেনসিক প্রতিবেদন দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এখনো কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া চিকিৎসক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া, সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য, ঘটনার দিন তনু সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার পথেই হত্যার শিকার হন।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি জিন্দা লাশ হয়ে বেঁচে আছি। প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি, কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে মনে হয় এই বুঝি মারা গেলাম। মৃত্যুর আগে শুধু আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার এবং তাদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই।”

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম, যিনি এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দুই সন্দেহভাজন বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আদালতের নির্দেশে নতুন করে আরও দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডির পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়।

×
CLOSE X