প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

শিবির নেতা জিসানের পক্ষে সওয়াল, শেষমেশ নিয়োগ বাতিল দুই এপিপির

এপিপি নিয়োগ বাতিল
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

জিসান ইস্যুতে বক্তব্যের পর দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

কুমিল্লা আদালতে চাঞ্চল্য, কারণ উল্লেখ না করেই মন্ত্রণালয়ের আদেশ

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দুই সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজ, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে আদেশটি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগসংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে দেওয়া তাদের এপিপি পদে নিয়োগ বাতিল করা হলো। তবে নিয়োগ বাতিলের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

তবে বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লার আইনাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, এর মাত্র দুই দিন আগে আলোচিত শিবির নেতা জিসানকে ঘিরে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন ওই দুই আইনজীবী।

গত মঙ্গলবার ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার জিসানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তৈয়ব উদ্দিন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এপিপি মনির হোসেন পাটোয়ারী।

তিনি অভিযোগ করেন, মামলাটির শুনানিতে আইনজীবীদের ওকালতনামায় স্বাক্ষরের সুযোগ না দিয়েই পুলিশ জিসানকে কারাগারে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ধর্ষণের অভিযোগটি সঠিক নয় এবং আসামির সুচিকিৎসার আবেদন আদালতে করা হয়েছে।

অপর এপিপি অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন।

নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “এপিপিদের অনেকেই নিজ দায়িত্বের বাইরে বিভিন্ন মামলায় অংশ নেন। আমরা জিসানের পক্ষে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করিনি। তার পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন তার ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ। আমরা শুধু সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দিয়েছিলাম। তবে সেটির কারণেই আমাদের নিয়োগ বাতিল হয়েছে কি না, আদেশে তা উল্লেখ নেই।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, “পিপি ও এপিপিদের দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা আইন ও বিধিমালায় নির্ধারিত রয়েছে। সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ এপিপিদের নেই।”

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয়। পরে বিয়ের চাপ দিলে জিসান বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

পরবর্তীতে গত ১২ জুন রাতে জেলার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই রাতে ওই নারী বাদী হয়ে জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও তিনজনকে সহযোগিতার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর জিসান পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ১৬ জুন আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দুই এপিপির নিয়োগ বাতিলের ঘটনায় কুমিল্লার আইনজীবী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যদিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ বাতিলের কারণ জানানো হয়নি।

প্রিন্ট করুন