জিসানকে ঘিরে বিস্ফোরক তথ্য
শিবির নেতা জিসান অপহৃত নন, ‘ধর্ষণ মামলার চাপ’ এড়াতে আত্মগোপন করেছিলেন: পুলিশের দাবি

শিবির নেতা জিসান অপহৃত নন, ‘ধর্ষণ মামলার চাপ’ এড়াতে আত্মগোপন করেছিলেন: পুলিশের দাবি। ছবি : আজকের কথা
অপহরণ রহস্যে নতুন মোড়, লাকসাম থেকে উদ্ধারের পর সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া এবং পরে ‘অপহৃত’ দাবি করা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহমেদকে ঘিরে নতুন মোড় নিয়েছে আলোচিত ঘটনাটি। পুলিশের দাবি, বহুল আলোচিত এই ঘটনায় কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। বরং এক নারীর করা ধর্ষণ মামলার অভিযোগ ও বিয়ের চাপ এড়াতেই তিনি পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে ছিলেন।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করার পর তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এ দাবি করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জিসান আহমেদ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা (পশ্চিম) জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মী, পরিবারের সদস্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘অপহৃত’ দাবি করে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।
নিখোঁজ থেকে ‘অপহরণ’ প্রচার
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে ঢাকা থেকে নিজ বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিরবাগগোয়ালী গ্রামে ফিরছিলেন জিসান। পথে তিনি দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবার জানায়, রাত ৮টা ২৯ মিনিটে জিসানের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে সর্বশেষ অনলাইন দেখা যায়। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্টও ডিঅ্যাক্টিভেটেড অবস্থায় দেখা যায়।
এ ঘটনায় তার বড় ভাই রাসেল আহমেদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিসানকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য
কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্তে অপহরণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বরং এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং পরবর্তীতে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই জিসান আত্মগোপনে যান।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে জিসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং তার গর্ভপাত করানো হয়।
এ ঘটনার পর ওই নারী জিসানের ওপর বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তিনি বিয়ে করতে সম্মত হন বলে জানা যায়। তবে নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসতেই তিনি হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যান।
পুলিশের দাবি, ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে প্রচার করে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
জিসানের বিরুদ্ধে মামলা
পুলিশ জানায়, জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। জিসানকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যা বললেন পুলিশ সুপার
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন,
“জিসান আহমেদকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে আমরা অপহরণের কোনো প্রমাণ পাইনি। প্রাথমিকভাবে যা তথ্য পেয়েছি, তাতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। একজন নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়
জিসান নিখোঁজ হওয়ার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত জিসানকে উদ্ধারের আহ্বান জানান।
তিনি লিখেছিলেন, “১৮ ঘণ্টা অতিক্রম হওয়ার পরও জিসানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও জিসানকে ‘নিখোঁজ’ উল্লেখ করে বিবৃতি দেওয়া হয়।
তবে পুলিশের সর্বশেষ বক্তব্য এবং মামলার তথ্য প্রকাশের পর পুরো ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তদন্ত চলমান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিসানের বক্তব্য, মামলার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একদিকে ‘অপহরণ’ দাবির নাটকীয় প্রচারণা, অন্যদিকে ধর্ষণ মামলা ও আত্মগোপনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে শিবির নেতা জিসানকে ঘিরে ঘটনাটি এখন কুমিল্লাসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে গোমতী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত

উন্মুক্ত জলাশয়ে বাড়বে মাছ, রক্ষা পাবে জীববৈচিত্র্য
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ঐতিহ্যবাহী গোমতী নদীসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, স্থানীয় মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে গোমতী নদীর দেবীদ্বার অংশের শিবনগর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
এদিন গোমতী নদীর পাশাপাশি কাচারি পুকুর, থানা পুকুর, দেবীদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পুকুর, উপজেলা পরিষদ পুকুর, সরকারি শিশু পরিবারের পুকুর, কাচিসাইর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর, রাধানগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর ও জাফরাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুরেও পোনা অবমুক্ত করা হয়। দিনব্যাপী এসব জলাশয়ে প্রায় ৩০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হয়।

খাঁচাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মাছগুলো এখন নদীর বিশাল জলরাশিতে ডানা মেলার সুযোগ পেল।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়স উদ্দিন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান নাফি, উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নোমান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সঞ্জিত চক্রবর্তী, মো. রফি উদ্দিন ও মো. আলী হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, গোমতী নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার ফলে উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, “পোনা মাছ অবমুক্ত করার এই ক্ষণটি যেন জলজ প্রাণীর এক অনন্য মুক্তির আনন্দ নিয়ে এসেছে। খাঁচাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মাছগুলো এখন নদীর বিশাল জলরাশিতে ডানা মেলার সুযোগ পেল। তারা এখন সারা দেশের নদী ও খাল-বিলে স্বাধীনভাবে সাঁতার কেটে, ঘুরেফিরে বেঁচে থাকার এক নতুন স্বাধীনতা উপভোগ করবে।”
ইউএনও আরও বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ করা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে স্থানীয় জেলেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। তবে মাছগুলো বড় হওয়ার আগেই যাতে কেউ কারেন্ট জাল বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পদ্ধতিতে শিকার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মুরাদনগরে বিএনপির মিছিলের পর ছাত্রলীগের পাল্টা মিছিল, আটক ১৩

থানার সামনে গিয়ে ছত্রভঙ্গ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলের প্রায় তিন ঘণ্টা পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পাল্টা মিছিলের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মিছিলটি মুরাদনগর থানা গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মুরাদনগর সদরে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নোয়াকান্দি গ্রামের হাসান ভূঁইয়া (১৮), সাইফুল ইসলাম (১৮), তানজিদ (১৮), হানিফ ভূঁইয়া (১৯), মহিনুল ইসলাম (১৮), হৃদয় ভূঁইয়া (১৪), মাসুদ (১৪), ইয়াছিন (১৬), চৌধুরীকান্দি গ্রামের শাহেদ (১৮), আতিক (১৮), ভুবনঘর মধ্যপাড়ার আসিফ (১৮), মোচাগড়া গ্রামের মোবারক (১৯) ও মুরাদনগর কলেজপাড়ার তানভীর হোসেন (১৪)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নৈরাজ্য, নাশকতা ও অপতৎপরতার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর মুরাদনগর সদরের ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে সেখান থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মুরাদনগর থানা গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ সময় মিছিলে থাকা আরও প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন পালিয়ে যান। তবে মুরাদনগর থানা পুলিশের ভাষ্য, মিছিল করার উদ্দেশ্যে ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হওয়ার পরই তাদের আটক করা হয়।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বজ্রপাত ঠেকাতে কুমিল্লায় ৫ হাজার তালবীজ, মাঠে লাল সবুজের স্বেচ্ছাসেবীরা

শিক্ষার্থীদের হাতে তালবীজ, সড়কের পাশে রোপণ
বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কুমিল্লায় ৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে চলতি সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) লালমাই উপজেলার দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর হাতে তালবীজ তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় এসব বীজ রোপণ করবে।
এরপর পশ্চিম নোয়াগাঁও, দৌলতপুর ও পূর্ব নোয়াগাঁও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এতে সংগঠনের অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।

বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে শুধু সচেতনতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সারাদেশে তালবীজ রোপণ করা গেলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহা. তফাজ্জল হোসেন মজুমদার ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খালেদ সাইফুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মারুফ, কুমিল্লা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম রিফাত, অর্থ সম্পাদক আকিব হাসান, প্রচার সম্পাদক সালমান সাজিলসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির প্রথম দিনেই ১ হাজার তালবীজ সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ এবং বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করা হয়েছে। পুরো সেপ্টেম্বর মাসে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের পাশে পর্যায়ক্রমে মোট ৫ হাজার তালবীজ রোপণ করা হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বজ্রপাতের সময় করণীয়, নিরাপদে থাকার উপায় এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা হবে।
লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, ২০১১ সাল থেকে তারা বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো ও পরিবেশ রক্ষায় তালবীজ রোপণ করে আসছেন। গত ১৫ বছরে সারাদেশে অন্তত ৭০ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও ৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।
কাওসার আলম সোহেল আরও বলেন, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো মানুষের বড় একটি অংশ সমাজের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। তাই বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কতা এবং ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন।
তার মতে, সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তালবীজ রোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে ব্যাপকভাবে তালগাছের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। এর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হতে পারে।





























