ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারি
মাধবপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মাধবপুরের কালিগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারকৃত শাহ আলমকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে দেখা যাচ্ছে। ছবি : আজকের কথা
কালিগঞ্জ বাজারে ডিবি পুলিশের অভিযানে আটক যুবক এখন জেল হাজতে
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার এলাকায় জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশের অভিযানে ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. শাহ আলম (৩৮)। তিনি মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মো. ডোগাই মিয়া এবং মাতা আনোয়ারা বেগম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৩ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মাধবপুর থানার বাঘাশুরা ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন শাহ আলমকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর নেতৃত্বে এসআই সাকিব হোসেন, এসআই স্বপন চন্দ্র, এএসআই মো. নাঈম মিয়া, এএসআই গোলাম সারোয়ারসহ ডিবির একটি চৌকস দল অংশ নেয়।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শাহ আলমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা জানান, হবিগঞ্জ জেলাকে মাদকমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসা ও কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১২০০ চারা বিতরণ

সবুজ-শ্যামল দেবীদ্বার গড়ার প্রত্যয়
আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ-শ্যামল, সুন্দর ও বাসযোগ্য দেবীদ্বার গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাজেদা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেবীদ্বার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মোল্লাবাড়িতে অবস্থিত সাজেদা ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে ফাউন্ডেশনের ১৬০ জন উপকারভোগী সদস্যের মাঝে ফলজ, বনজ ও কাঠজাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১ হাজার ২০০টি চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, ডালিম, লটকন, সেগুন, কাঠবাদামসহ বিভিন্ন জাতের গাছ।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বাংলাদেশ গ্রাম আদালতের দেবীদ্বার উপজেলা সমন্বয়কারী সাইফুল করিম খান, দেবীদ্বার থানার এএসআই মো. ইয়াকুব, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এটিএম রাশেদুজ্জামান সরকার, সূচনা ফাউন্ডেশন কুমিল্লার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম, এলাকা ব্যবস্থাপক মো. সোহেল রানা, এলাকা হিসাব ব্যবস্থাপক মো. নাসির উদ্দিন এবং সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার ইসমাইল হোসেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের দেবীদ্বার শাখা ব্যবস্থাপক দুলাল তুর্কী ও কুমিল্লা অঞ্চলের এগ্রিকালচার প্রোগ্রাম অফিসার রেদওয়ানুল হক। এ সময় ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপকারভোগী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বৃক্ষের চারা বিতরণের এ উদ্যোগ একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ফলজ গাছের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।
তবে শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না—গাছগুলো সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য উপকারভোগীদের নিজ নিজ চারার যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সাজেদা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লা অঞ্চলের ৩ হাজার ৫০০ উপকারভোগী সদস্যের মধ্যে মোট ২০ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দেবীদ্বারের এ কর্মসূচি সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই অংশ।
দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ, ২ ট্রাকসহ গ্রেফতার ৮

চান্দিনায় ট্রাক আটকে ফাঁস হলো দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ
বন্ধকী সম্পদ সরানোর সময় দুই ট্রাক জব্দ
কুমিল্লার দেবীদ্বারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির কাছে বন্ধকীকৃত উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের প্রায় ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ১২ হাজার ৯৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ ও বিভিন্ন মালামালসহ দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের আসাদনগর এলাকায় অবস্থিত উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ভেতর থেকে এসব মালামাল বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনালী ব্যাংক পিএলসির ঢাকা স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। মামলায় এজহারনামীয় ১২ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেফতার আটজন হলেন—ট্রাকচালক মো. রনি (২০), হেলপার ইয়াকুব মুন্সি (১৯), চালকের সহযোগী সুলতান (৩৪), অপর ট্রাকের চালক শাহআলম (৩২), হেলপার আরাফাত (১৮) এবং কথিত পাচারকাজের সহযোগী ফরহাদ হোসেন (৫০), মো. মকবুল হোসেন (৭৪) ও মো. নুরুল আমিন (৩৭)।
মামলায় মিলের মালিকপক্ষের আবুল বাশার ও সায়রা হায়দারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক পিএলসির স্থানীয় কার্যালয়, ঢাকার মামলাকৃত ও শ্রেণীকৃত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (সংশোধন ২০১০) অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২০ মার্চ অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১০০১/২০২৪।
অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার রাতে মিলের মালিকপক্ষ ব্যাংকের কাছে বন্ধকীকৃত সম্পত্তির বিপুল পরিমাণ মালামাল মিল থেকে বের করে ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করে।
মালামাল নিয়ে দুটি ট্রাক দেবীদ্বার থেকে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা সুমনের ভাঙারি দোকানের সামনে ট্রাক দুটি আটক করে। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং চালক ও সহযোগীদের আটক করে।
পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১০৮৩ নম্বর ট্রাক থেকে ৮ হাজার ৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ এবং ঢাকা মেট্রো-ন-২১-৫৩৫৮ নম্বর ট্রাক থেকে ৪ হাজার ৯০০ কেজি স্পিনিং মেশিনের মোটর ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। দুটি ট্রাক থেকে মোট ১২ হাজার ৯৫৫ কেজি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল দেবীদ্বার থানা এলাকায় হওয়ায় চান্দিনা থানা পুলিশ জব্দ করা ট্রাক ও মালামাল এবং আটক ব্যক্তিদের দেবীদ্বার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
দেবীদ্বার থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চান্দিনার রেজাউল নিজেকে সচিবের ভাই পরিচয়ে ইউএনওর কাছে চাইলেন লাখ টাকা

ইউএনওর সন্দেহে বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক সচিবের বড় ভাই পরিচয়ে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীমের কাছে এক লাখ টাকা ধার চাওয়ার অভিযোগে মো. রেজাউল করিম (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আটক রেজাউল করিমের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এম এ খালেকের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন।
রামগড়ের ইউএনও কাজী শামীম জানান, ঘটনার দুই দিন আগে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে নিজেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক সচিবের বড় ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। মঙ্গলবার সকালে ওই ব্যক্তি ফোনে জানান, তিনি রামগড়ে অবস্থান করছেন। পরে তাকে ইউএনও কার্যালয়ে আসতে বলা হয়।

পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে জানতে পারি, তার দেওয়া পরিচয়ের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।
কার্যালয়ে আসার পর ওই ব্যক্তিকে নাশতা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওর বদলির প্রসঙ্গ তোলেন। এরপর নিজের আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে ইউএনওর কাছে এক লাখ টাকা ধার চান। ঢাকায় ফিরে সেই টাকা পরিশোধ করবেন বলেও জানান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সন্দেহ হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সচিবের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। তবে ওই ব্যক্তি সচিবের বড় ভাই কি না, সে বিষয়ে সচিব স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এরপর রেজাউল করিমের পরিচয় ও রামগড়ে তার অবস্থানের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। ইউএনও জানান, রামগড়ে অবস্থানের সময় রেজাউল করিম থানার ওসির পরিচয় ব্যবহার করে একটি আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন বলে জানা যায়। তবে রামগড় থানার ওসি তাকে চেনেন না বলে নিশ্চিত করেন।
পরে প্রতারণার অভিযোগে রেজাউল করিমকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, “প্রতারণার অভিযোগে রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ইউএনও কার্যালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
























