শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

“তার প্রতি অন্যায় হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে”—ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

“মা-ই নয়, বাবাও আমাকে হতে হয়েছে”—শাহিনা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম
“মা-ই নয়, বাবাও আমাকে হতে হয়েছে”—শাহিনা

“মা-ই নয়, বাবাও আমাকে হতে হয়েছে”—শাহিনা। ছবি : রোমানা আক্তার

“মা-ই নয়, বাবাও আমাকে হতে হয়েছে”—শাহিনা। ছবি : আজকের কথা

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

“শাহিনা একজন যোদ্ধা”—সাংবাদিক এবিএম বাশার

মায়ের ভালোবাসা কতটা গভীর হলে পাহাড়সম কষ্টও নীরবে বয়ে নেওয়া যায়, তার জীবন্ত উদাহরণ মোসাম্মৎ শাহিনা আক্তার। স্বামী হারানোর পর দুই শিশুসন্তানকে আঁকড়ে ধরে একাই লড়েছেন জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে। অশ্রু, অভাব আর অপমানকে সঙ্গী করেও তিনি হার মানেননি।

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীনগর গ্রামের শাহিনা আক্তার সাত বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়।

স্বামী মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেছিলেন স্বপ্ন নিয়েই। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় ২০০০ সালের ৩০ এপ্রিল। তখন শাহিনা গর্ভে ধারণ করছেন ছোট ছেলেকে। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীকে তারই স্বজনরা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরের ভেতর ঝুলিয়ে রাখে। সেই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় শাহিনার জীবনযুদ্ধ।

দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে পথে পথে ঘুরেছেন তিনি। বিচার চেয়েছেন, সাহায্য চেয়েছেন, কিন্তু পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। জীবিকার তাগিদে মানুষের বাসায় কাজ করেছেন, সেলাই মেশিন চালিয়েছেন, অন্যের ঘর পরিষ্কার করেছেন। সব কষ্ট সহ্য করেছেন শুধু সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।

পরবর্তীতে দেবীদ্বার পৌরসভায় মাস্টার রুলে প্রায় ১৯ বছর চাকরি করেন শাহিনা। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত এক সচিবের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সেই চাকরিটিও হারাতে হয় তাকে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি হারানোর পর পাওনা অর্থও বুঝে পাননি তিনি।

তবুও থেমে যাননি এই সংগ্রামী নারী। ধার-দেনা করে বড় ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। ছোট ছেলে সাইফুল এখন অনার্সে পড়াশোনা করছেন এবং ইউটিউবের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছেন। সন্তানদের এই অবস্থানে পৌঁছে দিতে নিজের জীবনটাই উৎসর্গ করেছেন শাহিনা।

দেবীদ্বার উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার বলেন, “শাহিনা একজন সাহসী মা ও সত্যিকারের যোদ্ধা। আমি ব্যক্তিগতভাবে বহুবার তার জন্য লিখেছি, আবেদন করেছি। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা করতে না পারার কষ্ট আজও রয়ে গেছে। মা দিবসে তাকে আমার স্যালুট।”

মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ছেলে সাইফুল। তিনি বলেন, “আমার মা-ই আমার পৃথিবী। তিনি না থাকলে আমি আজ কিছুই হতে পারতাম না।”

এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন, “শাহিনা আক্তারের বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব। তার প্রতি কোনো অন্যায় হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও দেবীদ্বারের ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হবে।”

মা দিবসে নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে শাহিনা আক্তার বলেন, “আমার সন্তানরা একদম ছোট থাকতেই আমি স্বামী হারাই। এরপর শুধু মা নয়, বাবার দায়িত্বও আমাকে পালন করতে হয়েছে। অনেক কষ্ট করেছি, কিন্তু সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্ন কখনো ছাড়িনি।”

সমাজের অসংখ্য নির্যাতিত ও সংগ্রামী নারীর প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন শাহিনা আক্তার। তার জীবন কেবল এক মায়ের গল্প নয়, এটি সাহস, আত্মত্যাগ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

তারেক রহমানের প্রশংসা

‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও এমন প্রধানমন্ত্রী পাইনি’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসায় কে. এম. মুজিবুল হক

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১:২৩ পিএম
‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও এমন প্রধানমন্ত্রী পাইনি’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসায় কে. এম. মুজিবুল হক

‘তার মুখে প্রতিহিংসার ভাষা নেই, নির্যাতনের প্রতিশোধও নিচ্ছেন না’—মুরাদনগরে প্রবাসী গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জাঁকজমক উদ্বোধন

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ, বিপুল দর্শক সমাগম ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে ‘ভূইতাইল সেতুবন্ধন প্রবাসী মানব কল্যাণ সংগঠন গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

                 হাইলাইটস

  • কে. এম. মুজিবুল হকের বক্তব্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা
  • ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না’—এমন মন্তব্য প্রধান অতিথির
  • মুরাদনগরে উৎসবমুখর পরিবেশে গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
  • যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার ওপর গুরুত্বারোপ
  • উদ্বোধনী ম্যাচে সাহেদাগোপ ইয়াং স্টার ফুটবল একাদশের ৩-০ গোলের জয়

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার শ্রীকাইল কৃষ্ণকুমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ)-এর ছোট ভাই, ইউএপি ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান এবং টাস গ্রুপের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে কেএম মুজিবুল হক বলেন,

«”স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও এরকম প্রধানমন্ত্রী আমরা পাইনাই। যার মুখে প্রতিহিংসার ভাষা নাই। তিনি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি তার ওপর ঘটে যাওয়া কোনো নির্যাতনের প্রতিশোধ নিচ্ছেন না। আপনারা সবাই ওনার জন্য দোয়া করবেন।”»

তার এই বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং করতালির মাধ্যমে বক্তব্যকে স্বাগত জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট মনিরুল হক জর্জ। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়া সংগঠক, সমাজসেবক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রবাসী ব্যক্তিত্ব এবং বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা একজন তরুণকে শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে না, বরং তার মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির চর্চা গড়ে তোলে।

তারা আরও বলেন, যুবসমাজকে সুস্থ ধারার বিনোদন ও ক্রীড়াচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পরিবার, সমাজ, প্রবাসী এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের টুর্নামেন্ট তরুণদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী ম্যাচেও ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সাহেদাগোপ ইয়াং স্টার ফুটবল একাদশ দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জাফরগঞ্জ ফুটবল একাডেমিকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করে। ম্যাচজুড়ে সাহেদাগোপ দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং প্রতিটি গোলেই মাঠজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

খেলা উপভোগ করতে বিকেল থেকেই মাঠে ভিড় করেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার হাজারো ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক। পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ছোট-বড়, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষ প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত হন।

আয়োজকরা জানান, ভূইতাইল সেতুবন্ধন প্রবাসী মানব কল্যাণ সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ক্রীড়া উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছে। প্রবাসীদের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় আয়োজিত এই গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

তারা আরও জানান, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়; বরং তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলেও আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

শীর্ষ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

বিশ্ববাটপার ইউনুস থেকে শুরু, একের পর এক শীর্ষ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪৯ এএম
বিশ্ববাটপার ইউনুস থেকে শুরু, একের পর এক শীর্ষ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

বিশ্ববাটপার ইউনুস চালু করেছিল মব কালচার। স্বাস্থ্য খাত থেকেও সে মব কালচার ও অবিচার থেকে এখনো বের হতে পারেনি বাংলাদেশ। দেশের স্বাস্থ্য খাতে একের পর এক খ্যাতিমান চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসকদের হয়রানি, অপসারণ ও দেশত্যাগে বাধ্য করার প্রবণতা চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাদের দাবি, এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন শীর্ষ চিকিৎসককে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসক সমাজ, বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

হাইলাইটস
  • শীর্ষ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ
  • অপসারণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক
  • দেশ ছাড়ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
  • স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ বাড়ছে
  • চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন

ডা. সামন্ত লাল সেন

সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যতম খ্যাতিমান প্লাস্টিক সার্জন ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তিনি এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে সম্প্রতি ভারতের ত্রিপুরার একটি মেডিকেল কলেজে পাঠদান করতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি, মামলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

প্রফেসর দ্বীন মুহাম্মদ

জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও দেশের প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট প্রফেসর দ্বীন মুহাম্মদকে তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ।

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ পদ বাতিল এবং পূর্বে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অনেক চিকিৎসক ও বিশ্লেষক।

চিকিৎসকদের উদ্বেগ

স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া বা বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সমালোচকদের দাবি, বিশ্ববাটপার ইউনুস দেশ বিক্রি করে স্বাস্থ্যখাতের সব টাকা বিদেশ পাচার করেছেন। এই সুদখোর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের হারানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে আইন, বিধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে ব্যাখ্যা দিয়ে আসছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

রহস্য উদ্ঘাটনে চলছে তদন্ত

রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যাকাণ্ড: একমাত্র জীবিত ছেলের মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যাকাণ্ড: একমাত্র জীবিত ছেলের মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি

ময়নাতদন্তে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের প্রমাণ, ধর্ষণের আলামত মেলেনি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে হত্যাকাণ্ড এর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাত (১৮) বাদী হয়ে রায়পুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

🚨 হাইলাইটস

  • একমাত্র জীবিত ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
  • ময়নাতদন্তে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে
  • প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে
  • সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় তদন্ত জটিল হয়েছে
  • হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে

এদিকে শুক্রবার বিকেলে রায়পুর শহরের ধানহাটা সড়কে নিহত চারজনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে মরদেহগুলো তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের দাফন করা হবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে চারটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল জানান, নিহতদের হাত, মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত শাহিনুর আক্তারের প্রয়াত স্বামী কামাল হোসেনের ভাই, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক জামাল হোসেন মরদেহ গ্রহণ করেন।

জামাল হোসেন বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে তার ভাই কামাল হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর শাহিনুর আক্তার চার সন্তানকে নিয়ে রায়পুর শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সন্তানরা সবাই মেধাবী ছিল। তিন মেয়ে লেখাপড়া করত এবং ছেলে জুনাইদ লেখাপড়ার পাশাপাশি গত ছয় মাস ধরে চাকরি করছিল। তিনি বলেন, ভাবি ও ভাতিজা-ভাতিজিরা মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। কী কারণে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তাদের জানা নেই।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর শহরের ধানহাটা সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুর আক্তার (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২০), মেঝো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৬) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তারকে (৯) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দিলে সেও মারা যায়। পরিবারের দাবি, অন্তর তাদের পূর্বপরিচিত ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। সন্দেহভাজন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে তদন্ত আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাতের ধারণা, ঘটনাটি টাকা-পয়সা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেও ঘটতে পারে। তিনি জানান, বাড়িওয়ালা অনুপস্থিত থাকলে ভাড়াটিয়ারা তার মায়ের কাছেই ভাড়া জমা দিতেন। পরে বাড়িওয়ালা এসে তা নিয়ে যেতেন। এছাড়া পুরো ভবনের দেখভালের দায়িত্বও তার মায়ের ওপর ছিল। তিনি আরও বলেন, বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সন্দেহভাজন অন্তরকে আর সেখানে আসতে দেখেননি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।”

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x