সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

কঠোর হুঁশিয়ারি

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম

ফাহিমা বেগম প্রিয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম

কুমিল্লার সমাবেশ থেকে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম।

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • নভেম্বরের মধ্যে আইন না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সাংবাদিক সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের জন্য সরকারকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর।
  • আগামী নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
  • শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নবগঠিত কুমিল্লা জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নভেম্বরের মধ্যে আইন না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সাংবাদিক সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের জন্য সরকারকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নবগঠিত কুমিল্লা জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আবু জাফর বলেন,

“সাংবাদিকদের কাছে ভালো সংবাদ চাইবেন, অথচ তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবেন না—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের জন্য কোনো সরকারই কার্যকরভাবে কিছু করেনি। জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের গত ৫৫ বছর ধরে নানা আশ্বাস দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। সাংবাদিকতা পেশার অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে গণমাধ্যম অঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আহমেদ আবু জাফর আরও বলেন, দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাংবাদিক হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলোরও যথাযথ বিচার হচ্ছে না। অনেক আসামি জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৫৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হলেও অধিকাংশ হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের বিমাতাসুলভ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

দৈনিক আজকের কথা
সাংবাদিকদের কাছে ভালো সংবাদ চাইবেন, অথচ তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবেন না—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করা হবে।
— — আহমেদ আবু জাফর
সভাপতি, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ট্রাস্টি বোর্ড

সাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাতে কোনো ধরনের হেনস্তা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি খেয়াল রাখবেন।

তিনি বলেন,

“আমি সাংবাদিকদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ থাকব।”

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম মহিউদ্দিন মন্টির সঞ্চালনায় এবং জেলা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক সহিদুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক নীতিশ সাহা, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, কুমিল্লার জমিন পত্রিকার সম্পাদক শাহজাদা এমরান এবং দৈনিক সমাজ কণ্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন চাষী।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে রাসেল, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সালাহ উদ্দিন নোমান, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা সিকান্দার আলী কাবুল এবং কেন্দ্রীয় নেতা ফাতেমা আক্তার।

১১১ সদস্যের কমিটির পরিচিতি

অনুষ্ঠানে নবগঠিত কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১১১ সদস্যের কার্যকরী পর্ষদ ও সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যের পর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক সংগঠনের সাংগঠনিক রূপরেখা তুলে ধরেন।

এ সময় মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ১০ জন সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

সাংবাদিককে হুমকি ও জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ: পরীমনিকে ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
সাংবাদিককে হুমকি ও জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ: পরীমনিকে ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের হয়রানি, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি; চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ, হয়রানি এবং জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগে চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনিকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান শাহরিয়ার এ নোটিশ পাঠান। এতে পরীমনি ছাড়াও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য পরীমনিকে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অশ্লীল বক্তব্য, সংলাপ, হুমকি, অশ্লীল অভিনয় ও অঙ্গভঙ্গি এবং নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্পমূল্য বা শিক্ষাগত গুরুত্ব নেই—এমন কর্মকাণ্ড চলচ্চিত্র, ভিডিও, অডিও-ভিজ্যুয়াল, স্থিরচিত্র কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে ধারণ ও প্রচার না করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাত দিনের মধ্যে পরীমনিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি। ওই দিন সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা তাঁর ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

নোটিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেন পরীমনি। পাশাপাশি তাঁর ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত ট্রাইপডটি পরীমনির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা ভেঙে ফেলেন।

এ ঘটনায় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন এবং টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ আহত হন বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া সুজন চন্দ্র মণি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীও আহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তাঁর মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়েছিল।

নোটিশে বলা হয়েছে, আদালত প্রাঙ্গণে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। সেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ কিংবা পেশিশক্তি প্রদর্শনের সুযোগ নেই।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়, আদালত থেকে বের হওয়ার পর পরীমনি সমকালের সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে যান। রবিউলের ডান হাত জন্মগতভাবে ছোট এবং ওই হাতে তিনটি আঙুল না থাকায় তিনি স্বাভাবিকভাবে হাতটি ব্যবহার করতে পারেন না। এ সময় তাঁকে উদ্দেশ করে পরীমনি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও হত্যার হুমকি দেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলেও এতে বলা হয়।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন পেশাদার সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ তাঁর পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত। একই সঙ্গে এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

অন্যদিকে, গত ৬ নভেম্বর পরীমনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতকে মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করে একটি অশ্লীল পোস্ট দিয়েছেন বলেও নোটিশে অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

সৌদির জেদ্দায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ৬—সবাই কক্সবাজারের তিন পরিবারের সদস্য

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ এএম
সৌদির জেদ্দায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ৬—সবাই কক্সবাজারের তিন পরিবারের সদস্য

মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় গাড়ি; নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন, অতিরিক্ত গতিকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করছে ট্রাফিক বিভাগ

সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ১৩ বাংলাদেশির সবাই কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা। শনিবার মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিরা তিনটি পরিবারের সদস্য।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে ঢাকায় পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান এবং মেয়ে বুশরা। দুর্ঘটনায় জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও আরেক মেয়ে ইউসরা আহত হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

একই গাড়িতে থাকা আলম শাহ হারিয়েছেন স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়াকে। দুর্ঘটনায় আলম শাহ ও তাঁর ছেলে ফয়সাল আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আহত ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তি গফুর আলম।

কনস্যুলেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন পরিবারের প্রধানসহ চারজন সৌদি আরবের আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির মক্কা শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালমান কনস্যুলেট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িতে কোম্পানির চার বাংলাদেশি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় আনুমানিক ১৬০ কিলোমিটার ছিল বলে জানা গেছে। ট্রাফিক বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি উল্টে যায়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

‘আমার নিরাপত্তা কোথায়?’ ফেসবুকে খন্দকার মোশাররফের পুত্রবধূর আকুতি, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
‘আমার নিরাপত্তা কোথায়?’ ফেসবুকে খন্দকার মোশাররফের পুত্রবধূর আকুতি, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

প্রাণনাশের আশঙ্কা জানিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেন নাইমা খন্দকার; ২০ দিন ধরে থানায় জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি, লিখিত অভিযোগ চেয়েছে পুলিশ

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্রবধূ সমাজকর্মী নাইমা খন্দকার। শুক্রবার রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি, মানহানিকর অপপ্রচার ও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমার নিরাপত্তা কোথায়? একজন নারী হিসেবে আজ আমি কার কাছে বিচার চাইব?’

নাইমা খন্দকার জে. হুদা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও সচিব। পাশাপাশি তিনি জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, কুমিল্লা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফেসবুক পোস্টে নাইমা লেখেন, দাউদকান্দির সর্বস্তরের মানুষ, দেশের সচেতন নাগরিক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। যেকোনো সময় তাঁর প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নাইমার দাবি, তাঁর শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের চিকিৎসার জন্য স্বামী খন্দকার মাহবুব হোসেন তুষার তাঁকে নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে তিনি নিজ বাসায় একা থাকায় বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, এসব বিষয়ে গত ২০ দিন ধরে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি।

নাইমা লেখেন, চলমান মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তাঁকে আইনের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। চরম মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষার হলে তাঁর প্রায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছিল।

শনিবার সন্ধ্যায় নাইমা খন্দকার বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধূ হয়েও যদি নিজের এলাকায় এমন হেনস্তা ও অপপ্রচারের শিকার হই, তবে সাধারণ পরিবারের মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? আমার শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ এবং স্বামী মাহবুব হোসেন তুষার বলে আমি কোনো বাড়তি সুবিধা চাই না। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে শুধু সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই। কার ইন্ধনে ফেসবুক আইডি থেকে এমন অপপ্রচার ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা পুলিশকে খুঁজে বের করার অনুরোধ জানিয়েছি।’

এদিকে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাইমা খন্দকার মৌখিকভাবে ফেসবুকে তাঁকে নিয়ে লেখালেখির অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

×
ENG