মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—এমন অভিযোগ ফের উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে, কারণ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে প্যারেড (কুচকাওয়াজ) বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতির সবচেয়ে গৌরবময় দিনে রাষ্ট্রীয় সামরিক কুচকাওয়াজ বন্ধ রাখাকে বহু নাগরিক সরাসরি স্বাধীনতার মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন।
আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান—
“গত বছরের মতো এবারও বিজয় দিবসে প্যারেড হবে না। দেশের কোথাও কোনো শঙ্কা নেই।”
সরকারের এমন বক্তব্যকে অনেকে পুরোপুরি অযৌক্তিক, অসংলগ্ন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।
সমালোচকদের অভিযোগ—সরকার পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠীকে খুশি করছে
বহু বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে বলছেন—
স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের দিনটিতে রাষ্ট্রীয় সামরিক প্যারেড না করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করার অপপ্রয়াস। বিশেষ করে দেশে যখন পাকিস্তানপন্থী ও যুদ্ধাপরাধীদের পুনরুত্থানের অভিযোগ উঠছে, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্তকে জনগণ গভীর সন্দেহের চোখে দেখছে।
এ ছাড়া অনেকে মনে করছেন—
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর ক্ষমতায় থাকা গোষ্ঠী মূলত ৭১-এ পরাজিত শক্তি ও জঙ্গিবাদী চক্রকে সন্তুষ্ট করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। বিজয় দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানের পরিধি সংকুচিত করা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
‘অস্থিরতা নেই’—সরকারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দাবি করেছেন—শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও অস্থিরতা নেই।
কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—
যদি অস্থিরতা না থাকে, তাহলে টানা দুই বছর কেন কুচকাওয়াজ বন্ধ?
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা—এটাকেই অনেকেই সরকারের অক্ষমতা ও গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন।
আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত
সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী ও সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
কিন্তু সভা শেষে জনমনে যে প্রশ্নগুলো ছিল—
সেগুলোর কোনো স্পষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি।
জনমতের ক্ষোভ: “এ কি স্বাধীন দেশের পরিচয়?”
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরণ হয়েছে ক্ষোভের। অনেকেই লিখছেন—
“বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ বন্ধ মানে জাতির অস্তিত্ববোধে আঘাত।”
আরও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—
রাষ্ট্র কি এখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী উপাদানগুলোর চাপে পরিচালিত হচ্ছে?মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্তে দেশের গণমানুষ উদ্বিগ্ন
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—এই অভিযোগ এবার আর কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; সরকারের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। মানুষ বলছে—বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার চেতনাকে যারা অন্ধকারে ঢেকে রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যই পূরণ হচ্ছে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে।

দেবীদ্বারে হাজী পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

‘হজ কেবল একটি সফর নয়, এটি জীবনের সবচেয়ে বড় আত্মশুদ্ধির পরীক্ষা’
বাংলাদেশি হাজীদের জন্য হাজী পুনর্মিলনী সাধারণত বিভিন্ন হজ কাফেলা, ট্রাভেল এজেন্সি বা আঞ্চলিক হাজী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত হয়ে থাকে। এই মিলনমেলাগুলোতে পবিত্র হজের স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিল, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ওমরাহ যাত্রীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এমনই এক অনুষ্ঠান কুমিল্লার দেবীদ্বারে পবিত্র হজ পালন শেষে ফিরে আসা হাজিদের সম্মানে পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় আবহ, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও আত্মিক বন্ধনের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা হজের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হাইলাইটস
- দেবীদ্বারে হাজীদের সম্মানে পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা
- ‘হজ আত্মশুদ্ধির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা’—অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম
- হজ-পরবর্তী জীবনেও তাকওয়া ও নৈতিকতা ধরে রাখার আহ্বান
- ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ
- দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে সিন্দাবাদ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস-এর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আড়াইবাড়ি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “হজ কেবল একটি সফর নয়, এটি জীবনের সবচেয়ে বড় আত্মশুদ্ধির পরীক্ষা।”
তিনি বলেন, “আপনারা যারা আল্লাহর মেহমান হয়ে পবিত্র মক্কা ও মদিনার মাটি স্পর্শ করে এসেছেন, তারা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। তবে হজের প্রকৃত সফলতা শুধু হজ পালনেই নয়, বরং হজ-পরবর্তী জীবনেও সেই তাকওয়া, সততা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা ধরে রাখার মধ্যেই নিহিত। মক্কা-মদিনা থেকে অর্জিত শিক্ষা আমাদের প্রতিটি কাজে প্রতিফলিত হতে হবে।”
সিন্দাবাদ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস-এর স্বত্বাধিকারী হাজী মো. জামাল হোসেন-এর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা মো. আবুল হোসাইন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মো. সহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মহিউদ্দিন মূন্স এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন মো. ফেরদৌস আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মো. শহিদুল্লাহ ভূঁইয়া, মাওলানা মো. কামাল উদ্দিন মূন্সীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, পুনর্মিলনীর উদ্দেশ্য কেবল হজের স্মৃতিচারণ নয়; বরং হাজিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, “আমরা দেবীদ্বারের হাজিরা যেন একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে পারি, সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারি এবং একটি আদর্শ সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দিতে পারি—আজকের এই দিনে সেটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”
সভাপতির বক্তব্যে হাজী মো. জামাল হোসেন মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, “আজকের এই বরকতময় ও আনন্দঘন পরিবেশে আমরা সবাই আবারও পবিত্র হজের স্মৃতিকে স্মরণ করার এবং একে অপরের সঙ্গে দ্বীনি ভালোবাসার বন্ধনে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। মহান আল্লাহর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আলহামদুলিল্লাহ।”
অনুষ্ঠি শেষে হাজিদের জন্য বিশেষ দোয়া ও দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

নির্যাতনের অভিযোগে মৃত্যু
রামগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: নির্যাতনের অভিযোগ, মর্গে লাশ রেখে স্বামীর পালানোর দাবি

পরিবারের অভিযোগ—মারধর ও জোরপূর্বক বিষপানে মৃত্যু; তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীর নির্যাতনের মারা যায় সামিয়া আক্তার নিশু (৩০) নামে তিন সন্তানের জননী এমন অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রেখে স্বামী হাফেজ মোল্লা পালিয়ে যান।
হাইলাইটস
- রামগঞ্জে গৃহবধূ সামিয়া আক্তার নিশুর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য
- পরিবারের অভিযোগ—স্বামীর নির্যাতনের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
- মৃত্যুর পর হাসপাতালের মর্গে লাশ রেখে পালানোর অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
- ঘটনার আগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন নিহতের বাবা
- পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ, তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
নিহত সামিয়া আক্তার নিশু রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের জয়নকের বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত হাফেজ মোল্লা একই ইউনিয়নের উত্তরগ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।
নিহতের মা কুসুম বেগম অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর স্বামী নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। গত ১৬ জুন মারধরের পর প্রথমে তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ২৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিয়া আক্তার নিশুর মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর পর হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রেখে হাফেজ মোল্লা পালিয়ে যান। পরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় মরদেহ গ্রহণ করেন। শুক্রবার (২৬ জুন) বাবার বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
অভিযুক্তের ভাই আল-আমিন বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তার বিচার হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, তার ভাইয়ের স্ত্রী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
নিহতের বোন সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করেন, তার বোনকে নির্যাতনের পাশাপাশি জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ হাসপাতালে রেখে অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে যান। তিনি এ ঘটনার বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে গত ১৬ জুন নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত হাফেজ মোল্লার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের শেরেবাংলা নগর থানার মাধ্যমে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সামিয়া আক্তার নিশুর মৃত্যু বিষপানের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হয়েছে। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ পোস্টমর্টেম রিপোর্ট চেয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

তারেক রহমানের প্রশংসা
‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও এমন প্রধানমন্ত্রী পাইনি’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসায় কে. এম. মুজিবুল হক

মুরাদনগরে প্রবাসী গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জাঁকজমক উদ্বোধন
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ, বিপুল দর্শক সমাগম ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে ‘ভূইতাইল সেতুবন্ধন প্রবাসী মানব কল্যাণ সংগঠন গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
হাইলাইটস
- কে. এম. মুজিবুল হকের বক্তব্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা
- ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না’—এমন মন্তব্য প্রধান অতিথির
- মুরাদনগরে উৎসবমুখর পরিবেশে গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
- যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার ওপর গুরুত্বারোপ
- উদ্বোধনী ম্যাচে সাহেদাগোপ ইয়াং স্টার ফুটবল একাদশের ৩-০ গোলের জয়
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার শ্রীকাইল কৃষ্ণকুমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ)-এর ছোট ভাই, ইউএপি ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান এবং টাস গ্রুপের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে কেএম মুজিবুল হক বলেন,
“স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও এরকম প্রধানমন্ত্রী আমরা পাইনাই। যার মুখে প্রতিহিংসার ভাষা নাই। তিনি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া কোনো নির্যাতনের প্রতিশোধ নিচ্ছেন না। আপনারা সবাই ওনার জন্য দোয়া করবেন।”
ইউএপি ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস
তার এই বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং করতালির মাধ্যমে বক্তব্যকে স্বাগত জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট মনিরুল হক জর্জ। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়া সংগঠক, সমাজসেবক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রবাসী ব্যক্তিত্ব এবং বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা একজন তরুণকে শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে না, বরং তার মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির চর্চা গড়ে তোলে।
তারা আরও বলেন, যুবসমাজকে সুস্থ ধারার বিনোদন ও ক্রীড়াচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পরিবার, সমাজ, প্রবাসী এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের টুর্নামেন্ট তরুণদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী ম্যাচেও ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সাহেদাগোপ ইয়াং স্টার ফুটবল একাদশ দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জাফরগঞ্জ ফুটবল একাডেমিকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করে। ম্যাচজুড়ে সাহেদাগোপ দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং প্রতিটি গোলেই মাঠজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
খেলা উপভোগ করতে বিকেল থেকেই মাঠে ভিড় করেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার হাজারো ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক। পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ছোট-বড়, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষ প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত হন।
আয়োজকরা জানান, ভূইতাইল সেতুবন্ধন প্রবাসী মানব কল্যাণ সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ক্রীড়া উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছে। প্রবাসীদের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় আয়োজিত এই গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
তারা আরও জানান, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়; বরং তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলেও আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




















