শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৭ পিএম
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—এমন অভিযোগ ফের উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে, কারণ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে প্যারেড (কুচকাওয়াজ) বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
  • জাতির সবচেয়ে গৌরবময় দিনে রাষ্ট্রীয় সামরিক কুচকাওয়াজ বন্ধ রাখাকে বহু নাগরিক সরাসরি স্বাধীনতার মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন।
  • আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান— “গত বছরের মতো এবারও বিজয় দিবসে প্যারেড হবে না।

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—এমন অভিযোগ ফের উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে, কারণ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে প্যারেড (কুচকাওয়াজ) বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতির সবচেয়ে গৌরবময় দিনে রাষ্ট্রীয় সামরিক কুচকাওয়াজ বন্ধ রাখাকে বহু নাগরিক সরাসরি স্বাধীনতার মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান—
“গত বছরের মতো এবারও বিজয় দিবসে প্যারেড হবে না। দেশের কোথাও কোনো শঙ্কা নেই।”
সরকারের এমন বক্তব্যকে অনেকে পুরোপুরি অযৌক্তিক, অসংলগ্ন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।

সমালোচকদের অভিযোগ—সরকার পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠীকে খুশি করছে

বহু বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে বলছেন—
স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের দিনটিতে রাষ্ট্রীয় সামরিক প্যারেড না করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করার অপপ্রয়াস। বিশেষ করে দেশে যখন পাকিস্তানপন্থী ও যুদ্ধাপরাধীদের পুনরুত্থানের অভিযোগ উঠছে, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্তকে জনগণ গভীর সন্দেহের চোখে দেখছে।

এ ছাড়া অনেকে মনে করছেন—
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর ক্ষমতায় থাকা গোষ্ঠী মূলত ৭১-এ পরাজিত শক্তি ও জঙ্গিবাদী চক্রকে সন্তুষ্ট করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। বিজয় দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানের পরিধি সংকুচিত করা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

‘অস্থিরতা নেই’—সরকারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দাবি করেছেন—শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও অস্থিরতা নেই।
কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—
যদি অস্থিরতা না থাকে, তাহলে টানা দুই বছর কেন কুচকাওয়াজ বন্ধ?
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা—এটাকেই অনেকেই সরকারের অক্ষমতা ও গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন।

আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত

সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী ও সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
কিন্তু সভা শেষে জনমনে যে প্রশ্নগুলো ছিল—
সেগুলোর কোনো স্পষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি।

জনমতের ক্ষোভ: “এ কি স্বাধীন দেশের পরিচয়?”

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরণ হয়েছে ক্ষোভের। অনেকেই লিখছেন—
“বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ বন্ধ মানে জাতির অস্তিত্ববোধে আঘাত।”
আরও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—
রাষ্ট্র কি এখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী উপাদানগুলোর চাপে পরিচালিত হচ্ছে?

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্তে দেশের গণমানুষ উদ্বিগ্ন

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—এই অভিযোগ এবার আর কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; সরকারের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। মানুষ বলছে—বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার চেতনাকে যারা অন্ধকারে ঢেকে রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যই পূরণ হচ্ছে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

জনস্বাস্থ্যের লড়াইয়ে সাহসী কণ্ঠের অবসান

দেবীদ্বারের কৃতিসন্তান প্রখ্যাত ঔষধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক আর নেই

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫০ পিএম
দেবীদ্বারের কৃতিসন্তান প্রখ্যাত ঔষধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক আর নেই

কুমিল্লার দেবীদ্বারের কৃতিসন্তান, বাংলাদেশের প্রখ্যাত ঔষধ বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক (৭৪) আর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসা শেষে মেয়ের বাসায় অবস্থানকালে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মারা যান।

তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাসেম হুমায়ুন।

পারিবারিক ও বন্ধুদের সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন, ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ছিলেন। দেশের ঔষধ বিজ্ঞান, উচ্চশিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম হাবিবুর রহমান পেশায় সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে তাঁর পরিবার ঢাকার মিরপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর তিনি একই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন এবং ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়ার পর অধ্যাপক ফারুক সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন এবং ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক ডক্টর আ ব ম ফারুক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ঔষধ বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। জাতীয় ঔষধনীতি প্রণয়ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ নিশ্চিতকরণ এবং ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কাসেম হুমায়ুন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, দৈনিক সংবাদ

দেশের জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ঔষধ নিশ্চিত করতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ‘জাতীয় ঔষধনীতি ২০১৬’ প্রণয়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও সোচ্চার ছিলেন অধ্যাপক ফারুক। নিরাপদ খাদ্য ও ঔষধ নিশ্চিত করা, ভেজাল প্রতিরোধ এবং দেশের ঔষধশিল্পের মান নিয়ন্ত্রণে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও নীতিনির্ধারণী উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

২০১৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার বাজারে পাওয়া বিভিন্ন পাস্তুরিত তরল দুধ নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় কয়েকটি ব্র্যান্ডের দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতির বিষয়টি উঠে আসে। গবেষণার ফল প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন মহলের চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে তিনি নিজের গবেষণালব্ধ তথ্য ও বৈজ্ঞানিক অবস্থানে অটল ছিলেন।

জনস্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর সোচ্চার ভূমিকা তাঁকে দেশের নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমে পরিচিত করে তোলে। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম এবং ঔষধের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার বিষয়ে তিনি নিয়মিত কথা বলেছেন ও লেখালেখি করেছেন।

দেশের ঔষধ বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য আন্দোলনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

অধ্যাপক ফারুকের পারিবারিক অবস্থা এবং তাঁর মরদেহ দেশে আনা বা দাফনের সময় ও স্থান সম্পর্কে স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনেরা এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেননি।

জরুরি বিভাগের দরজায় বিতর্কিত নির্দেশনা

‘স্যার-ম্যাডাম’ না বললেই ভোগান্তি, মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ক্ষোভ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম
‘স্যার-ম্যাডাম’ না বললেই ভোগান্তি, মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ক্ষোভ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন না করলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসকদের কীভাবে সম্বোধন করতে হবে, সে বিষয়ে শুধু মৌখিক সতর্কতা নয়, জরুরি বিভাগের সামনের দরজাতেও লিখিত নির্দেশনা টানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কোনো মহিলা ডাক্তারকে ম্যাডাম-স্যার ছাড়া অন্য কিছু ডাকবেন না।’

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় সামাজিক রীতি ও আঞ্চলিক ভাষায় তাঁরা নারী চিকিৎসকদের ‘আপা’ এবং পুরুষ চিকিৎসকদের ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে থাকেন। এতে চিকিৎসকদের অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না। কিন্তু হাসপাতালে এসে ‘ভাই’ বা ‘আপা’ বলে ডাকলে কেউ কেউ বিরক্ত হন এবং এতে চিকিৎসাসেবা নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

চিকিৎসা নিতে আসা জুলেখা বেগম বলেন, “আমরা গ্রামের মানুষ। নারীদের আপা আর পুরুষদের ভাই বলেই অভ্যস্ত। এখানে ডাক্তারদের ভাই বা আপা বললে তারা রেগে যান। এ কারণে অনেক সময় চিকিৎসা নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।”

হাসপাতালের কয়েকজন রোগীর স্বজনও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাঁদের মতে, রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট সম্বোধন ব্যবহারে বাধ্য করার পরিবর্তে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে জরুরি বিভাগের সামনে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনো সম্বোধন ব্যবহার না করার লিখিত নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “রোগীরা চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ বলতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জরুরি বিভাগের দরজায় টানানো নির্দেশনাটির বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেটি অপসারণ করা হবে।”

রোগীরা চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ বলতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জরুরি বিভাগের দরজায় টানানো নির্দেশনাটির বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেটি অপসারণ করা হবে।
ডা. আবুল কালাম আজাদ
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (টিএইচও), মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

টিএইচওর এমন বক্তব্যের পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রোগীদের সঙ্গে সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দুই দিনব্যাপী চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন স্থানীয়রা

কায়কোবাদ এমপিকে প্রধান অতিথি করে চন্দনাইলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, উদ্বোধনে কে এম মুজিবুল হক

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম
কায়কোবাদ এমপিকে প্রধান অতিথি করে চন্দনাইলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, উদ্বোধনে কে এম মুজিবুল হক

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চন্দনাইলে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন ডা. পি. কে সাহার সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং ‘মুরাদনগর উপজেলা বিসিএস ক্যাডার অফিসার্স ফোরাম’-এর সার্বিক সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প-২০২৬ শুরু হয়েছে।

স্বর্গীয় রাজমোহন সাহা ও তাঁর সহধর্মিণী মাখন বালা সাহার পুণ্যস্মৃতি স্মরণে চন্দনাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।

মুরাদনগরের চন্দনাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা।
মুরাদনগরের চন্দনাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি : আজকের কথা

আয়োজকদের প্রকাশিত ব্যানারে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে আলহাজ্ব কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) এমপির নাম উল্লেখ করা হলেও শারীরিক অসুস্থতা কিংবা অনিবার্য কারণে তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পের উদ্বোধন ও কর্মসূচির শুভসূচনা করেন টিএএস (TAS) এভিয়েশন গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হক।

দরিদ্র, অসহায় ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে মুরাদনগরের মানুষের উপকার হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
কে এম মুজিবুল হক
চেয়ারম্যান, টিএএস (TAS) এভিয়েশন গ্রুপ

আয়োজকরা জানান, মুরাদনগরের দরিদ্র, অসহায় ও সাধারণ মানুষের কাছে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দিনব্যাপী ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

ক্যাম্পের প্রথম দিন থেকেই চিকিৎসাসেবা নিতে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, অ্যাডভোকেট সরকার নূরুল হক, ড. মো. হেলাল উদ্দিন (এনডিসি), ডা. আমির হোসেন, ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ খান এবং মো. শফিউর আলম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এমন আয়োজন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

×
ENG