পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ নগদ টাকা উদ্ধার
পায়বে ৬১৫ ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মুরাদনগরে এক রাতে আটক ৮

মুরাদনগরের পায়ব গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬১৫ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিয়ে পুলিশের অভিযান। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
কুমিল্লার মুরাদনগরে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে এক রাতে পাঁচ মাদক কারবারি ও তিন মাদকসেবীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে পায়ব গ্রাম থেকে চার মাদক কারবারির কাছ থেকে ৬১৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১১ হাজার ৪০ টাকা এবং মোচাগড়া গ্রাম থেকে আরও ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর নির্দেশনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মুরাদনগর উপজেলা সদরের মধ্যপাড়ার মো. তকদিরের ছেলে মো. রাব্বি (২৮), পায়ব গ্রামের আনু মেম্বারের বাড়ির মৃত কামাল হোসেন জসিমের ছেলে মো. জাকারিয়া আহমেদ হৃদয় (২৫), শুশুন্ডা নতুন বাজার এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইকবাল হাসান (২০), জাহাপুর মধ্যপাড়ার মনির হোসেনের ছেলে কাউসার সরকার (১৯), যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামের মৃত কিরণের স্ত্রী সুখি (৩০), নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ত্রিশ গ্রামের মো. নাছির মিয়ার ছেলে মো. আমান উল্লাহ (২৫), একই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৩৯) এবং মো. হারুন মিয়ার ছেলে মো. ফারুক (২৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসআই মো. আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই রাজু বড়ুয়া, এএসআই কুসুম বড়ুয়া ও এএসআই আব্দুল নেওয়াজ তানজিদসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল জাহাপুর ইউনিয়নের পায়ব গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় ৬১৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১১ হাজার ৪০ টাকাসহ রাব্বি, জাকারিয়া আহমেদ হৃদয়, ইকবাল হাসান ও কাউসার সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে একই রাতে এসআই মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের আরেকটি দল যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামের পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে ১৫ পিস ইয়াবাসহ সুখি নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করে।
এ ছাড়া মাদক সেবনের অভিযোগে আমান উল্লাহ, রফিকুল ইসলাম ও ফারুককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের প্রত্যেককে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেন।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। মুরাদনগর থানা এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক সেবন বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
একই রাতে পৃথক অভিযানে একাধিক মাদক কারবারি ও মাদকসেবী গ্রেপ্তার এবং ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
১৫ আগস্টের প্রস্তুতি সভায় অভিযান, বসুন্ধরা থেকে নারায়ণগঞ্জ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৫৩ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিটের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৫৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক-এম, রোড-২৮-এর একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি ও ঝটিকা মিছিলের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই ফ্ল্যাটে সমবেত হয়েছিলেন। এ সময় তাঁদের কাছে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার ছিল এবং বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিটের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। ওই সভায় আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা সেখানে আসেননি বলে জানান তিনি।
তবে পুলিশের এই দাবির সঙ্গে স্থানীয়ভাবে পাওয়া বক্তব্যের ভিন্নতা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় একটি গণমাধ্যমে কর্মরত খাদিজা বিনতে আরিফ নামে এক নারী দাবি করেন, তিনি ওই ভবনের পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন। তাঁর ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সবাই ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন না এবং তাঁদের কেউই বসুন্ধরা এলাকায় থাকেন না।
তিনি বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অনেকটা পার্থক্য রয়েছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অনেকেই নতুন কেনা সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত ছিলেন। ওই ফ্ল্যাটের মালিক কে, কার উদ্যোগে সেখানে সভার আয়োজন করা হয়েছিল এবং এর অর্থায়ন কোথা থেকে হয়েছে—এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আকাশের পাশে ডিসি, দিলেন স্মার্টফোন

চোখে পৃথিবীর আলো দেখতে পান না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকাশ দাস। তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা তাঁর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। প্রযুক্তির সহায়তায় এগিয়ে চলা এই শিক্ষার্থীর প্রয়োজনের কথা জানতে পেরে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তাঁকে একটি নতুন স্মার্টফোন উপহার দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আকাশের হাতে স্মার্টফোনটি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আকাশ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আলোকিত হবে।”
আকাশ দাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতক চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো বইয়ের পাতা পড়ে পাঠ গ্রহণ করতে পারেন না তিনি। ফলে শ্রেণিকক্ষের লেকচার রেকর্ড করা, স্ক্রিন রিডারের মাধ্যমে পাঠ্যবিষয় শোনা এবং অনলাইনে প্রয়োজনীয় বই ও গবেষণাপত্র খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হয় তাঁকে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপযোগী ব্রেইল পাঠ্যপুস্তকের অপ্রতুলতার কারণে আকাশের পড়াশোনায় অডিও ও ডিজিটাল প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেশি। একটি স্মার্টফোন তাই তাঁর কাছে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপকরণ।
তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় স্মার্টফোন কিনতে পারছিলেন না আকাশ। এ অবস্থায় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে তাঁর পারিবারিক অবস্থা ও প্রয়োজন সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে তাঁকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়।
সাক্ষাৎকালে জেলা প্রশাসক আকাশের পড়াশোনা ও পরিবারের বিষয়ে খোঁজ নেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় জানতে চান, “আজ কী পরীক্ষা ছিল? পরীক্ষা কেমন হয়েছে?”
পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে আকাশের হাতে নতুন স্মার্টফোনটি তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি জানতে চান, “মোবাইলটি পেয়ে খুশি তো?”
স্মার্টফোন পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আকাশ। তিনি জানান, নতুন ডিভাইসটি দিয়ে ক্লাসের লেকচার রেকর্ড করা, অডিও শুনে পড়াশোনা, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী ও গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা তাঁর জন্য অনেক সহজ হবে।
প্রযুক্তির বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা স্ক্রিন রিডার ও ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেখা শুনতে, তথ্য অনুসন্ধান করতে এবং অনলাইনে বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে পারেন। ফলে নতুন স্মার্টফোনটি আকাশের উচ্চশিক্ষার পথকে আরও কিছুটা সহজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চোখে দেখতে না পেলেও সমাজতত্ত্বে উচ্চশিক্ষা শেষ করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চান আকাশ। একটি স্মার্টফোন তাঁর জীবনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করবে না; তবে জ্ঞান অর্জনের পথকে আরও সহজ ও গতিশীল করবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার ভাষায়, “দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আকাশ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আলোকিত হবে।”
জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে নতুন শঙ্কা
বিশ্ব বাটপার ইউনূসের আমল থেকে বাংলাদেশে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা, উদ্বেগ জাতিসংঘের

বিশ্ব বাটপার মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে চলে আসা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে ঘিরে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের নতুন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS) বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সক্রিয় সেল বা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষক দল।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের Analytical Support and Sanctions Monitoring Team-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত S/2026/651 নম্বরের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত আল-কায়েদা, আইএসআইএল ও সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম ও হুমকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, AQIS একটি বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত সংগঠন থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপ নিচ্ছে। বড় সাংগঠনিক ইউনিটের পরিবর্তে ছোট, ছড়িয়ে থাকা ও বিকেন্দ্রীভূত সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার দিকে ঝুঁকছে সংগঠনটি। পাশাপাশি নিজেদের কার্যক্রম সচল রাখতে লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশকে ঘিরে বিশেষ উদ্বেগ
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল বলেছে, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে AQIS সক্রিয় সেল বা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে—এমন উদ্বেগ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নে বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই তথ্য সামনে আসার পর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—দেশ কি আবারও জঙ্গিবাদী তৎপরতার পুরোনো ঝুঁকির দিকে এগোচ্ছে? কেউ কেউ ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়কার জঙ্গি তৎপরতার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন।
বিশেষ করে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিভিন্ন নীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আগে থেকেই যে বিতর্ক ছিল, জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তার পর তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ইউনূস সরকার বা কোনো কথিত গোপন চুক্তিকে AQIS-এর বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
দিল্লির লালকেল্লা হামলাতেও AQIS-এর নাম
প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে সংঘটিত হামলার প্রসঙ্গও এসেছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই হামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে AQIS-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দিল্লির ওই হামলার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড AQIS-এর সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এনেছে। সংগঠনটি এখন বড় ইউনিটের বদলে ছোট ছোট সেল, আর্থিক চ্যানেল ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের ওপর বেশি নির্ভর করছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি হুমকি বাড়ার আশঙ্কা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী আল-কায়েদা ও আইএসআইএল-এর হুমকির মাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকলেও সাহেল ও দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসী হুমকি আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
আল-কায়েদার ক্ষেত্রে বড় আকারের আন্তর্জাতিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ও অভিপ্রায় কতটা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংগঠনটির আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক এবং ছোট সেলভিত্তিক কার্যক্রমকে নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইএসআইএল নিয়েও সতর্কবার্তা
শুধু আল-কায়েদা নয়, আইএসআইএল ও এর আঞ্চলিক সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়েও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। ছোট সেল, অনলাইন যোগাযোগ, উগ্রবাদী প্রচারণা এবং বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব সংগঠন তাদের কার্যক্রম ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ও আইএসআইএলের রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির প্রতি দীর্ঘদিনের আগ্রহের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা অর্জনে সংগঠনগুলো এখনও বিভিন্ন বাধার মুখে রয়েছে বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
নতুন করে প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি
জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম আসায় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে AQIS যদি ছোট ছোট সেল ও বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে প্রচলিত বড় সংগঠনভিত্তিক নজরদারির পাশাপাশি অনলাইন যোগাযোগ, অর্থায়ন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের ওপরও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ফলে ইউনূসের আমল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশ্ন—বাংলাদেশে AQIS-এর সম্ভাব্য সেল গঠনের চেষ্টা কতটা বাস্তব, এর পেছনে কারা রয়েছে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বাংলাদেশ অবশ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে আসছে।


































