কুমিল্লার দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার বোর্ড খাতা মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিনভর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- দেবীদ্বারের আবদুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থী ব্যবহারের অভিযোগ
- দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে খাতা মার্কিং করানোর অভিযোগ
- সহকারী প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার তত্ত্বাবধানে ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি
- ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনা
- স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ
- উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে
ভিডিওতে দেখা যায়, কুমিল্লার দেবীদ্বার আবদুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের খাতা মার্কিং করানো হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও খাতা মূল্যায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ এবং কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত নেই।
তবে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হলেও তারা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। আল আমিন নামে এক যুবক জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মেহেদী হাসানকে খাতা মার্কিং করতে দেখা যায়। ওই সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে তার এক বন্ধু তাকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করে। ভিডিওতে শোনা যায়, “বাচ্চু স্যার তোকে দিয়ে বোর্ড খাতা মার্কিং করায়, ভালো করে দেখ।” জবাবে মেহেদী বলেন, “এটা একটা ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দেই, সেটা বাচ্চু স্যার দিত না হলে।”
স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওটি প্রায় এক সপ্তাহ আগের হলেও বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় শরিফুল ইসলাম ও আলী আহাম্মদ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রোকনুজ্জামান খান বলেন, “বোর্ড পরীক্ষার খাতার মতো স্পর্শকাতর কাজে কোনো শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা মোটেও উচিত নয়। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে অভিযোগের অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, “বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ইউএনও’র সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডও তদন্ত করবে। আমি নিজেও তদন্ত করব, তবে তদন্ত ছাড়া মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”
দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “স্থানীয়রা বিষয়টি তদন্তের জন্য আবেদন করেছেন। শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।”

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক :