ময়নাতদন্তে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের প্রমাণ, ধর্ষণের আলামত মেলেনি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে হত্যাকাণ্ড এর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাত (১৮) বাদী হয়ে রায়পুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
🚨 হাইলাইটস
- একমাত্র জীবিত ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
- ময়নাতদন্তে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে
- প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে
- সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় তদন্ত জটিল হয়েছে
- হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে
এদিকে শুক্রবার বিকেলে রায়পুর শহরের ধানহাটা সড়কে নিহত চারজনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে মরদেহগুলো তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের দাফন করা হবে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে চারটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল জানান, নিহতদের হাত, মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত শাহিনুর আক্তারের প্রয়াত স্বামী কামাল হোসেনের ভাই, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক জামাল হোসেন মরদেহ গ্রহণ করেন।
জামাল হোসেন বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে তার ভাই কামাল হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর শাহিনুর আক্তার চার সন্তানকে নিয়ে রায়পুর শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সন্তানরা সবাই মেধাবী ছিল। তিন মেয়ে লেখাপড়া করত এবং ছেলে জুনাইদ লেখাপড়ার পাশাপাশি গত ছয় মাস ধরে চাকরি করছিল। তিনি বলেন, ভাবি ও ভাতিজা-ভাতিজিরা মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। কী কারণে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তাদের জানা নেই।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর শহরের ধানহাটা সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুর আক্তার (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২০), মেঝো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৬) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তারকে (৯) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দিলে সেও মারা যায়। পরিবারের দাবি, অন্তর তাদের পূর্বপরিচিত ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। সন্দেহভাজন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে তদন্ত আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাতের ধারণা, ঘটনাটি টাকা-পয়সা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেও ঘটতে পারে। তিনি জানান, বাড়িওয়ালা অনুপস্থিত থাকলে ভাড়াটিয়ারা তার মায়ের কাছেই ভাড়া জমা দিতেন। পরে বাড়িওয়ালা এসে তা নিয়ে যেতেন। এছাড়া পুরো ভবনের দেখভালের দায়িত্বও তার মায়ের ওপর ছিল। তিনি আরও বলেন, বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সন্দেহভাজন অন্তরকে আর সেখানে আসতে দেখেননি।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।”

আজকের কথা ডেস্ক