

আসিফ মাহমুদের বাবার দাপট- কুমিল্লার মুরাদনগরে ত্রিপল হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারের সদস্যরা নিজ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ৩ জুলাই বাঙ্গরা বাজারের কড়াইবাড়ীতে রিক্তা আক্তারের চোখের সামনে তার মা রুবি আক্তার, ভাই রাসেল এবং বোন জোনাকিকে পাথর ও দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রাণে বেঁচে গেলেও তার ছোট বোন রুমা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে হাসপাতালে।
টয়লেটে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচেন রিক্তা ও তার ভাবী মিম। কিন্তু পলাতক হওয়ার কথা সন্ত্রাসীদের, অথচ পালাতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদেরই। রিক্তা আক্তার অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামিরা ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ ও অন্যান্যরা এখনো বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আসিফ মাহমুদের বাবার আশ্রয়ে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

আকবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসেন, যিনি সরকারদলীয় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পিতা, সম্প্রতি বাংলা ভিশনের একটি প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎদাতাদের হুমকি দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন।
বাংলাভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিক্তা বলেন, “আমরা এখন পলাতক, ওরা বলছে পেলেই শত শত টুকরো করে ফেলবে।” তার বক্তব্যে উঠে আসে— আওয়ামী লীগ নেতা এবং যুব উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেনই মূল আশ্রয়দাতা।
শুধু এই ঘটনা নয়, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আকুবপুর ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিখা রাণী নামে এক নারী শিক্ষককেও একই নৃশংসতার শিকার হতে হয়। তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, পরে পুরো গ্রামে ঘোরানো হয়। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন বিল্লাল হোসেন, যিনি ওই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক এবং উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবা।
শিখা রাণী বলেন, “আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলাম। সেটাই ছিল আমার অপরাধ। ছেলেকে উপদেষ্টা বানিয়ে এখন প্রতিশোধ নিচ্ছেন।”
শুধু শিক্ষক নন, স্থানীয় স্কুল কমিটির তৎকালীন সভাপতি মোহাম্মদ আলীও দাবি করেন, বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলায় এখন তার পরিবারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “২০১৪ সালে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা তুলে নেয় বিল্লাল। ছেলে উপদেষ্টা হওয়ার পর আমাকে ধরে এনে রিমান্ডে নির্যাতন করা হয়, পরে ৩০ লাখ টাকার চাপে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাই।”
অভিযোগ আছে, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবার লোকজন দিয়ে স্থানীয় মাছ চাষি দুলাল চন্দ্রের পুকুর দখল এবং গাছ কেটে নেওয়ারও চেষ্টা চালানো হয়।
এইসব অভিযোগের জবাবে বিল্লাল হোসেন বাংলাভিশনকে বলেন, “শিমুল চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছবি ছড়িয়ে আমাকে দোষী বানানোর চেষ্টা চলছে। এই ছবি ৬ মাস আগের।” তিনি আরও বলেন, “বিএনপি নেতা কায়কোবাদ ভাবেন আসিফ নির্বাচন করবে, তাই ষড়যন্ত্র হচ্ছে।”
তবে আসিফ মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের বহুবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একের পর এক ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে— কীভাবে একজন স্কুল শিক্ষক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ছত্রচ্ছায়ায় এত সহিংসতা চলতে পারে? মামলা নেয় না থানা, আদালত খারিজ করে, পুলিশ থাকে নীরব। ফলে আসিফ মাহমুদের বাবার দাপট আজ সাধারণ মানুষই নিরাপত্তাহীন।