

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবার ক্ষমতার দাম্ভিকতা মুরাদনগরের রাজনৈতিক পরিবেশকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। আকবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসেন, যিনি সরকারদলীয় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পিতা, সম্প্রতি বাংলা ভিশনের একটি প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎদাতাদের হুমকি দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন।
লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদের ফেসবুক পোস্টে বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়:
“আমরা কিন্তু ধরব, এই দেখতাছি, যে বা যাহারা (অভিযোগকারী) ইহার সাথে জড়িত সবগুলোরে ধরব। আপনারা কোথায় থেকে এটা পাইছেন, কি পাইছেন, কি কারণে বলছেন প্রমাণ দিয়ে যান, আর প্রমাণ না দিতে পারলে কোন জায়গায় যে নেব আমরা!!”
আমরা কিন্তু ধরব, এই দেখতাছি, যে বা যাহারা (অভিযোগকারী) ইহার সাথে জড়িত সবগুলোরে ধরব। আপনারা কোথায় থেকে এটা পাইছেন, কি…
Posted by Nadim Mahmud on Tuesday, July 29, 2025
এই বক্তব্যে ‘আমরা’ শব্দটি যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা এক প্রকার ক্ষমতার প্রকাশ—যার মাধ্যমে তিনি সাক্ষাৎকারদাতাদের ভয় দেখিয়েছেন, যা একজন শিক্ষকের পেশাগত আচরণের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একজন শিক্ষক হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় গণমাধ্যমকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক।

আকবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসেন, যিনি সরকারদলীয় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পিতা, সম্প্রতি বাংলা ভিশনের একটি প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎদাতাদের হুমকি দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন।
এক সময় বাবারা এমপি-মন্ত্রী হলে তাদের সন্তানেরা ক্ষমতার দাপট দেখাত। এখন সন্তানেরা উপদেষ্টা হলে বাবারাই সেই দাপট দেখাচ্ছেন। এটা যেন ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের নাম করে ক্ষমতার বংশানুক্রমিক অপব্যবহারের প্রতিচ্ছবি।
যদিও কারও পিতার অপরাধে সন্তানকে দায়ী করা উচিত নয়, তবে পিতা যদি সন্তানের প্রভাব খাটিয়ে অন্যদের হুমকি দেন, তাহলে সেটা আর ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না।
বাংলা ভিশনের প্রতিবেদনটি পেশাদার ছিল, তবে একটি অসংগতি চোখে পড়েছে। তারপরও সরকারের উচিত হবে, নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করে এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে পদ থেকে বিরত রাখা উচিত যাতে তিনি প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবার ক্ষমতার দাম্ভিকতা যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তাহলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক শুদ্ধাচার প্রশ্নের মুখে পড়বে। এখন দেখার বিষয়—সরকার সত্যিই কতটা নিরপেক্ষ তদন্ত করতে সক্ষম হয়।