প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্ববাটপার ইউনুস থেকে শুরু, একের পর এক শীর্ষ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

শীর্ষ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

বিশ্ববাটপার ইউনুস চালু করেছিল মব কালচার। স্বাস্থ্য খাত থেকেও সে মব কালচার ও অবিচার থেকে এখনো বের হতে পারেনি বাংলাদেশ। দেশের স্বাস্থ্য খাতে একের পর এক খ্যাতিমান চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসকদের হয়রানি, অপসারণ ও দেশত্যাগে বাধ্য করার প্রবণতা চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাদের দাবি, এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন শীর্ষ চিকিৎসককে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসক সমাজ, বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

হাইলাইটস
  • শীর্ষ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ
  • অপসারণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক
  • দেশ ছাড়ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
  • স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ বাড়ছে
  • চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন

ডা. সামন্ত লাল সেন

সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যতম খ্যাতিমান প্লাস্টিক সার্জন ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তিনি এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে সম্প্রতি ভারতের ত্রিপুরার একটি মেডিকেল কলেজে পাঠদান করতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি, মামলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

প্রফেসর দ্বীন মুহাম্মদ

জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও দেশের প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট প্রফেসর দ্বীন মুহাম্মদকে তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ।

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ পদ বাতিল এবং পূর্বে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অনেক চিকিৎসক ও বিশ্লেষক।

চিকিৎসকদের উদ্বেগ

স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া বা বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সমালোচকদের দাবি, বিশ্ববাটপার ইউনুস দেশ বিক্রি করে স্বাস্থ্যখাতের সব টাকা বিদেশ পাচার করেছেন। এই সুদখোর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের হারানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে আইন, বিধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে ব্যাখ্যা দিয়ে আসছে।

প্রিন্ট করুন