শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

ভারতে পাঠদানের ভিডিও ভাইরাল

বিশ্ববাটপার ইউনুসের রোষানলের শিকার, ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজে পাঠদান করিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম
ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ

ভিডিও থেকে নেওয়া দৃশ্য: ভারতের ত্রিপুরার একটি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন কুমিল্লা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। ছবি : আজকের কথা

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতে চিকিৎসা শিক্ষা দিচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত

বাংলাদেশের বিশ্ববাটপার ইউনুসের দুঃসাসনের হাত থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়ে ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজে পাঠদান করিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, এরকম একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি এখন সবার মুখে মুখে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, প্রখ্যাত চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে তাকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের একটি স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে দেখা যায়।

🔹 হাইলাইটস

  • ত্রিপুরার একটি মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিতে দেখা গেছে ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা
  • ভিডিওটি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের বলে দাবি
  • স্মার্ট শ্রেণিকক্ষে চিকিৎসাবিষয়ক পাঠদান করতে দেখা যায় তাকে
  • ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্ববাটপার খ্যত সুদখোর ইউনুসের বাংলাদেশ ধ্বংসকারী কথিত মেটিকুলাস ডিজাইনে আওয়ামী লীগ সরকারকে জোরপূর্বক হটিয়ে দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দলটির বহু নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন। একই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সুদখোর মুহাম্মদ ইউনূস–এর সময় দেশে সহিংসতা, মব হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে পুড়িয়ে দেয়া ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে এবং এসব ঘটনার জন্য সমালোচকরা তার প্রশাসনকে দায়ী করছেন। তবে এসব অভিযোগের প্রমানিত নয় এমন সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাইরাল ভিডিওটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের। সেখানে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বিষয়ে, ধারণা করা হচ্ছে নাক-কান-গলা (ইএনটি) বা টনসিল-সংক্রান্ত পাঠদান করছিলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি আধুনিক স্মার্ট শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল ডিসপ্লের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন। ডিজিটাল বোর্ডে চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও চিত্র উপস্থাপন করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে তার বক্তব্য শুনতে দেখা যায়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের বহু মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতার মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। এ সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক গায়েবী মামলা দায়ের হওয়ার খবরও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। দীর্ঘদিন তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও, সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশের পর তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ। তিনি তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়া এবং দলটির অনেক নেতা-কর্মী কারাবন্দী, আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন—এমন প্রেক্ষাপটে ভারতের একটি মেডিকেল কলেজে ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের পাঠদান করার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

শীর্ষ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

বিশ্ববাটপার ইউনুস থেকে শুরু, একের পর এক শীর্ষ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪৯ এএম
বিশ্ববাটপার ইউনুস থেকে শুরু, একের পর এক শীর্ষ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

বিশ্ববাটপার ইউনুস চালু করেছিল মব কালচার। স্বাস্থ্য খাত থেকেও সে মব কালচার ও অবিচার থেকে এখনো বের হতে পারেনি বাংলাদেশ। দেশের স্বাস্থ্য খাতে একের পর এক খ্যাতিমান চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসকদের হয়রানি, অপসারণ ও দেশত্যাগে বাধ্য করার প্রবণতা চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাদের দাবি, এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন শীর্ষ চিকিৎসককে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসক সমাজ, বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

হাইলাইটস
  • শীর্ষ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ
  • অপসারণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক
  • দেশ ছাড়ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
  • স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ বাড়ছে
  • চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন

ডা. সামন্ত লাল সেন

সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যতম খ্যাতিমান প্লাস্টিক সার্জন ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তিনি এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে সম্প্রতি ভারতের ত্রিপুরার একটি মেডিকেল কলেজে পাঠদান করতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি, মামলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

প্রফেসর দ্বীন মুহাম্মদ

জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও দেশের প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট প্রফেসর দ্বীন মুহাম্মদকে তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ।

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ পদ বাতিল এবং পূর্বে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অনেক চিকিৎসক ও বিশ্লেষক।

চিকিৎসকদের উদ্বেগ

স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া বা বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সমালোচকদের দাবি, বিশ্ববাটপার ইউনুস দেশ বিক্রি করে স্বাস্থ্যখাতের সব টাকা বিদেশ পাচার করেছেন। এই সুদখোর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের হারানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে আইন, বিধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে ব্যাখ্যা দিয়ে আসছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

রহস্য উদ্ঘাটনে চলছে তদন্ত

রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যাকাণ্ড: একমাত্র জীবিত ছেলের মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যাকাণ্ড: একমাত্র জীবিত ছেলের মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি

ময়নাতদন্তে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের প্রমাণ, ধর্ষণের আলামত মেলেনি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে হত্যাকাণ্ড এর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাত (১৮) বাদী হয়ে রায়পুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

🚨 হাইলাইটস

  • একমাত্র জীবিত ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
  • ময়নাতদন্তে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে
  • প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে
  • সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় তদন্ত জটিল হয়েছে
  • হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে

এদিকে শুক্রবার বিকেলে রায়পুর শহরের ধানহাটা সড়কে নিহত চারজনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে মরদেহগুলো তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের দাফন করা হবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে চারটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল জানান, নিহতদের হাত, মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত শাহিনুর আক্তারের প্রয়াত স্বামী কামাল হোসেনের ভাই, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক জামাল হোসেন মরদেহ গ্রহণ করেন।

জামাল হোসেন বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে তার ভাই কামাল হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর শাহিনুর আক্তার চার সন্তানকে নিয়ে রায়পুর শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সন্তানরা সবাই মেধাবী ছিল। তিন মেয়ে লেখাপড়া করত এবং ছেলে জুনাইদ লেখাপড়ার পাশাপাশি গত ছয় মাস ধরে চাকরি করছিল। তিনি বলেন, ভাবি ও ভাতিজা-ভাতিজিরা মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। কী কারণে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তাদের জানা নেই।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর শহরের ধানহাটা সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুর আক্তার (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২০), মেঝো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৬) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তারকে (৯) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দিলে সেও মারা যায়। পরিবারের দাবি, অন্তর তাদের পূর্বপরিচিত ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। সন্দেহভাজন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে তদন্ত আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাতের ধারণা, ঘটনাটি টাকা-পয়সা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেও ঘটতে পারে। তিনি জানান, বাড়িওয়ালা অনুপস্থিত থাকলে ভাড়াটিয়ারা তার মায়ের কাছেই ভাড়া জমা দিতেন। পরে বাড়িওয়ালা এসে তা নিয়ে যেতেন। এছাড়া পুরো ভবনের দেখভালের দায়িত্বও তার মায়ের ওপর ছিল। তিনি আরও বলেন, বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সন্দেহভাজন অন্তরকে আর সেখানে আসতে দেখেননি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।”

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

তীব্র গরমে মানবিক উদ্যোগ

তীব্র গরমে পথচারীদের পাশে সাপাহার মুক্ত স্কাউট, শরবত বিতরণে প্রশংসা

নাজমুল হক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৬:৫০ পিএম
তীব্র গরমে পথচারীদের পাশে সাপাহার মুক্ত স্কাউট, শরবত বিতরণে প্রশংসা

যানজট নিরসনের পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগ

তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত পথচারীদের স্বস্তি দিতে নওগাঁর সাপাহারে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে মুক্ত স্কাউট। যানজট নিরসনের পাশাপাশি সংগঠনটির উদ্যোগে পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ঠান্ডা শরবত বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরের জিরোপয়েন্ট এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় আম ব্যবসায়ী, রিকশাচালক, পথচারী, শ্রমজীবী মানুষসহ সাধারণ মানুষের হাতে শরবত তুলে দেন মুক্ত স্কাউটের সদস্যরা।

🌿 হাইলাইটস

  • তীব্র গরমে পথচারীদের মাঝে ঠান্ডা শরবত বিতরণ
  • সাপাহার মুক্ত স্কাউটের মানবিক উদ্যোগ
  • যানজট নিরসনের কাজও করেন সদস্যরা
  • প্রধান অতিথি ছিলেন সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু)
  • জনকল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপাহার মুক্ত স্কাউটের কমিশনার ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু)। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্ত স্কাউটের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান (কল্লোল), সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, পরিচালক সাহাবুদ্দীন এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তীব্র গরমে পথচারীদের মাঝে শরবত বিতরণের মতো এমন মানবিক আয়োজন সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়।

কর্মসূচিতে মুক্ত স্কাউটের নেতাকর্মী, সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x