সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের নয়া চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ এএম
কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের নয়া চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ

কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের নয়া চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • সরকার কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে আশিকুর রহমান মাহমুদকে নিয়োগ দিয়েছে।
  • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
  • স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা: আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়।

সরকার কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে আশিকুর রহমান মাহমুদকে নিয়োগ দিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা: আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, “পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬”-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আশিকুর রহমান মাহমুদ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মুন্সেফ বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম হাজী আব্দুর রহিম মাহমুদ এবং মায়ের নাম জাহানারা মাহমুদ। নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ২১টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আশিকুর রহমান মাহমুদ কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কুমিল্লার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মামাতো ভাই এবং মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া।

এক অভিনন্দন বার্তায় সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া বলেন, “আশিকুর রহমান মাহমুদের মতো একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিত্ব কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর এই নেতৃত্বের মাধ্যমে কুমিল্লার সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হবে এবং নাগরিক সেবা পৌঁছাবে জনগণের দোড়গোড়ায়। আমি তাঁর জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করছি

আশিকুর রহমান মাহমুদের মতো একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিত্ব কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া
সভাপতি- জাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপি, মুরাদনগর, কুমিল্লা।
সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

ধর্ম, রাজনীতি ও নির্বাসনে বিস্তর ফারাক

‘শেখ হাসিনা আর আমাকে এক পাল্লায় তুলবেন না’: তসলিমা নাসরিন

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম
‘শেখ হাসিনা আর আমাকে এক পাল্লায় তুলবেন না’: তসলিমা নাসরিন

শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের তুলনা টানার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা ও তাঁর মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাসনের কারণ, আইনি অবস্থান এবং আদর্শের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তসলিমা নাসরিন বলেন, অনেকে শেখ হাসিনা ও তাঁকে একই পাল্লায় তুলছেন এবং দুজনকেই মুসলমান ও রাজনৈতিক শরণার্থী হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাঁর ভাষ্য, এই দুই দাবিই সঠিক নয়।

তসলিমা নাসরিন নিজেকে ‘হার্ডকোর নাস্তিক’ উল্লেখ করে বলেন, তিনি কোনো ঈশ্বর, ধর্মগ্রন্থ বা ধর্মীয় বিধানে বিশ্বাস করেন না। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ধর্ম পালনকারী মুসলমান—এমন দাবি করেন তিনি।

নিজের দেশ থেকে দূরে থাকা ছাড়া শেখ হাসিনা ও আমার মধ্যে বড় কোনো মিল নেই; পরিচয়, আদর্শ ও নির্বাসনের বাস্তবতায় আমাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য।
তসলিমা নাসরিন
লেখিকা, ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া

নিজের ভারতে অবস্থান প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী নন। ভারত সরকার তাঁর থাকা-খাওয়া বা জীবনযাপনের ব্যয় বহন করে না। নিজের সব খরচ নিজেই বহন করেন এবং ভারত সরকার শুধু তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সুইডেনের নাগরিক এবং সেই পরিচয়েই ভারতে বসবাস করছেন।

তসলিমা নাসরিন আরও বলেন, ভারত কোনো বিদেশি শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী বা গবেষকের কাজ ও অবদান বিবেচনা করে তাঁকে বৈধভাবে দেশটিতে বসবাসের অনুমতি দিতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের অনুমতি রাজনৈতিক আশ্রয়ের সমতুল্য নয়।

আদর্শগত পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন তসলিমা

শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের সবচেয়ে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হিসেবে ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন তসলিমা নাসরিন।

তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। বিপরীতে তিনি সব শিশুর জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে। তাঁর মতে, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মকে দূরে রাখা উচিত।

তসলিমা নাসরিন শেখ হাসিনা সরকারের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পেরও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এসব মসজিদ একসময় শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা তিনি প্রকল্পের শুরুতেই প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতাশালী রাজনীতিক, আর তিনি ক্ষমতাহীন একজন লেখিকা। শেখ হাসিনার নির্বাসন দুই বছরের হলেও তাঁর নিজের নির্বাসন ৩২ বছরের বলে উল্লেখ করেন তসলিমা।

‘ফেরার দরজা বহুদিন ধরেই বন্ধ’

বাংলাদেশে নিজের ফেরার প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিন বলেন, বাংলাদেশের কোনো সরকারই তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করেনি এবং তাঁর বিদেশি পাসপোর্টেও ভিসা দেয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে ফেরার পথ তাঁর জন্য বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিকাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে ফেরার পথ বন্ধ রাখার দায় শেখ হাসিনা সরকারেরও রয়েছে।

তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরে তসলিমা বলেন, তিনি চান শেখ হাসিনা নিজ দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করুন এবং রাজনীতি করুন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিও তিনি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন বলে উল্লেখ করেন।

‘আমি শেখ হাসিনার দেশে ফেরা চাই’

তসলিমা নাসরিনের ভাষ্য, তিনি নিজের দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করতে চান এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই প্রত্যাশা রাখেন। তাঁর মতে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও তাঁর মতো একজন ধর্ম ও জিহাদবিরোধী লেখিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিরতে পারলেও তাঁকে জিহাদিদের হামলার ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। এ কারণে দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন কি না, সেটি নিয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাক্‌স্বাধীনতা নিয়েও শেখ হাসিনার সমালোচনা

তসলিমা নাসরিন নিজেকে বাক্‌স্বাধীনতার প্রবল সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনার সঙ্গে এ ক্ষেত্রেও তাঁর পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন।

তিনি দাবি করেন, ১৯৯৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত আত্মজীবনী ‘আমার মেয়েবেলা’ নিষিদ্ধ করেছিল এবং সেই নিষেধাজ্ঞা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।

সবশেষে তসলিমা নাসরিন বলেন, নিজের দেশ থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হওয়া ছাড়া তাঁর সঙ্গে শেখ হাসিনার বড় কোনো মিল নেই। শুধু এই একটি মিলের ভিত্তিতে দুজনের পরিচয়, অবস্থান, আদর্শ ও জীবনসংগ্রামকে একইভাবে দেখাকে তিনি ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানো হিসেবে উল্লেখ করেন।

কুমিল্লায় একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম, ২৪ ঘণ্টায় ৪ নবজাতকের মৃত্যু

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০১ পিএম
কুমিল্লায় একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম, ২৪ ঘণ্টায় ৪ নবজাতকের মৃত্যু

ছয় মাসে জন্ম, সংকটে জীবিত শিশুর চিকিৎসা

কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকার মক্কা হাসপাতালে একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক মা। জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে একটি নবজাতক জীবিত রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও সৌদি আরবপ্রবাসী তারেকুল ইসলাম তারেকের স্ত্রী কুমিল্লার মক্কা হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকদের মধ্যে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জন্মের পর থেকেই পাঁচ নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। চিকিৎসকেরা জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রায় ছয় মাসে জন্ম নেওয়ায় নবজাতকদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

একসঙ্গে পাঁচ নবজাতকের জন্ম নিঃসন্দেহে আনন্দের খবর হলেও, চারজনের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জীবিত শিশুটির উন্নত চিকিৎসায় সহায়তার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সরকারের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
— পরিবারের পক্ষ থেকে

তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই জন্মের পর একে একে চার নবজাতকের মৃত্যু হয়। বর্তমানে জীবিত একমাত্র শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটির উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও তারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। নবজাতকটিকে বাঁচাতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্মের ঘটনা কুমিল্লায় বিরল হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পরিবারের একমাত্র আশা হয়ে বেঁচে থাকা নবজাতকটির সুস্থতার জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছে পরিবার।

১৪ পলিব্যাগে অর্ধশত টুকরা

ফরিদা হত্যায় ভাড়াটিয়া লাইলী আটক, মামলায় আসামি আরও ৩; মাথা মিললেও এখনো নিখোঁজ পা-হাত

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম
ফরিদা হত্যায় ভাড়াটিয়া লাইলী আটক, মামলায় আসামি আরও ৩; মাথা মিললেও এখনো নিখোঁজ পা-হাত

সিসি ক্যামেরা দেখে ডাস্টবিনে মিলল মাথা, হত্যায় ভাড়াটিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লার দেবীদ্বারে গৃহবধূ ও বাড়ির মালিক ফরিদা বেগমকে (৫৫) হত্যার পর মরদেহ অর্ধশতাধিক টুকরো করে ১৪টি পলিব্যাগে প্যাকেট করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দিনভর অভিযানে বাড়ির আশপাশের ময়লার ভাগাড়, ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত ঘর ও ড্রেন থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ডাস্টবিন/ড্রেন থেকে নিহতের মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর পা, হাত ও শরীরের আরও কিছু অংশ উদ্ধার করা যায়নি।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া (৭২) বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় নিহতের বাসার ভাড়াটিয়া ও ঘটনায় আটক লাইলী বেগম (৩৫) ছাড়াও আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী লাইলী বেগম, একই বাড়ির জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. আমির হোসেন (২৮), মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (৩৫) এবং মৃত লিলু মিয়ার ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (২৪)।

ঘটনার সময় আমি চট্টগ্রামে ছিলাম। বাসা থেকে আমার স্ত্রী ও দুই মেয়ের প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারও নেই। একটি আলমারির চাবি পাওয়া যাচ্ছে না—আলমারি খুললে আরও কিছু খোয়া গেছে কি না জানা যাবে।
— মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া
মামলার বাদী ও নিহত ফরিদা বেগমের স্বামী

রোববার দুপুরে আটক লাইলী বেগমকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

১৪ পলিব্যাগে মরদেহের খণ্ডিত অংশ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দেবীদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসার পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান নিহতের বোনের ছেলে মামুন। পরে প্যাকেটগুলোতে খণ্ডিত মরদেহের অংশ দেখতে পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে একাধিক প্যাকেট উদ্ধার হলেও পরবর্তী সময়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ১৪টি পলিব্যাগে মরদেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়ার কথা জানায়।

রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশ বাড়ির আশপাশের ময়লার ভাগাড়, ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত ঘর ও ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় দুটি পলিব্যাগে থাকা মাংস ও নিহতের পরিধেয় কাপড় উদ্ধার করা হয়। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ড্রেন/ডাস্টবিন থেকে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।

তবে এখনো নিহতের পা, হাত ও শরীরের আরও কিছু অংশ পাওয়া যায়নি। এসব অংশ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চেহারা বিকৃত করতে চামড়া ছিলে ফেলার অভিযোগ

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যার পর চেহারা বিকৃত করার উদ্দেশ্যে প্রথমে মরদেহের শরীরের চামড়া ছিলে ফেলা হয়। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

ওসি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডাস্টবিন থেকে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পা ও শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

তিনি আরও বলেন, আটক লাইলী বেগমকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, কারা এতে জড়িত এবং কোথায় মরদেহের অন্যান্য অংশ ফেলা হয়েছে—এসব তথ্য বের করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

লাইলীর দাবি, হত্যায় সরাসরি জড়িত নন

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী বেগম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, অন্যরা ফরিদা বেগমকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ আলাদা করার পর তিনি সেগুলো টুকরো করে প্যাকেটজাত করতে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন।

লাইলীর দাবি অনুযায়ী, মরদেহের কিছু অংশ পলিথিনে মুড়িয়ে পুড়িয়ে বস্তাবন্দি করে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। বাকি অংশ কোথায় ফেলা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

তবে তাঁর এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ। হত্যার প্রকৃত কারণ, কার নির্দেশে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং ঘটনায় মোট কতজন জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে।

গহনা লুটের সন্দেহ স্বজনদের

নিহতের প্রতিবেশী আমেনা বেগমের দাবি, হত্যার আগের দিন শুক্রবার ফরিদা বেগম গহনা পরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, গহনা লুটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।

নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়াও জানান, ফরিদা ও তাঁর দুই মেয়ের প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর সেসব স্বর্ণালঙ্কার ঘরে পাওয়া যাচ্ছে না। একটি আলমারির চাবিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আলমারি খোলা সম্ভব হলে আরও কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা জানা যাবে বলে তিনি জানান।

তবে স্বর্ণালঙ্কার লুটের বিষয়টি এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সব কারণই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বামী ছিলেন চট্টগ্রামে

নিহত ফরিদা বেগম দেবীদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। প্রায় ৩০ বছর আগে তাঁরা ছোটআলমপুরের মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন।

মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বেগম বাড়িতে অনেকটা একাই থাকতেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে ইব্রাহীম খলিল ২০১০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

মামলার বাদী মফিজুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি চট্টগ্রামে কর্মস্থলে ছিলেন। গত ২২ জুলাই লাইলী বেগম তাঁর বাসার একটি কক্ষ মাসিক ১ হাজার ৬০০ টাকা ভাড়ায় নেন। বাসা মেরামত এবং স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ পালনের জন্য তিনি ৭ লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

মাত্র ১৮ দিন আগে ভাড়া নেন লাইলী

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের ট্রাক্টরচালক আবুল কালামের স্ত্রী লাইলী বেগম পারিবারিক কলহের কারণে গত ২২ জুলাই ফরিদা বেগমের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৮ দিন আগে তিনি ওই বাড়িতে ওঠেন। লাইলীর স্বামী আবুল কালাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ফরিদার বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে লাইলী বসবাস করলেও হত্যাকাণ্ডের আগে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ফরিদা

স্বজনেরা জানান, শনিবার সকাল থেকেই ফরিদা বেগমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ডায়াবেটিসের কারণে তিনি নিয়মিত সকালে হাঁটতে বের হতেন। ওইদিনও তাঁকে না পেয়ে স্বজনেরা প্রথমে ধারণা করেন, হয়তো কোথাও গেছেন। পরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়।

সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিংও করা হয়। স্বজনদের দাবি, থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনে মোড়ানো প্যাকেট দেখতে পান। সেখানেই খণ্ডিত মরদেহের সন্ধান মেলে।

ঘটনার পর লাইলীকে গণধোলাই

মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডে লাইলী বেগমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে আটক করে মারধর করে এবং পার্শ্ববর্তী বালুর মাঠে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাইলীকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়ার পর থানায় নেওয়া হয়।

এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লাইলীর বিরুদ্ধে পুরোনো হত্যা মামলার তথ্য

এদিকে লাইলী বেগমের বিরুদ্ধে একটি পুরোনো শিশু হত্যা মামলার তথ্যও সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বারে সাত বছর বয়সী শিশু ফাহিমা হত্যার ঘটনায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই মামলায় অভিযোগ ছিল, শিশুটি তার বাবা আমির হোসেন ও লাইলী বেগমকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিল। পরে শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে কাচিসাইর পুলের নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

ওই বছরের ১৪ নভেম্বর বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

তবে ওই পুরোনো মামলার সঙ্গে ফরিদা বেগম হত্যার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি।

মামলায় চারজন আসামি

শনিবার দিবাগত রাতে নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। মামলায় লাইলী বেগমসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন—আমির হোসেন (২৮), সোহেল (৩৫) ও রবিউল ইসলাম (২৪)। তাঁদের মধ্যে লাইলী ছাড়া অন্যরা এখনো পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পুলিশ লাইলী বেগম ছাড়া আর কাউকে আটক করতে পারেনি।

একাধিক দল মাঠে পুলিশের

দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, আসামিরা পলাতক থাকায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং মরদেহের বিভিন্ন অংশ কোথায় গোপন করা হয়েছে—এসব তথ্য সংগ্রহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আটক লাইলী বেগমকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করছে। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ চলছে।

নিহতের স্বজনেরা দ্রুত মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

×
CLOSE X
ENG