শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

১৪ পলিব্যাগে অর্ধশত টুকরা

ফরিদা হত্যায় ভাড়াটিয়া লাইলী আটক, মামলায় আসামি আরও ৩; মাথা মিললেও এখনো নিখোঁজ পা-হাত

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম
হত্যাকাণ্ডে আটক লাইলী বেগম (৩৫)

হত্যাকাণ্ডে আটক লাইলী বেগম (৩৫)। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • সিসি ক্যামেরা দেখে ডাস্টবিনে মিলল মাথা, হত্যায় ভাড়াটিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুমিল্লার দেবীদ্বারে গৃহবধূ ও বাড়ির মালিক ফরিদা বেগমকে (৫৫) হত্যার পর মরদেহ অর্ধশতাধিক টুকরো করে ১৪টি পলিব্যাগে প্যাকেট করার অভিযোগ উঠেছে।
  • রোববার দিনভর অভিযানে বাড়ির আশপাশের ময়লার ভাগাড়, ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত ঘর ও ড্রেন থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
  • সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ডাস্টবিন/ড্রেন থেকে নিহতের মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়েছে।

সিসি ক্যামেরা দেখে ডাস্টবিনে মিলল মাথা, হত্যায় ভাড়াটিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লার দেবীদ্বারে গৃহবধূ ও বাড়ির মালিক ফরিদা বেগমকে (৫৫) হত্যার পর মরদেহ অর্ধশতাধিক টুকরো করে ১৪টি পলিব্যাগে প্যাকেট করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দিনভর অভিযানে বাড়ির আশপাশের ময়লার ভাগাড়, ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত ঘর ও ড্রেন থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ডাস্টবিন/ড্রেন থেকে নিহতের মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর পা, হাত ও শরীরের আরও কিছু অংশ উদ্ধার করা যায়নি।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া (৭২) বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় নিহতের বাসার ভাড়াটিয়া ও ঘটনায় আটক লাইলী বেগম (৩৫) ছাড়াও আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী লাইলী বেগম, একই বাড়ির জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. আমির হোসেন (২৮), মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (৩৫) এবং মৃত লিলু মিয়ার ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (২৪)।

দৈনিক আজকের কথা
ঘটনার সময় আমি চট্টগ্রামে ছিলাম। বাসা থেকে আমার স্ত্রী ও দুই মেয়ের প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারও নেই। একটি আলমারির চাবি পাওয়া যাচ্ছে না—আলমারি খুললে আরও কিছু খোয়া গেছে কি না জানা যাবে।
— — মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া
মামলার বাদী ও নিহত ফরিদা বেগমের স্বামী

রোববার দুপুরে আটক লাইলী বেগমকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

১৪ পলিব্যাগে মরদেহের খণ্ডিত অংশ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দেবীদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসার পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান নিহতের বোনের ছেলে মামুন। পরে প্যাকেটগুলোতে খণ্ডিত মরদেহের অংশ দেখতে পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে একাধিক প্যাকেট উদ্ধার হলেও পরবর্তী সময়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ১৪টি পলিব্যাগে মরদেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়ার কথা জানায়।

রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশ বাড়ির আশপাশের ময়লার ভাগাড়, ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত ঘর ও ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় দুটি পলিব্যাগে থাকা মাংস ও নিহতের পরিধেয় কাপড় উদ্ধার করা হয়। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ড্রেন/ডাস্টবিন থেকে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।

তবে এখনো নিহতের পা, হাত ও শরীরের আরও কিছু অংশ পাওয়া যায়নি। এসব অংশ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চেহারা বিকৃত করতে চামড়া ছিলে ফেলার অভিযোগ

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যার পর চেহারা বিকৃত করার উদ্দেশ্যে প্রথমে মরদেহের শরীরের চামড়া ছিলে ফেলা হয়। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

ওসি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডাস্টবিন থেকে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পা ও শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

তিনি আরও বলেন, আটক লাইলী বেগমকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, কারা এতে জড়িত এবং কোথায় মরদেহের অন্যান্য অংশ ফেলা হয়েছে—এসব তথ্য বের করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

লাইলীর দাবি, হত্যায় সরাসরি জড়িত নন

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী বেগম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, অন্যরা ফরিদা বেগমকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ আলাদা করার পর তিনি সেগুলো টুকরো করে প্যাকেটজাত করতে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন।

লাইলীর দাবি অনুযায়ী, মরদেহের কিছু অংশ পলিথিনে মুড়িয়ে পুড়িয়ে বস্তাবন্দি করে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। বাকি অংশ কোথায় ফেলা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

তবে তাঁর এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ। হত্যার প্রকৃত কারণ, কার নির্দেশে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং ঘটনায় মোট কতজন জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে।

গহনা লুটের সন্দেহ স্বজনদের

নিহতের প্রতিবেশী আমেনা বেগমের দাবি, হত্যার আগের দিন শুক্রবার ফরিদা বেগম গহনা পরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, গহনা লুটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।

নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়াও জানান, ফরিদা ও তাঁর দুই মেয়ের প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর সেসব স্বর্ণালঙ্কার ঘরে পাওয়া যাচ্ছে না। একটি আলমারির চাবিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আলমারি খোলা সম্ভব হলে আরও কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা জানা যাবে বলে তিনি জানান।

তবে স্বর্ণালঙ্কার লুটের বিষয়টি এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সব কারণই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বামী ছিলেন চট্টগ্রামে

নিহত ফরিদা বেগম দেবীদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। প্রায় ৩০ বছর আগে তাঁরা ছোটআলমপুরের মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন।

মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বেগম বাড়িতে অনেকটা একাই থাকতেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে ইব্রাহীম খলিল ২০১০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

মামলার বাদী মফিজুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি চট্টগ্রামে কর্মস্থলে ছিলেন। গত ২২ জুলাই লাইলী বেগম তাঁর বাসার একটি কক্ষ মাসিক ১ হাজার ৬০০ টাকা ভাড়ায় নেন। বাসা মেরামত এবং স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ পালনের জন্য তিনি ৭ লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

মাত্র ১৮ দিন আগে ভাড়া নেন লাইলী

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের ট্রাক্টরচালক আবুল কালামের স্ত্রী লাইলী বেগম পারিবারিক কলহের কারণে গত ২২ জুলাই ফরিদা বেগমের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৮ দিন আগে তিনি ওই বাড়িতে ওঠেন। লাইলীর স্বামী আবুল কালাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ফরিদার বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে লাইলী বসবাস করলেও হত্যাকাণ্ডের আগে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ফরিদা

স্বজনেরা জানান, শনিবার সকাল থেকেই ফরিদা বেগমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ডায়াবেটিসের কারণে তিনি নিয়মিত সকালে হাঁটতে বের হতেন। ওইদিনও তাঁকে না পেয়ে স্বজনেরা প্রথমে ধারণা করেন, হয়তো কোথাও গেছেন। পরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়।

সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিংও করা হয়। স্বজনদের দাবি, থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনে মোড়ানো প্যাকেট দেখতে পান। সেখানেই খণ্ডিত মরদেহের সন্ধান মেলে।

ঘটনার পর লাইলীকে গণধোলাই

মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডে লাইলী বেগমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে আটক করে মারধর করে এবং পার্শ্ববর্তী বালুর মাঠে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাইলীকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়ার পর থানায় নেওয়া হয়।

এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লাইলীর বিরুদ্ধে পুরোনো হত্যা মামলার তথ্য

এদিকে লাইলী বেগমের বিরুদ্ধে একটি পুরোনো শিশু হত্যা মামলার তথ্যও সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বারে সাত বছর বয়সী শিশু ফাহিমা হত্যার ঘটনায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই মামলায় অভিযোগ ছিল, শিশুটি তার বাবা আমির হোসেন ও লাইলী বেগমকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিল। পরে শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে কাচিসাইর পুলের নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

ওই বছরের ১৪ নভেম্বর বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

তবে ওই পুরোনো মামলার সঙ্গে ফরিদা বেগম হত্যার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি।

মামলায় চারজন আসামি

শনিবার দিবাগত রাতে নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। মামলায় লাইলী বেগমসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন—আমির হোসেন (২৮), সোহেল (৩৫) ও রবিউল ইসলাম (২৪)। তাঁদের মধ্যে লাইলী ছাড়া অন্যরা এখনো পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পুলিশ লাইলী বেগম ছাড়া আর কাউকে আটক করতে পারেনি।

একাধিক দল মাঠে পুলিশের

দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, আসামিরা পলাতক থাকায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং মরদেহের বিভিন্ন অংশ কোথায় গোপন করা হয়েছে—এসব তথ্য সংগ্রহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আটক লাইলী বেগমকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করছে। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ চলছে।

নিহতের স্বজনেরা দ্রুত মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দেবীদ্বারে নিজেরা করি ও ভূমিহীন সংগঠনের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩১ পিএম
দেবীদ্বারে নিজেরা করি ও ভূমিহীন সংগঠনের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ‘নিজেরা করি সংস্থা’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’-এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সংগঠন দুটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন করা হয়।

ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. ফজর আলী মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং ‘নিজেরা করি সংস্থা’র কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ‘নিজেরা করি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক খায়রুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার এবং সিপিবি কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুল ওয়াদুদ।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, কবি হান্নান মুন্সী, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাছের মেম্বার, ভূমিহীন সংগঠনের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক আবু মিয়া এবং ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগমসহ অনেকে।

আলোচনা সভার আগে রসুলপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি। পরে আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় গণসংগীত ও জীবনমুখী একাধিক নাটক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরেশ কর বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ‘নিজেরা করি’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’ ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।

দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে জেলে নিহত

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ পিএম
দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে জেলে নিহত

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিষধর সাপের কামড়ে মোসলেম উদ্দিন খান (৫৮) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মোসলেম উদ্দিন খান উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষেরকুট গ্রামের বাহর খানের বাড়ির মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় খাল-বিলে ভেল জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খালে পাতা ভেল জাল তুলতে যান মোসলেম উদ্দিন। জালে ধরা মাছ হাত দিয়ে সংগ্রহ করার সময় অসাবধানতাবশত একটি বিষধর সাপকে মাছ মনে করে ধরে ফেলেন তিনি। এ সময় সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।

সাপের কামড়ের পর স্বজনরা দ্রুত তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪, দাউদকান্দিতে থানা ভাংচুর করে বেরিয়ে যায় ২৮ কিশোর

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪, দাউদকান্দিতে থানা ভাংচুর করে বেরিয়ে যায় ২৮ কিশোর

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানায় সাঁড়াশি অভিযান

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে এক রাতেই ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।

এর মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় আটক করা হয় ৫৯ কিশোরকে। তাদের মধ্যে ২৮ কিশোর থানার একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় থানার ভেতরে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

তবে থানায় ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ। তাঁর দাবি, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন থানায় এসে হট্টগোল করেন। বাইরে থেকেও উত্তেজনা ছড়ানো হয় এবং কেউ কেউ ঢিল ছোড়েন। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় ও কয়েকটি চেয়ার উল্টে পড়ে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের জড়িয়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে আটক ৬২৪ জনকে বিভিন্ন অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও পূর্বের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দৈনিক আজকের কথা
দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
— মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ
অফিসার ইনচার্জ (ওসি), দাউদকান্দি মডেল থানা, কুমিল্লা

কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।

দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।

×
ENG