নিখোঁজ মাথা-পা
দেবীদ্বারে গৃহবধূকে অর্ধশত টুকরো করে হত্যার অভিযোগ, ভাড়াটিয়া আটক

দেবীদ্বারে গৃহবধূকে অর্ধশত টুকরো করে হত্যার অভিযোগ, ভাড়াটিয়া আটক। ছবি : আজকের কথা
৯ প্যাকেটে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, মাথা-পা এখনো নিখোঁজ
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁর মরদেহ অর্ধশতাধিক টুকরো করে বস্তা ও পলিথিনে প্যাকেট করে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে লাইলী বেগম (৩৫) নামে এক ভাড়াটিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত ফরিদা বেগম কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকার মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির পেছন থেকে পলিথিনে মোড়ানো একাধিক প্যাকেটে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ফরিদা
স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই ফরিদা বেগমের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তাঁর সন্ধানে এলাকায় মাইকিং করা হয়।
স্বজনদের দাবি, ফরিদা বেগমকে খুঁজে না পেয়ে তাঁরা দেবীদ্বার থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিকেলের দিকে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে গিয়ে সন্দেহজনক অবস্থায় কয়েকটি বস্তা ও প্যাকেট দেখতে পান। কাছে গিয়ে তিনি খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিন ও বস্তায় মোড়ানো মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
৯ প্যাকেটে খণ্ডিত মরদেহ
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ওসি বলেন, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের পরিচয় ও সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে নিহত ফরিদা বেগমকে ঠিক কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, কী কারণে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহ কীভাবে এতগুলো অংশে বিভক্ত করা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাত্র আট দিন আগে বাসাটি ভাড়া নেন লাইলী
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইলী বেগমের স্বামী আবুল কালাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। ফরিদা বেগমের দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। তাঁরা বর্তমানে নিজ নিজ সংসারে থাকেন। তাঁদের এক ছেলে কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
এদিকে লাইলী বেগম প্রায় আট দিন আগে দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রাম থেকে এসে ফরিদা বেগমদের মালিকানাধীন ওই বাসায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন বলে জানা গেছে।
এত অল্প সময়ের মধ্যে একই বাড়ির বাসিন্দা ফরিদা বেগমের সঙ্গে তাঁর কী ধরনের সম্পর্ক বা বিরোধ তৈরি হয়েছিল, কিংবা হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—তা নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে লাইলী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতও তদন্তের আওতায় নেওয়া হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগীদের নাম
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় লাইলী বেগম ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী ছিলেন বলেও জানিয়েছেন।
ওসি মো. মনিরুজ্জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক লাইলী আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয় বা ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, লাইলীর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।
লাইলীর বিরুদ্ধে পুরোনো হত্যা মামলার তথ্য
এদিকে স্থানীয় সূত্রে লাইলী বেগমকে ঘিরে একটি পুরোনো হত্যা মামলার তথ্যও সামনে এসেছে।
সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বার এলাকায় একটি শিশু হত্যার ঘটনায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে লাইলীর ভাসুর আমির হোসেনের নামও জড়িত ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, আমির হোসেনের সাত বছর বয়সী মেয়ে ফাহিমা তাঁর বাবাকে লাইলী বেগমের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই শিশুকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উঠে আসে। এরপর শিশুটির মরদেহ বস্তাবন্দি করে কাচিসাইর পুলের নিচে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।
পরে একই বছরের ১৪ নভেম্বর বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই ঘটনায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ সময় পর তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। এরপর লাইলীর স্বামী আবুল কালাম আবার বিয়ে করেন বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
তবে ওই পুরোনো মামলার সঙ্গে শনিবারের ফরিদা বেগম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে পুলিশও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ
শনিবার বিকেলে ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ছোটআলমপুর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মরদেহের অংশগুলো উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা বলছেন, একজন গৃহবধূকে এভাবে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ। তাঁরা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষ করে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এসব অংশ কোথায় রাখা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পর কীভাবে মরদেহ সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, তা তদন্ত করে বের করার দাবি উঠেছে।
তদন্তে পুলিশের একাধিক দিক
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ, ভুক্তভোগীর সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পর্ক, পূর্ববিরোধ, আর্থিক বা ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা পলিথিন, বস্তা ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করা হবে। মরদেহের উদ্ধার হওয়া অংশগুলোর ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং হত্যার ধরন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
তদন্তকারীরা লাইলী বেগমের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখছেন। তাঁর উল্লেখ করা চার ব্যক্তির ভূমিকা কী ছিল, তাঁরা ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য

পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের টুকরো করা লাশের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পা ও মাথা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটককৃত লাইলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। যাচাই-বাছাই করে বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে।
এদিকে ফরিদা বেগমের পরিবার ও স্বজনেরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
চান্দিনার রেজাউল নিজেকে সচিবের ভাই পরিচয়ে ইউএনওর কাছে চাইলেন লাখ টাকা

ইউএনওর সন্দেহে বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক সচিবের বড় ভাই পরিচয়ে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীমের কাছে এক লাখ টাকা ধার চাওয়ার অভিযোগে মো. রেজাউল করিম (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আটক রেজাউল করিমের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এম এ খালেকের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন।
রামগড়ের ইউএনও কাজী শামীম জানান, ঘটনার দুই দিন আগে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে নিজেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক সচিবের বড় ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। মঙ্গলবার সকালে ওই ব্যক্তি ফোনে জানান, তিনি রামগড়ে অবস্থান করছেন। পরে তাকে ইউএনও কার্যালয়ে আসতে বলা হয়।

পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে জানতে পারি, তার দেওয়া পরিচয়ের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।
কার্যালয়ে আসার পর ওই ব্যক্তিকে নাশতা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওর বদলির প্রসঙ্গ তোলেন। এরপর নিজের আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে ইউএনওর কাছে এক লাখ টাকা ধার চান। ঢাকায় ফিরে সেই টাকা পরিশোধ করবেন বলেও জানান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সন্দেহ হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সচিবের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। তবে ওই ব্যক্তি সচিবের বড় ভাই কি না, সে বিষয়ে সচিব স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এরপর রেজাউল করিমের পরিচয় ও রামগড়ে তার অবস্থানের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। ইউএনও জানান, রামগড়ে অবস্থানের সময় রেজাউল করিম থানার ওসির পরিচয় ব্যবহার করে একটি আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন বলে জানা যায়। তবে রামগড় থানার ওসি তাকে চেনেন না বলে নিশ্চিত করেন।
পরে প্রতারণার অভিযোগে রেজাউল করিমকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, “প্রতারণার অভিযোগে রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ইউএনও কার্যালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: কলম থামলেও স্বপ্ন থামেনি

৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: ‘কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে’
ক্ষমতার পালাবদল দেখেছেন চোখের সামনে, তবু স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বপ্ন অধরা
সাংবাদিকতায় ৩৮ বছরের দীর্ঘ পথচলা। এই সময়ে দেখেছেন দেশের রাজনীতির বহু উত্থান-পতন, ক্ষমতার পালাবদল ও সময়ের নানা বাঁক। দেখেছেন এমন অনেক ঘটনা, যা হয়তো একদিন বইয়ের পাতায় ঠাঁই পেতে পারে। কিন্তু সবকিছু কি লেখা সম্ভব? সংবাদপত্রে সব বলা যায়? টেলিভিশনের পর্দায় সব তুলে ধরা যায়?
জন্মদিনে নিজের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের দিকে ফিরে এমনই কিছু কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন সাংবাদিক রাশেদ আহমেদ।
জন্মদিন উপলক্ষে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। এই পথের অভিজ্ঞতাগুলো বইয়ের মলাটে বন্দী করলে সেটি হয়তো বিশাল আকার ধারণ করবে। কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁর উপলব্ধি—সব কথা হয়তো লেখা সম্ভব নয়।

সাংবাদিকতায় এসেছিলাম অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস নিয়ে। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, কখনো মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু উদার, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা থামাইনি।
কারণ সাংবাদিকতায় এসেছিলেন তিনি “অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস” নিয়ে। সত্যকে তুলে ধরার প্রত্যয় ছিল, হাতে ছিল কলম, সামনে ছিল মাইক্রোফোন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সমাজ, দেশ, উগ্রবাদিতা ও পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার নানা বাস্তবতা তাঁর সামনে তৈরি করেছে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা।
রাশেদ আহমেদের নিজের ভাষায়, এসব বাস্তবতার কারণে তাঁকে কখনো থামতে হয়েছে, কখনো আপস করতে হয়েছে, কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে সাংবাদিকতার পেশাগত জীবনের এমন এক বাস্তবতা, যেখানে একজন সাংবাদিকের দেখা ও জানা সবকিছু সবসময় প্রকাশের সুযোগ থাকে না।
যে স্বপ্ন এখনো অধরা
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে রাশেদ আহমেদ যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তাঁর জন্মদিনের লেখায়।
তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বুদ্ধিভিত্তিক ও আধুনিক।
সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি হাতে নিয়েছেন কলম ও মাইক্রোফোন। সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দেখার এবং প্রশ্ন করার একটি মাধ্যম হিসেবেও নিয়েছেন।
কিন্তু ৩৮ বছর পরও সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি—এমন আক্ষেপই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।
তাঁর প্রশ্ন, এই স্বপ্ন কি এভাবেই অধরা থেকে যাবে? নাকি একদিন “ষড়ঋতুর আকাশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা” ফিরে আসবে?
উত্তরটি তিনি দেননি। বরং ভবিষ্যতের কাছে রেখে দিয়েছেন সেই প্রশ্ন।
সংবাদপত্র থেকে টেলিভিশন—দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
সাংবাদিক রাশেদ আহমেদের কর্মজীবন দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন—দুই মাধ্যমেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে রিপোর্টিং, সম্পাদনা ও সংবাদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি দৈনিক সংবাদের প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিস্তারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে।
তাঁর ৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে।
জন্মদিনে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা সংবাদ পরিবারের প্রতি
জন্মদিনের লেখার শেষাংশে অবশ্য কঠিন অভিজ্ঞতার বদলে কৃতজ্ঞতাই সামনে এনেছেন রাশেদ আহমেদ।
টেলিফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ফেসবুকের মাধ্যমে যারা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি জানিয়েছেন অশেষ কৃতজ্ঞতা।
তিনি লিখেছেন, পেয়েছেন “নিরন্তর ঝরনাধারার ভালোবাসা”।
কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংবাদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আপনজনদের প্রতিও।
৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে তাই রাশেদ আহমেদের বক্তব্যে একসঙ্গে ধরা পড়েছে তিনটি ছবি—দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা, না-বলা কথার ভার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার অপূর্ণ স্বপ্ন।
একজন সাংবাদিকের কাছে ৩৮ বছর শুধু সময়ের হিসাব নয়। এটি একটি দেশের পরিবর্তনকে কাছ থেকে দেখার সময়, অসংখ্য সংবাদ ও ঘটনার সাক্ষী থাকার সময় এবং কখনো কখনো নিজের দেখা সত্য প্রকাশ করতে না পারারও সময়।
রাশেদ আহমেদের জন্মদিনের পোস্টে সেই দীর্ঘ পথেরই যেন সংক্ষিপ্ত আত্মকথন—
কলম থামাতে হয়েছে, কথা আটকে রাখতে হয়েছে; কিন্তু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনো থামেনি।
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

মেধা বিকাশে বই, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
“ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করতে হবে। এতে মনন বিকাশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। এতে পরিবার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজও কলুষিত হচ্ছে। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মেধাবী ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

ভালোভাবে লেখাপড়া করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করবে। এতে মনন বিকাশের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে।
তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকার বিকল্প নেই।
কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জহিরুল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. কবির হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর, পূবালী ব্যাংক দেবীদ্বার শাখার এজিএম মো. ওয়ায়েস মাসুম চৌধুরী, ডা. সাদাত-ই-সাম এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।






























