মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের মানোন্নয়নে একাধিক সিদ্ধান্ত, গভর্নিং বডির গুরুত্বপূর্ণ সভা

নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গভর্নিং বডির সভায় অংশগ্রহণকারী সদস্যরা। ছবি : আজকের কথা
নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের মানোন্নয়নে শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মান বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে গভর্নিং বডির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কলেজের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মুসা এম. এ. কাইয়ুম।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপসচিব (মেডিকেল এডুকেশন) মিসেস রাহেলা রাহমাত উল্লাহ এবং চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে মেডিসিন, সার্জারি, বেসিক ও প্যারা-ক্লিনিক্যাল বিভাগের ডিন প্রফেসর ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আবু সাঈদ আরফিন খান সভায় অংশগ্রহণ করেন।
অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. আমিনুর রহমান লস্কর। গভর্নিং বডির সদস্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশিদ, ডা. ফয়েজ আহমেদ, ডা. মোস্তফা শাহজামান বাহার, অধ্যাপক ডা. কাজী আক্তার, অধ্যাপক ডা. শামীমুর রহমান, অধ্যাপক ডা. শামসুল আলম হেলালসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
সভায় কলেজের একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানসম্মত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মুসা এম. এ. কাইয়ুমের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শেষ হয়।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
বজ্রপাত ঠেকাতে কুমিল্লায় ৫ হাজার তালবীজ, মাঠে লাল সবুজের স্বেচ্ছাসেবীরা

শিক্ষার্থীদের হাতে তালবীজ, সড়কের পাশে রোপণ
বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কুমিল্লায় ৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে চলতি সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) লালমাই উপজেলার দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর হাতে তালবীজ তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় এসব বীজ রোপণ করবে।
এরপর পশ্চিম নোয়াগাঁও, দৌলতপুর ও পূর্ব নোয়াগাঁও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এতে সংগঠনের অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।

বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে শুধু সচেতনতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সারাদেশে তালবীজ রোপণ করা গেলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহা. তফাজ্জল হোসেন মজুমদার ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খালেদ সাইফুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মারুফ, কুমিল্লা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম রিফাত, অর্থ সম্পাদক আকিব হাসান, প্রচার সম্পাদক সালমান সাজিলসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির প্রথম দিনেই ১ হাজার তালবীজ সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ এবং বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করা হয়েছে। পুরো সেপ্টেম্বর মাসে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের পাশে পর্যায়ক্রমে মোট ৫ হাজার তালবীজ রোপণ করা হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বজ্রপাতের সময় করণীয়, নিরাপদে থাকার উপায় এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা হবে।
লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, ২০১১ সাল থেকে তারা বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো ও পরিবেশ রক্ষায় তালবীজ রোপণ করে আসছেন। গত ১৫ বছরে সারাদেশে অন্তত ৭০ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও ৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।
কাওসার আলম সোহেল আরও বলেন, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো মানুষের বড় একটি অংশ সমাজের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। তাই বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কতা এবং ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন।
তার মতে, সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তালবীজ রোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে ব্যাপকভাবে তালগাছের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। এর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হতে পারে।
অপ্রতিমের পর দেশজুড়ে আতঙ্ক
এবার দেবীদ্বারে নিখোঁজ স্কুলছাত্র, মিলছে না সন্ধান

স্কুলে যাওয়ার পথে উধাও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, দেবীদ্বারে উৎকণ্ঠা
সারাদিন নিখোঁজ, রাতে থানায় জিডি
কুমিল্লার দেবীদ্বারে স্কুলে যাওয়ার পথে শাহরিয়ার নাফিজ (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
নিখোঁজ শাহরিয়ার নাফিজ দেবীদ্বার উপজেলার সুবিল ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বুড়িপাড়া গ্রামের প্রবাসী মো. সুমন মিয়ার ছেলে। সে কুমিল্লার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার পর নাফিজ আর বাড়িতে ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজনের বাসাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছি, কিন্তু তার সন্ধান পাইনি। রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমার ভাগিনা খুবই মেধাবী ছাত্র। তার সন্ধান পেলে আমাদের জানাবেন।
নাফিজের মামা মো. নজরুল ইসলাম বাপ্পি জানান, সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় নাফিজ। এরপর সারাদিন পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
তিনি বলেন, পরে রাত ১২টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। নাফিজের সন্ধানে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাফিজ অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। তার সন্ধান পাওয়া গেলে ০১৬১১০০৬০৮০ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে নাফিজের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ব্যক্তি পোস্ট দিয়েছেন। কুমিল্লা আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া ও দেবীদ্বার উপজেলার ৪ নং সুবিল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক সোহেল নেয়ামতও নাফিজের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন।
নাফিজের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাকে দ্রুত খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সবার সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।
দেবীদ্বারে মা-ভাতিজি হত্যার দায় স্বীকার, ইমনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি

‘আমি সর্বনাশ করেছি, তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না’
কুমিল্লার দেবীদ্বারে মা ও ভাতিজিকে হত্যার ঘটনায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইমন মিয়া (২৯)। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে ইমন বলেন, ‘আমি সর্বনাশ করেছি, তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না।’
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ইমন মিয়াকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪-এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে হাজির করে। পরে আদালতে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে ইমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাতেই পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, পায়ের অসহ্য ব্যথার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় তাঁর মা পিয়ারা বেগম বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি দা দিয়ে মাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন। পরে তাঁর বড় ভাইয়ের ৮ মাস বয়সী মেয়ে ইসরাত জাহানকেও আছড়ে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে।

আদালতে ইমন হত্যার দায় স্বীকার করেছে। নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহত পিয়ারা বেগম (৬৫) ইমনের মা ও মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী। অপর নিহত ৮ মাস বয়সী ইসরাত জাহান ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে।
ঘটনার সময় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তাঁর মেয়েকে কোলে নিয়ে ছুটে এলে ইমন তাঁকেও কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় শিশুটির মাথায়ও আঘাত লাগে এবং সে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে। পরে শিশুটিকে তুলে এনে ইমন আছড়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪-৫ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমনের পায়ে আঘাত লাগে। ২-৩ বছর আগে তাঁর প্রথমবার অস্ত্রোপচার করা হলেও ব্যথা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত এক সপ্তাহে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে তাঁর পায়ে আরেকটি অস্ত্রোপচার করা হয়। রোববার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তিনি বাড়িতে ফেরেন। তবে পায়ের ব্যথা তখনো ছিল বলে স্বজন ও স্থানীয়রা জানান।
সোমবার সকালে পায়ের ব্যথার কারণে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাঁর মা বাধা দেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। একপর্যায়ে ইমন মায়ের হাতে দা দিয়ে তাঁকে হত্যা করতে বলেন। পিয়ারা বেগম ছেলেকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘বাবা, তুই সুস্থ হয়ে যাবি।’ এরপর ইমন তাঁর মায়ের হাত থেকে দা ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে।
ইমন মিয়া ওই গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা আহত রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় ইমনকে ঘরে আটকে রাখেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সিনিয়র এএসপি) মো. শাহীন এবং দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেন।
এ ঘটনায় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে ইমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে দেবীদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতে ইমন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



























