প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

১১ বছরেও মেলেনি স্বীকৃতি, দুমকির জলিশা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিদর্শনে শিক্ষা কর্মকর্তা

জলিশা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়
আজকের কথা ডেস্ক

পটুয়াখালীর দুমকিতে দীর্ঘ ১১ বছর পরও মেলেনি স্বীকৃতি আর সে অপেক্ষায় থাকা জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুনীল চন্দ্র দেবনাথ। সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবে সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে তিনি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সহায়ক যন্ত্রপাতি, শিক্ষাসামগ্রী ও খেলাধুলার উপকরণ ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

   প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সরকারি স্বীকৃতির অপেক্ষায় জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়।
  • সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
  • বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, নথিপত্র ও শিক্ষা কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
  • ৬৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন।
  • নিবন্ধন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের মাধ্যমে সরকারি স্বীকৃতির আশা সংশ্লিষ্টদের।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আতিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও কার্যক্রম পরিদর্শনের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এখনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন না পেলেও বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত ও সুশৃঙ্খলভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, নিবন্ধন না থাকায় বিদ্যালয়ের ৬৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তারা চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত বিদ্যালয়ের নিবন্ধন ও সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করা হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও নিবন্ধনের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর সরকার প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিদ্যালয়টি দ্রুত সরকারি স্বীকৃতি ও নিবন্ধন পাবে। এতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং দীর্ঘদিন বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক-কর্মচারীরাও প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবেন।

প্রিন্ট করুন