
ভারতের অনুসন্ধানী ও রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় পরিচিত মুখ ইন্দ্রানী সরকার (ঝিকি)। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতি, মানবাধিকার, সামাজিক বৈষম্য, নারী নির্যাতন, মানবপাচার এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে কাজ করে আসছেন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠ তুলে ধরার জন্য তিনি দেশ-বিদেশে পরিচিতি অর্জন করেছেন।
সাংবাদিকতা জীবনে ইন্দ্রানী সরকার বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কনসাল্টিং এডিটর, গবেষক এবং মিডিয়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সম্পাদকীয় দায়িত্বের পাশাপাশি জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতায় সক্রিয় রয়েছেন। তার প্রতিবেদনে দুর্নীতি, প্রশাসনিক জবাবদিহি, নারী অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘RIAAN.TV’
২০১৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম RIAAN.TV। এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক ও কর্পোরেট প্রভাবমুক্ত থেকে তথ্যনির্ভর ও জনস্বার্থভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করা। সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন, মানবাধিকার, নীতিনির্ধারণী বিষয় এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়মিত প্রকাশের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে।
প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্ভীক সাংবাদিকতা
সাংবাদিকতা করতে গিয়ে ইন্দ্রানী সরকার একাধিকবার সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, ভুয়া পরিচয়ে অপপ্রচার, ব্ল্যাকমেইল এবং ব্যক্তিগত হুমকির শিকার হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন International Federation of Journalists (IFJ)–এ প্রকাশিত তার অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় তিনি এসব ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই লেখায় তিনি নিজেকে একজন “Unapologetic Journalist” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নৈতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমাজসেবায়ও সক্রিয়
সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইন্দ্রানী সরকার সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত। তিনি Iskaan Foundation–এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের শিক্ষা, অধিকার এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। এছাড়া তিনি National Union of Journalists–India (NUJ-I)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
একাধিক জাতীয় সম্মাননা
সাংবাদিকতা, নারী ক্ষমতায়ন এবং সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালে তিনি Nari Shakti Award 2026 লাভ করেন। আয়োজকদের তথ্যমতে, সাংবাদিকতা, নেতৃত্ব, নারী ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
একই বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে Indian Federation of United Nations Associations (IFUNA) আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের নির্বাচিত নারী সাংবাদিকদের একজন হিসেবে তিনি সম্মাননা লাভ করেন।
নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে নানা প্রতিকূলতা, হুমকি ও চাপের মুখেও নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রেখেছেন ইন্দ্রানী সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি আবারও আলোচনায় এসেছেন। স্বাধীন সাংবাদিকতা, সত্য অনুসন্ধান এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তার কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

