
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের খালের ওপর নির্মিত কোটি টাকার সেতু যা প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয়েছে তা এখন স্থানীয়দের কাছে যেন ‘নামেই সেতু’। নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় সেতু ব্যবহার করতে পারছেন না এলাকাবাসী। বাধ্য হয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু এখন স্থানীয়দের ভোগান্তির প্রতীক। নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে বাঁশের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পারাপার করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে, ফলে কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল হয়ে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের সেতুটি দৃশ্যত সম্পূর্ণ। তবে দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করলেও সেটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না; এমনকি পায়ে হেঁটেও পার হতে হচ্ছে চরম সতর্কতার সঙ্গে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। স্কুল-কলেজগামী অনেক শিক্ষার্থীকে সাইকেল কাঁধে নিয়ে সাঁকো পার হতে দেখা গেছে। প্রতিদিন শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করেছে। প্রায় তিন মাস আগে মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, এই সেতু এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পটি কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ না করেই কীভাবে বিল পরিশোধ করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে বাড়াইকান্দি খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজ।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও এখনো সেই কাজ সম্পন্ন হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “কোটি টাকার সেতু হয়েছে, কিন্তু ওঠার রাস্তা নেই। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছি। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়।”
কলেজ শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, “বর্ষা এলেই ভয় আরও বেড়ে যায়। সাঁকো খুব পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হলে এই সেতুর কোনো সুফলই আমরা পাব না।”
এ বিষয়ে জানতে মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
একইভাবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানের সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অফিসে গিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “খালে পানি থাকায় সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ততটুকুর বিপরীতেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”
সম্পাদনা : মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

