সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউটার্নে টিনের বেড়া বিতর্ক

নগরকান্দায় সেতু উদ্বোধনের আগেই দখলের অভিযোগ

এহসানুল হক মিয়া, নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পিএম
নগরকান্দা নতুন সেতু

নগরকান্দার জুঙ্গুরদী এলাকায় নবনির্মিত সেতুর উত্তর প্রান্তে টিনের বেড়া ঘিরে দখল ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র জুঙ্গুরদী এলাকায় কুমার নদের ওপর নির্মিত নতুন সেতুটি এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি।
  • এরই মধ্যে সেতুর উত্তর পাশের গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন এলাকায় অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে।
  • স্থানীয়দের দাবি, টিনের বেড়া দিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র জায়গা ঘিরে ফেলায় সড়কের দৃশ্যমানতা কমে গেছে, ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র জুঙ্গুরদী এলাকায় কুমার নদের ওপর নির্মিত নতুন সেতুটি এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। এরই মধ্যে সেতুর উত্তর পাশের গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন এলাকায় অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, টিনের বেড়া দিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র জায়গা ঘিরে ফেলায় সড়কের দৃশ্যমানতা কমে গেছে, ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সেতু উদ্বোধনের আগেই বিতর্ক
নগরকান্দার জুঙ্গুরদী এলাকায় কুমার নদের ওপর নির্মিত নতুন সেতুর উত্তর পাশের ইউটার্নে টিনের বেড়া দিয়ে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এতে সড়কের দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মুখোমুখি সংঘর্ষসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি: নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত দখলমুক্ত করা হোক ইউটার্ন এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সেতুটি নগরকান্দার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে সেতুর উত্তর প্রান্তের বাঁক ও ইউটার্ন অংশকে নিরাপদ করতে শুরু থেকেই পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী।

পরে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন ও সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে সড়ক বিভাগ সেতুর জন্য ১৪টি ল্যাম্পপোস্ট বরাদ্দ দেয়। বর্তমানে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করা হবে।

কিন্তু উদ্বোধনের আগেই সেতুর উত্তর পাশের গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন এলাকায় টিনের বেড়া নির্মাণ করে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই বেড়ার কারণে চালকরা বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন স্পষ্টভাবে দেখতে পারছেন না। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটিই টিন দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। ফলে চালকদের সামনে কী আছে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুতগতির যানবাহনের ক্ষেত্রে এটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত পক্ষ। তাদের দাবি, সেতু নির্মাণের পর ওপর থেকে সরাসরি বাড়ির অভ্যন্তর দেখা যায়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে, এর সঙ্গে কোনো ধরনের অবৈধ দখলের সম্পর্ক নেই।

স্থানীয় ট্রাকচালক মুজিবুর রহমান বলেন, “সেতুর একপাশে খাড়া ঢাল, অন্যপাশে তীব্র বাঁক। এমনিতেই জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওপর টিনের বেড়া দেওয়ায় বিপরীত দিকের গাড়ি দেখা যায় না। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় চাপানো হবে চালকদের ওপর।”

নগরকান্দার বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান মোল্যা বলেন, “এটি শুধু একটি সেতু নয়, নগরকান্দাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। সেতুর সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত টিনের বেড়া অপসারণ করা প্রয়োজন।”

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল তালুকদার) বলেন, “সেতুটি অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে এবং এটি নগরকান্দার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছে। প্রশাসনের উচিত সেতুর সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া বলেন, “ঘটনাস্থলে তহসিলদার পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্তরা টিনের বেড়া সরিয়ে নেওয়ার জন্য একদিন সময় চেয়েছিল। কিন্তু এখনো তা সরানো হয়নি। তাই এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজোয়ানা আফরিন বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত নই। এসিল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সেতুর এই ঝুঁকিপূর্ণ অংশে যে কোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই উদ্বোধনের আগেই অবৈধ দখলমুক্ত করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা: জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ এএম
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা: জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

ন্যাম ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদ, পরে মামলায় গ্রেপ্তার

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।

তিনি জানান, শেরেবাংলা নগর থানায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
— মো. ইবনে মিজান
উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), তেজগাঁও বিভাগ, ডিএমপি

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে সিআইডির ফরেনসিক টিমকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার রাতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। পরে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ কী এবং এ ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অপ্রতিম হত্যা: দুই কিশোর যাচ্ছে সংশোধনাগারে, কারাগারে দুই আসামি

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
অপ্রতিম হত্যা: দুই কিশোর যাচ্ছে সংশোধনাগারে, কারাগারে দুই আসামি

চার আসামির তিনজনের স্বীকারোক্তি, মোবাইল ছিনিয়ে নিতেই হত্যার দাবি পুলিশের

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। অপর দুই আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকবে।

রোববার রাতে অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চার আসামিকে কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালত মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও কামরুল হাসানকে (১৬) সংশোধনাগারে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন। তাদের সোমবার গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

অপর দুই আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, সিয়াম এ মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে রয়েছে।

রোববার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, একটি হত্যা মামলায় পুলিশ চার আসামিকে কারাগারে হস্তান্তর করেছে। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে সোমবার গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

দৈনিক আজকের কথা
মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে।
— মো. আনিসুজ্জামান
পুলিশ সুপার, কুমিল্লা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ শনিবার দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে অপ্রতিম বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, “শুক্রবার জুমার নামাজের পর অপ্রতিম আমাদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বাইরে যেতে চায়। কিন্তু আর ফিরে আসেনি।”

রোববার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে জানান, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে রোববার রাতে সিয়াম ছাড়া অপর তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।

সালিশে রাস্তা নির্ধারণের পরও বন্ধ, জুড়ীতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

জালালুর রহমান, মৌলভী বাজার থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ এএম
সালিশে রাস্তা নির্ধারণের পরও বন্ধ, জুড়ীতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

সালিশে নির্ধারিত চলাচলের পথ আটকে গোয়ালঘর-বাথরুম, বিপাকে পরিবার

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামে বসতবাড়িতে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার এবং এর প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আব্দুল কাদিরের ছেলে কামরুল ইসলাম (২৮) জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত তিনজন কামরুল ইসলামের চাচা। তারা হলেন—দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল জলিল (৬০), আব্দুল মনাফ (৫৫) ও আব্দুর রহিম (৫০)।

কামরুল ইসলামের অভিযোগ, বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের চলাচলের জন্য একটি রাস্তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

তবে সালিশে রাস্তা নির্ধারণের পরও অভিযুক্তরা ওই চলাচলের পথের মধ্যে গোয়ালঘর, বাথরুম এবং বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেছেন কামরুল ইসলাম। এতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাস্তা পরিষ্কার করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার কথা বললে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে কামরুল ইসলামকে ভয়ভীতি দেখান এবং হুমকি দেন। এমনকি মামলা-মোকদ্দমা করলে সুযোগমতো তাঁকে প্রাণে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দৈনিক আজকের কথা
অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
— মো. রফিকুল ইসলাম
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জুড়ী থানা।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামে তাঁর বসতবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, চলাচলের রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা অনেকটা গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের কাছে প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি ও অভিযোগের কপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

×
ENG