ইউটার্নে টিনের বেড়া বিতর্ক
নগরকান্দায় সেতু উদ্বোধনের আগেই দখলের অভিযোগ

নগরকান্দার জুঙ্গুরদী এলাকায় নবনির্মিত সেতুর উত্তর প্রান্তে টিনের বেড়া ঘিরে দখল ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ। ছবি : আজকের কথা
ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র জুঙ্গুরদী এলাকায় কুমার নদের ওপর নির্মিত নতুন সেতুটি এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। এরই মধ্যে সেতুর উত্তর পাশের গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন এলাকায় অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, টিনের বেড়া দিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র জায়গা ঘিরে ফেলায় সড়কের দৃশ্যমানতা কমে গেছে, ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সেতুটি নগরকান্দার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে সেতুর উত্তর প্রান্তের বাঁক ও ইউটার্ন অংশকে নিরাপদ করতে শুরু থেকেই পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী।
পরে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন ও সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে সড়ক বিভাগ সেতুর জন্য ১৪টি ল্যাম্পপোস্ট বরাদ্দ দেয়। বর্তমানে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করা হবে।
কিন্তু উদ্বোধনের আগেই সেতুর উত্তর পাশের গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন এলাকায় টিনের বেড়া নির্মাণ করে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই বেড়ার কারণে চালকরা বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন স্পষ্টভাবে দেখতে পারছেন না। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটিই টিন দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। ফলে চালকদের সামনে কী আছে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুতগতির যানবাহনের ক্ষেত্রে এটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত পক্ষ। তাদের দাবি, সেতু নির্মাণের পর ওপর থেকে সরাসরি বাড়ির অভ্যন্তর দেখা যায়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে, এর সঙ্গে কোনো ধরনের অবৈধ দখলের সম্পর্ক নেই।
স্থানীয় ট্রাকচালক মুজিবুর রহমান বলেন, “সেতুর একপাশে খাড়া ঢাল, অন্যপাশে তীব্র বাঁক। এমনিতেই জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওপর টিনের বেড়া দেওয়ায় বিপরীত দিকের গাড়ি দেখা যায় না। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় চাপানো হবে চালকদের ওপর।”
নগরকান্দার বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান মোল্যা বলেন, “এটি শুধু একটি সেতু নয়, নগরকান্দাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। সেতুর সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত টিনের বেড়া অপসারণ করা প্রয়োজন।”
নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল তালুকদার) বলেন, “সেতুটি অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে এবং এটি নগরকান্দার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছে। প্রশাসনের উচিত সেতুর সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া বলেন, “ঘটনাস্থলে তহসিলদার পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্তরা টিনের বেড়া সরিয়ে নেওয়ার জন্য একদিন সময় চেয়েছিল। কিন্তু এখনো তা সরানো হয়নি। তাই এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজোয়ানা আফরিন বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত নই। এসিল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সেতুর এই ঝুঁকিপূর্ণ অংশে যে কোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই উদ্বোধনের আগেই অবৈধ দখলমুক্ত করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
লাকসামে সোহান হত্যা মামলা
বৃদ্ধের যাবজ্জীবন, ছেলের বেকসুর খালাস

বৃদ্ধের যাবজ্জীবন, ছেলের বেকসুর খালাস
কুমিল্লার লাকসামে যুবক সাইফুল ইসলাম সোহান হত্যা মামলায় মো. মিজানুর রহমান হাজারী (৬৫) নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে একই মামলার অপর আসামি ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত) মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির মৃত আলী হোসেনের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে সাইফুল ইসলাম সোহানের সঙ্গে মিজানুর রহমানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন সোহান। তাকে প্রথমে মুজাফফরগঞ্জ হেলথ কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১৮ মে রাতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমান হাজারী ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার। তিনি জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, উপস্থাপিত আলামত এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অন্যদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববরেণ্যদের কাতারে কুমিল্লার মানবিক চিকিৎসক ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ

‘এশিয়ান স্টেট’ জার্নালের প্রচ্ছদ নিবন্ধে স্থান পেলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সমাজসেবক
এশিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজসেবা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল ‘এশিয়ান স্টেট’-এর প্রচ্ছদ নিবন্ধে এবার স্থান পেয়েছেন কুমিল্লার প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, মানবিক চিকিৎসক ও সমাজহিতৈষী প্রফেসর ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ।
এর আগে একই জার্নালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ.পি.জে. আবদুল কালাম, ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, বিল গেটস, অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং হানিফ সংকেতসহ বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত সংখ্যায় ‘Heartbeat and Humanity’ শিরোনামে ৫০ পৃষ্ঠার একটি বিস্তৃত ফিচারে ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষের চিকিৎসাসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং সমাজকল্যাণে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান তুলে ধরা হয়েছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, হৃদরোগ চিকিৎসায় দক্ষতা, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ এবং রোগীদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ড. তৃপ্তীশ শুধু কুমিল্লা নয়, সারা দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
প্রতিবেদনটিতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশন, কুমিল্লা-র মাধ্যমে অসচ্ছল রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরামর্শ প্রদানের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া মানবিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন থেকে প্রাপ্ত ওয়ার্ল্ড হার্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের বিষয়টিও নিবন্ধে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্নালটিতে আরও বলা হয়, হৃদরোগ সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী কল্যাণ, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোটারি কার্যক্রম এবং সমাজসেবামূলক নানা উদ্যোগের মাধ্যমে ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততার কথাও নিবন্ধে স্থান পেয়েছে। বিশেষ করে তাঁর রচিত ‘Rotary International: From Individual to the World’ গ্রন্থকে রোটারির দর্শন ও বৈশ্বিক মানবিক চেতনার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ড. তৃপ্তীশ তাঁর কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন—জ্ঞান তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট স্কাউট ব্যক্তিত্ব মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের একটি জার্নালে ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষকে নিয়ে প্রচ্ছদ নিবন্ধ প্রকাশ কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি কুমিল্লার জন্যও গর্বের বিষয়। একজন চিকিৎসক কীভাবে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবসেবাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সেই অনন্য উদাহরণ তিনি স্থাপন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি কুমিল্লাকে এশিয়ার পরিসরে নতুনভাবে পরিচিত করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে।
গ্যাস সংকটে কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার যানজট

গ্যাস সরবরাহে সংকট, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং টানা বৃষ্টির কারণে কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দাউদকান্দির গৌরীপুর পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। যানজটের কারণে মহাসড়কে ধীরগতিতে যান চলাচল করতে থাকে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস জানান, ভোর থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে বৃষ্টি ও গ্যাস সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চালকরা গৌরীপুরের একটি চালু স্টেশনে ভিড় করেন। এতে মহাসড়কের একপাশজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস না থাকায় শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন গৌরীপুরের একটি স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। এসব যানবাহন মহাসড়কের একটি লেন দখল করে রাখায় কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
[quote author=”প্রেম দাস, দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি”]ভোর থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে বৃষ্টি ও গ্যাস সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চালকরা গৌরীপুরের একটি চালু স্টেশনে ভিড় করেন। এতে মহাসড়কের একপাশজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচল ব্যাহত হয়।[/quote]
আবুল মিয়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী লরিচালক এক লড়ি চালক বলেন, এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গৌরীপুর এলাকায় আটকে আছি। ভোরে চট্টগ্রাম থেকে মালামাল আনতে রওনা হয়েছিলাম। এখনো গৌরীপুর পার হতে পারিনি। এতে সময়ের পাশাপাশি জ্বালানিও অপচয় হচ্ছে।
যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা জানান, দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, রোগীবাহী যান এবং পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কুমিল্লার আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকার মাস্টার্স পাম্পের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই এ সংকট চলছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
ওসি প্রেম দাস জানান, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম সকাল থেকেই মহাসড়কে কাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে যান চলাচলও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

























