
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের পৈরাংকুল গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৪০টি পরিবার অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, মসজিদে নামাজ আদায়, জরুরি যাতায়াত এমনকি মরদেহ বহন করতেও এখন অনেক দূরের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের দক্ষিণপাড়া ফকির বাড়ি থেকে শেখ বাড়ি হয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পর্যন্ত সরকারি খাল ভরাট করে প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর আগে নির্মিত প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট প্রশস্ত এবং প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ একটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ব্যবহার করে আসছিলেন। সম্প্রতি শেখ বাড়ির কয়েকজন সদস্য রাস্তার এক পাশে বাঁশ, কাঁটা, ঝাঁটা ও ইটের বেড়া এবং অন্য পাশে টিনের ঘর নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
এতে ফকির বাড়ির প্রায় ৪০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে যেতে এখন তাদের অনেক দূর ঘুরে যেতে হচ্ছে। এছাড়া অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা জানাজা ও দাফনের সময় মরদেহ বহন করতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ ঘটনায় সড়কটি উন্মুক্ত করার দাবিতে সোমবার (১৩ জুলাই) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। এর আগে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছেও আবেদন করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক সালিশদার বলেন, “রাস্তা নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য একাধিকবার সামাজিক সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেখ বাড়ির লোকজন সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় কোনো সমাধান সম্ভব হয়নি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ২০০ বছর ধরে এলাকায় বসতি রয়েছে। আগে সেখানে একটি খাল ছিল, যেখানে নৌকা চলাচল করত। পরে খালটি ভরাট করে এটি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং কালিকাপুর-বড়শালঘর সড়কের সঙ্গে সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে ফকির বাড়ি, শেখ বাড়িসহ আশপাশের মানুষ এ পথ ব্যবহার করে আসছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শেখ বাড়ির সায়েদ আলী শেখ, বাদশা মিয়া ও শেখ মো. সাইফুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা সরকারি খাসজমি লিজ নিয়ে নিজস্ব অর্থে খাল ভরাট করেছেন। তাদের দাবি, বাড়ির ভেতর দিয়ে লোকজন চলাচল করলে নারীদের পর্দা ও পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। এছাড়া ভারী যানবাহন চলাচলে রাস্তা ও বাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। তাই তারা বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে ফকির বাড়ির ইমাম উদ্দিন ফকির ও প্রবাসী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় তিন বছর আগে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার সহযোগিতায় মসজিদ থেকে ফকির বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ফুট ইটের সলিং রাস্তার বরাদ্দ আনা হয়েছিল। সে সময় শেখ বাড়ির লোকজনও ওই রাস্তা ব্যবহার এবং সংস্কারে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজেদের মালিকানার দাবি তুলে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সহকারী (অবসরপ্রাপ্ত) শেখ মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “খাল ভরাট করে আমরা আমাদের বাড়ির সঙ্গে জায়গাটি যুক্ত করেছি এবং লিজের জন্য আবেদন করেছি। বাড়ির ভেতর দিয়ে চলাচল করলে পরিবারের নারীদের গোপনীয়তা বিঘ্নিত হয়। তাই রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। তারা চাইলে নিজেদের জমির ওপর দিয়ে বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করতে পারেন।”
এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

