
দুধ দিয়ে আ.লীগ ছাড়ার নাটকের পর চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তন, দেবীদ্বারে হামলা-ভাঙচুর
দুধ দিয়ে আ.লীগ ছাড়লেন, ফের চেয়ারম্যান হতেই দেবীদ্বারে তাণ্ডব। কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ইউপি সচিবকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সোমবার (২০ জুলাই) রাতে দেবীদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আবু হানিফ রানা।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
কামরুজ্জামান মাসুদ ফতেহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ কার্যক্রম) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আওয়ামী লীগ ছাড়ার ঘোষণা দেন। পরে জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে রুবেল হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় আসামি হন এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ, লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে সোমবার কামরুজ্জামান মাসুদের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে একদল ব্যক্তি ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু হানিফ রানার কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করেন। হামলার সময় চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর একাধিক মামলার আসামি হয়ে কামরুজ্জামান মাসুদ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। ওই সময় তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন মাসের ছুটিতে যান এবং ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন রুহুলকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন।
পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রায় এক মাস আগে আবারও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এরপর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করলে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পান এবং সোমবার দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন রুহুল বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ইউপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা সচিবের কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি সচিব আবু হানিফ রানা ও চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ইউপি সচিবের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

