মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেবীদ্বারে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ ঘিরে উত্তেজনা: ইউনিয়ন পরিষদে হামলা, ইউপি সচিবকে মারধর; থানায় মামলা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫০ পিএম
দেবীদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে হামলার ঘটনায় আহত ইউপি সচিব আবু হানিফ রানার দৃশ্য।

দেবীদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে ইউপি সচিব আবু হানিফ রানার ওপর হামলার ভিডিও থেকে নেওয়া স্থিরচিত্র।

পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের মধ্যে কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় ভিডিওসহ লিখিত অভিযোগ প্রশাসনের

কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আবু হানিফ রানাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তিনি আহত হন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছিল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন জড়ো হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ

এক নজরে:
চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে
ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশের হামলায়
ইউপি সচিব আবু হানিফ রানা আহত হন এবং
কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে
পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভিডিও ফুটেজসহ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে
এবং প্রশাসন জানিয়েছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় একদল ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ঢুকে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আবু হানিফ রানার ওপর হামলা চালায়। তাকে কিল-ঘুষি ও চেয়ার দিয়ে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা তার পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন এবং কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মাসুদ আওয়ামী লীগ ত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সময়ে রুবেল হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন মাসের ছুটিতে গিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সালাহউদ্দিন রুহুল (রুহুল আমিন)-এর কাছে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

পরবর্তীতে হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে প্রায় এক মাস আগে তিনি আবারও হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন। এরপর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করলে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পুনর্বহালের নির্দেশ আসে। সোমবার তার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা ছিল।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহউদ্দিন রুহুল (রুহুল আমিন) বলেন, রোববার (১৯ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফোনে জানানো হয় যে বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির কয়েকশ’ নেতাকর্মী ও সমর্থক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

তার ভাষ্য, একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি ইউপি সচিবের কক্ষে প্রবেশ করে সকালে তিনি কেন চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের বাড়িতে গিয়েছিলেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তারা সচিবকে মারধর করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত যুব অধিকার পরিষদ কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক মো. রাসেল হোসেন বেগ বলেন, জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় অভিযুক্ত একজন চেয়ারম্যানকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে বিক্ষোভ হয়েছে। ইউপি সচিবের ওপর হামলার ঘটনাও ওই উত্তেজনার মধ্যেই ঘটে। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি সেখানে উপস্থিত না থাকলে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারত।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি সচিব আবু হানিফ রানা ও চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ইউপি সচিবের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রও পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য উত্তেজনার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আগে থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। হামলার সময় পুলিশ কিছুটা দূরে অবস্থান করছিল। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

​দেবীদ্বারে বিএনপির রাজনীতিতে চরম তোলপাড়: তারিখহীন চিঠিতে বিলুপ্ত সব ইউনিয়ন-ওয়ার্ড কমিটি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
​দেবীদ্বারে বিএনপির রাজনীতিতে চরম তোলপাড়: তারিখহীন চিঠিতে বিলুপ্ত সব ইউনিয়ন-ওয়ার্ড কমিটি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ওই উপজেলা বিএনপির অধীনস্থ সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তির মূল প্যাডে কোনো প্রকার ‘তারিখ’ ও ‘স্মারক/সূত্র নম্বর’ উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চরম তোলপাড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

​সম্প্রতি দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন এবং সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

​বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলকে আরও গতিশীল ও পুনর্গঠন করার লক্ষ্যেই অধীনস্থ সকল ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটি একযোগে বিলুপ্ত করা হলো। বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেমের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

​তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিটিতে কোনো প্রকাশনার তারিখ উল্লেখ না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দাপ্তরিক চিঠিতে তারিখ না থাকা সাংগঠনিক নিয়মরীতির স্পষ্ট ব্যাঘাত ঘটায়। অন্যদিকে, কমিটি বিলুপ্তির এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীলদের সূত্রে জানানো হয়েছে, দলকে আরও সুসংগঠিত করতে এবং নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে শীঘ্রই নতুন প্রক্রিয়ায় এসব কমিটি পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জসিম উদ্দিন ও সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৩২ সাবেক ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৩২ সাবেক ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানায়। বর্তমানে তারা যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী ২৫ বছর চাকরিকাল পূর্ণ হওয়া কর্মকর্তাদের কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই অবসরে পাঠানোর ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সব অবসর-সুবিধা পাবেন।

বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা সবাই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের সদস্য। এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, সুনামগঞ্জের মো. আব্দুল আহাদ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, খাগড়াছড়ির মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস এবং চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটগ্রহণের আগের রাতে ব্যালটে সিল দেওয়ার অভিযোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এ কারণেই নির্বাচনটি বিভিন্ন মহলে ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

কুমিল্লায় ভুয়া কর পরিদর্শক সেজে নির্বাচন অফিসে, আটক ২ প্রতারক

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
কুমিল্লায় ভুয়া কর পরিদর্শক সেজে নির্বাচন অফিসে, আটক ২ প্রতারক

ভুয়া কর পরিদর্শক পরিচয় এবং জাল সনদ ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের চেষ্টা করতে গিয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকে দুই প্রতারককে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে নগরীর ছোটরা এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন, চান্দিনা উপজেলার বামতিয়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ এবং দেবীদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের শামছুল হক।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আবুল কালাম আজাদ নিজেকে কর পরিদর্শক পরিচয় দিয়ে অন্য এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য অফিসে আসেন। একই সময়ে শামছুল হক জাল সনদ ব্যবহার করে তার এক স্বজনের এনআইডি সংশোধনের চেষ্টা করেন। তাদের আচরণ ও উপস্থাপনায় সন্দেহ হলে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করলে তাদের আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নির্বাচন অফিস থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
CLOSE X