
সকল গুজব উড়িয়ে ভারতের নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (FCC) আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ডিজিটাল দুনিয়ায় এক নজিরবিহীন ঐতিহাসিক সুনামি ঘটেছে। মূলধারার গণমাধ্যমের প্রচারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই লাইভ বক্তব্য দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন কোটি কোটি মানুষ।
কলকাতার একটি অখ্যাত বা আঞ্চলিক ফেসবুক পেজের আংশিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ডেটা ব্যবহার করে ‘দর্শক কমে যাওয়া’র যে হাস্যকর প্রופাগান্ডা ও গুজব ছড়ানো হয়েছিল, তা ডিজিটাল অ্যানালিটিক্স ও ক্রসপোস্টিং ট্রাফিকের বাস্তব চিত্রে এক মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এই ডিজিটাল যুদ্ধ ও সত্য প্রকাশের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে এই ফেসবুক পোস্টে.
লাখো আইডি ও পেজের মহাসমুদ্র, কাঁপল ফেসবুক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলটির কয়েক লাখ সমর্থক, নেতাকর্মী এবং দলের প্রতি সহানুভূতিশীল অন্তত ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে এই ভার্চুয়াল ভাষণটি একযোগে সরাসরি রি-স্ট্রিম ও সম্প্রচার করা হয়। ডিজিটাল বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন এক লক্ষের বেশি উৎস থেকে দর্শকরা লাইভটি ভাগ হয়ে দেখছিলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই ট্রাফিক চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি বড় পেজে লাইভ চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ বা তারও বেশি ভিউয়ার যুক্ত হন। ফলে লক্ষাধিক পেজ ও আইডির এই সম্মিলিত ভিউ (Cumulative Views) হিসেব করলে মোট দর্শক সংখ্যা সহজেই কোটির ঘর ছাড়িয়ে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ে।
‘প্রথম কলকাতা’র সস্তা গুজব ও হাস্যকর ডিজিটাল অজ্ঞতা
এদিকে কলকাতার একটি আঞ্চলিক ফেসবুক পেজ Prothom Kolkata-র একটি আংশিক স্ক্রিনশট ব্যবহার করে এই নোংরা অপপ্রচার চালানো হয় যে, লাইভ শুরু হওয়ার প্রথম ১০ মিনিটে ৪৪ হাজার দর্শক কমে গেছে। ডিজিটাল বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষাধিক তরঙ্গের এই মহাসমুদ্রের বিশালতাকে আড়াল করে মাত্র একটি পেজের ৪৪ হাজারের সাময়িক ড্রপ নিয়ে মাতামাতি করা প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা ও হাস্যকর দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনো একক পেজে সাময়িক দর্শক কমার অর্থ এই নয় যে সামগ্রিক দর্শক কমে গেছে, বরং লক্ষাধিক মানুষ তখন অন্য সব সমান্তরাল ও প্রধান পেজগুলোতে যুক্ত হয়ে বক্তব্য শুনছিলেন।
কড়াকড়ি ভেঙেই বিকল্প মাধ্যমে কোটি মানুষের গর্জন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর শেখ হাসিনার প্রথম এই ভার্চুয়াল উপস্থিতি ও সরাসরি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ, কৌতূহলী সমাজ ও সমর্থকদের মাঝে তীব্র উদ্দীপনা ছিল। মূলধারার দেশীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারে কঠোর সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে কোটি কোটি মানুষ বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের লক্ষাধিক ব্যক্তিগত আইডি ও পেজের লাইভ স্ট্রিমিংকেই তাদের মূল ভরসা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। যার ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ইতিহাসে এটি অন্যতম একটি সর্বোচ্চ দর্শক সমাগমের ঘটনা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হলো।

