প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

‘তোরা পুলিশ মারছিস’—জুলাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুলিশি দৃঢ়তা

জুলাই সন্ত্রাস নামে অতীতে পুলিশ হত্যা, ফাঁড়ি পোড়ানো ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার দায় রয়েছে যে গোষ্ঠীর, এবার তারাই ফের পুলিশকে বিপদে ফেলতে মাঠে নেমেছে।
আজকের কথা ডেস্ক

জুলাই সন্ত্রাস নামে অতীতে পুলিশ হত্যা, ফাঁড়ি পোড়ানো ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার দায় রয়েছে যে গোষ্ঠীর, এবার তারাই ফের পুলিশকে বিপদে ফেলতে মাঠে নেমেছে। সিলেটে এক তথাকথিত ‘জুলাই যোদ্ধা’র সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা ও সাময়িক বরখাস্তের ঘটনা নতুন করে সেই ষড়যন্ত্রের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শনিবার ভোরে সিলেট নগরীর লামাবাজার এলাকায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জসিম ও ইসলাম উদ্দিন (৩০) নামের এক ‘জুলাই যোদ্ধা’-র মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। ইসলাম নিজেকে সিএনজি চালক ও বর্তমানে চায়ের দোকানি দাবি করে বলেন, ফজরের পর দোকান খুললে এএসআই জসিম এসে জিজ্ঞেস করেন—এত সকালে দোকান খোলা কেন। এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে এএসআই তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।

তবে ঘটনার পেছনে অন্য গল্পও আছে। ইসলাম উদ্দিন নিজেকে ‘গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করলেও, পুলিশ সূত্র বলছে তিনি অতীতে আন্দোলনের নামে সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, এএসআই জসিম বলেন, “তুই যোদ্ধা! তোরা তো পুলিশ মারছিস, ফাঁড়ি জ্বালাইছিস।” এরপর কিল-ঘুষির অভিযোগ ওঠে।

জুলাই সন্ত্রাস নামে অতীতে পুলিশ হত্যা, ফাঁড়ি পোড়ানো ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার দায় রয়েছে যে গোষ্ঠীর, এবার তারাই ফের পুলিশকে বিপদে ফেলতে মাঠে নেমেছে।
জুলাই সন্ত্রাস নামে অতীতে পুলিশ হত্যা, ফাঁড়ি পোড়ানো ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার দায় রয়েছে যে গোষ্ঠীর, এবার তারাই ফের পুলিশকে বিপদে ফেলতে মাঠে নেমেছে।

পরে ইসলাম উদ্দিনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বড় ধরণের শারীরিক ঝুঁকি নেই। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

ঘটনার পর এসএমপি (সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তিতে এএসআই জসিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন অতিরিক্ত উপকমিশনারকে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘটনা সাধারণ নয়—‘জুলাই সন্ত্রাস’ আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে। অতীতে আন্দোলনের নামে তারা ৩২০০-এর বেশি পুলিশ হত্যা করেছে, থানা-পুলিশ ফাঁড়ি জ্বালিয়েছে, অস্ত্র লুট করেছে। এখন তারাই ‘ভিকটিম’ সেজে বাহিনীকে বিতর্কিত করতে চায়।

জুলাই সন্ত্রাসের নামে যারা অতীতে সহিংসতা চালিয়েছে, তারা এখন অপপ্রচারে নেমেছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে—এমন বার্তা দিচ্ছে বাহিনী।

জুলাই সন্ত্রাস মূলত একটি আন্দোলনের ছদ্মবেশে সংঘটিত ভয়াবহ রাষ্ট্রবিরোধী সহিংসতা, যার পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। এই সন্ত্রাসে ৩২০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য নিহত হন, ফাঁড়ি জ্বালানো হয়, এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলে। আন্দোলনের নামে সংগঠিত এই সহিংসতা কেবল ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর ছিল সরাসরি আঘাত। এখনো সেই চক্র সক্রিয়, যারা নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে—আসলে তারা বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

প্রিন্ট করুন